হিটওয়েভকে জাতীয় দুর্যোগ হিসাবে ঘোষণার আহবান মেয়র আতিকুলের

হিটওয়েভ কে জাতীয় দুর্যোগ হিসাবে ঘোষণা করা এবং দুর্যোগ সংক্রান্ত স্থায়ী আদেশে তাপপ্রবাহ কে সংযুক্ত করার জোরদার আহবান জানিয়েছেন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম। মেয়র প্রত্যেকটা দুর্যোগ মোকাবেলায় ব্যক্তি পর্যায়ে সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন থাকার অনুরোধ জানান। গতকাল কর্পোরেশনের নগর ভবনের ৬ষ্ঠ তলায় সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর, জবমরড়হধষ ওহঃবমৎধঃবফ গঁষঃর যধুধৎফ ঊধৎষু ডধৎহরহম ঝুংঃবস (জওগঊঝ) এবং ঝধাব ঃযব ঈযরষফৎবহ-এর সহযোগিতায় হিটওয়েভ সতর্কতা পোর্টালের উদ্বোধনী কর্মশালায় মেয়র এ কথা বলেন।

আতিকুল ইসলাম বলেন, এই পোর্টালের মাধামে একদিকে যেমন ব্যবহারকারীকে সহজে পরিকল্পপিত পদক্ষেপ ও সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে, তেমনি অন্যদিকে নির্দিষ্ট খাত যেমন কৃষি, প্রানিসম্পদ, নগর পরিকল্পনা এবং প্রাসঙ্গিক খাতের ব্যবহারকারীদের চাহিদা সম্পর্কে অবগত করবে। বিশেষ করে নগর পরিকল্পনার ক্ষেত্রে তাপপ্রবাহের পূর্বাভাস ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য আগাম পদক্ষেপ নিতে খুবই সাহায্য করবে।

মেয়র আরো বলেন, ‘হিটওয়েভের সচেতনতা এবং প্রচারণা অংশ হিসাবে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে একটি বিশেষ ছাতা তৈরি করা হয়েছে রিকশাচালকদের জন্যে যা তারা চাইলেই রিকশার স্ট্যান্ডের সাথে এডজাস্ট করে ব্যবহার করেত পারবে। এই কার্যক্রমের অংশ হিসাবে ৩৫ হাজার রিকশা ও ভ্যানচালকদের মাঝে বিনামূল্যে ছাতা বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়াও হাফ লিটার পানির বোতল বিতরণ করা হয়েছে যাতে করে তারা চাইলেই সহজে সাথে বহন করতে পারে। আর্শট রক ফেলার ফাউন্ডেশনের নিয়োগকৃত চিফ হিট অফিসার বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় বলেন, ‘এই কালার কোডেড হিটওয়েভ অ্যালারট সিস্টেমের মাধ্যমে নগরের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে ও সেই সব জনগোষ্ঠীর জন্য আগাম প্রস্তুতি নিতে সহায়তা করবে। বিশেষ করে পরবর্তীতে সবার ঢাকা অ্যাপে এই হিটওয়েভ অ্যালারট সিস্টেমের সংজোজন খুব যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত। এছাড়াও তিনি উল্লেখ করেন, এই পোর্টালের বিশেষ সুবিধা যেটা তা হলো, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষের কাছে সরাসরি সবার ঢাকা অ্যাপের মাধ্যমে এলার্ট চলে যাবে এবং করণীয় সম্পর্কে জানানো হবে। এছাড়াও তিনি উল্লেখ করেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সহযোগিতায়, সিটি কর্পোরেশনের চিহ্নিত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বেশ কয়েকটি হিটওয়েভ প্রচারণা চালানো হয়েছে। এ সকল কার্যক্রম এর প্রেক্ষিতে এবং হিটওয়েভ জনিত ক্ষতি প্রতিরোধ করতে এই পূর্বাভাস পোর্টালের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মশালায় অংশ নেন বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরে পরিচালক আজিজুর রহমান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তররের পরিচালক নেতাই চন্দ্র দে সরকার, প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাগণ। রাইমসের কান্ট্রি প্রোগ্রাম লীড, রায়হানুল হক খান সহ বিভিন্ন এনজিও ও আইএনজিও থেকে বিভিন্ন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত সচিব) মীর খায়রুল আলম, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগে. জেনারেল মো মঈন উদ্দিন, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগে. ইমরুল কায়েস চৌধুরী।

Facebook Comments Box