রাজধানীর মোহাম্মদপুরের রামচন্দ্র খালের জায়গায় নির্মিত সাদিক অ্যাগ্রো ফার্ম এ উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। বৃহস্পতিবার ডিএনসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহে আলম ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মোতাকাব্বির আহমেদের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় সাদিক অ্যাগ্রো ফার্মসহ আশপাশের সব অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
অভিযানের সময় খাল ও সড়কের জায়গায় অবৈধভাবে দখল করে রাখা অস্থায়ী কিছু স্থাপনা সরিয়ে নিয়েছে সাদিক অ্যাগ্রোর লোকজন। এরআগে অভিযানের শুরুতে সাদিক অ্যাগ্রোর লোকজন অবস্থান নিয়ে উচ্ছেদে বাধা দেন। পরে পুলিশ সদস্যদের সাহায্যে তাদের সেখান থেকে সরিয়ে সব অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয় উত্তর সিটি। এ বিষয়ে মোতাকাব্বির আহমেদ জানান, ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নয়, এই অভিযান অবৈধ দখলদারের বিরুদ্ধে। ফলে উচ্ছেদ অভিযানে কারো বাধাই মানা হয়নি। এদিকে, সাদিক অ্যাগ্রোর পাশাপাশি অবৈধভাবে খাল ও সড়কের জায়গা দখল করে সেখানে রিকশার গ্যারেজ ও বস্তিঘরের মতো আরো একাধিক অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। সেগুলোও গুঁড়িয়ে দিয়েছে ডিএনসিসি। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার পর সাদিক অ্যাগ্রোর খামারে ভাঙার কাজ শুরু হলে একপর্যায়ে খামারের আবাসিক কয়েকজন কর্মচারী এসে সেখানে বাধা দেন। পরে পুলিশ তাদের সরিয়ে দিয়ে অভিযান পরিচালনা করেন। উচ্ছেদ অভিযানের সময় আলোচিত সেই ১৫ লাখ টাকার ছাগলসহ অন্যান্য গবাদিপশু সরিয়ে নেওয়া হয়।
সরেজমিন দেখা যায়, অভিযান শুরুর পরপরই খাল ভরাট করে নির্মিত ‘সাদিক অ্যাগ্রো ফার্মের লোকজন এসে বাধা প্রদান করেন। সেই বাধা উপেক্ষা করেই উচ্ছেদ অভিযান কার্যক্রম শেষ করে উত্তর সিটি। এরআগে বেলা সাড়ে ১১টার পর ওই স্থানে সিটি করপোরেশনের ভারি যন্ত্র আনা হয়। কিছুক্ষণ পর আসেন সিটি করপোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহে আলম, ঢাকা উত্তর সিটির অঞ্চল-৫এর নির্বাহী কর্মকর্তা মোতাকাব্বির আহমেদসহ অন্য কর্মকর্তারা। পরে সাদিক অ্যাগ্রো ফার্ম ও আশপাশের বস্তিঘরসহ সব অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয়া হয়।
অভিযানের বিষয়ে ডিএনসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোতাকাব্বীর আহমেদ বলেন, রামচন্দ্রপুর খালের তীর দখল করে ‘সাদিক অ্যাগ্রো ফার্মসহ নানা স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। সেই স্থাপনা থেকে দখল উচ্ছেদ করা হয়েছে। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়, সবাইকে আইন মেনে ব্যবসা করতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান নয়, আমাদের অভিযান অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে। রামচন্দ্রপুর খালের দুই ধারে যারা অবৈধ দখলদার ছিল তাদের বিরুদ্ধে এই অভিযান উল্লেখ করে তিনি জানান, খালের জমি পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সিটি কর্পোরেশন থেকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর আগে এখান থেকে উত্তর সিটির মেয়র ট্রাক স্ট্যান্ড সরিয়েছেন, বহুতল ভবন ভেঙেছেন। এটা আমাদের নিয়মিত অভিযানের অংশ। তিনি বলেন, সাদেক অ্যাগ্রোর মালিককে ঈদের আগেও আমরা নোটিশ দিয়েছি। অবৈধ স্থাপনা থাকলে সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। আমরা ঈদের আগে উচ্ছেদ অভিযান করিনি। কারণ এর ফলে বাজারে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হতো। আমরা এমনটা চাইনি বলে উচ্ছেদে যাইনি। সেই নোটিশের কোনো ব্যবস্থা নিইনি। জমির মালিকের অভিযোগ তিনি কোনো নোটিশ পাননি। তাহলে সাদিক অ্যাগ্রো ভাড়াটিয়া হিসেবে নোটিশ কীভাবে পায় জানতে চাইলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, খালের একটা নীতিমালা আছে। খালের প্রবাহীকার ৩০ ফিটের ভেতরে কোনো স্থাপনা থাকতে পারবে না, এই নীতিমালা রয়েছে। জমির মালিক কাগজ দেখিয়েছেন ৪ শতাংশের কিন্তু দখল করেছেন এক বিঘা। আর আমরা উচ্ছেদ করেছি অবৈধ স্থাপনা, জমির মালিককে নয়। খালের ভেতরের যে অংশ আছে, সেটা আমরা উচ্ছেদ করেছি।
















