চাঁদা না দেয়ায় নবনির্বাচিত ইউপি সদস্যকে হত্যা

যশোরের অভয়নগর উপজেলার সুন্দলী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত ইউপি সদস্য হত্যাকাণ্ডের ঘটনার হত্যার রহস্য ও ব্যাবহৃত অস্ত্র আলামতসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করে যশোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল।

গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন, খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার রুদাঘরা গ্রামের ইসহাক গোলদারের ছেলে ইকরামুল গোলদার (১৯), একই এলাকা দিঘলিয়া গ্রামের চুকনগর গ্রামের শিবপদ মন্ডলের ছেলে প্রশান্ত মন্ডল (৩৮), দিঘলিয়া গ্রামের বিষ্ণুপদ বিশ্বাসের ছেলে বিজয় কুমার মন্ডল ওরফে বিনোদ (৪২) যশোর অভয়নগর ভদ্দরী বিশ্বাস সুন্দলি পূর্বপাড়ার নিতাই বিশ্বাসের ছেলে প্রজিত বিশ্বাস ওরফে বুলেট (২৪), ও মণিরামপুর উপজেলার সুজাতপুর গ্রামের পরিতোষ বিশ্বাসের ছেলে পল্লব বিশ্বাস ওরফে সুদিত্ত (২৪)।

গত ১০ জানুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে সতটা থেকে আটটার মধ্যে অভয়নগর উপজেলার সুন্দলী ইউনিয়ের হরিশংকরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে মাঠে সুন্দলী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের নব-নির্বাচিত মেম্বার উত্তম সরকারকে অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীরা গুলি করে হত্যা করে ফেলে চলে যায়।

এই ঘটনায় এসআই শামীম হোসেন বাদী হয়ে অভয়নগর ও মনিরামপুর থানায় পৃথক ০২টি মামলা দায়ের করেন। মামলা হলে মামলাটি ক্লুলেস ও চাঞ্চল্যকর হওয়ায় জেলার পুলিশ সুপার জনাব প্রলয় কুমার জোয়ারদার দ্রুত সময়ে রহস্য উদঘাটনের জন্য মামলাটি জেলা গোয়েন্দা শাখাকে তদন্তের জন্য নির্দেশ প্রদান করেন।

অতপর জেলার পুলিশ সুপার মহোদয়ের দিক-নির্দেশনায় ডিবি’র একটি দল তদন্তে নেমে গত ১৫ জানুয়ারি রাত দেড়টা থেকে ১৬ জানুয়ারি ভোর পাঁচটা পর্যন্ত খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকা, যশোর জেলার অভয়নগর, মনিরামপুর ও কেশবপুর থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত পাঁচ জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় ডিবি পুলিশ।

এ সময় তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহারিত উদ্ধার করা হয় একটি ওয়ান শুর্টারগান, তিন রাউন্ড গুলি, দুটি গুলির খোসা, ছয় রাউন্ড কার্তুজ, একটি লোহার রড, একটি ককটেল, ১০ গ্রাম গান পাউডার, ৫০ গ্রাম তার কাটা, শপিং ব্যাগ একটি, পাঁচটি মোবাইল ফোন, দুটি মোটরসাইকেল ও একটি ইয়ারগান।

গ্রেফতারকৃত আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত ও পলাতক আসামিরা একটি সংঘবদ্ধ কথিত “নিউ বিপ্লবী কমিউনিষ্ট” পার্টির সক্রিয় সদস্য। তারা পরস্পর যোগসাজসে তাদের দলীয় ছদ্মনাম ব্যবহার করে দেশের দক্ষিন পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোর বিভিন্ন এলাকায় তাদের হেফাজতে থাকা অবৈধ অস্ত্রগুলি, বিস্ফোরকদ্রব্য ইত্যাদি ব্যবহার করে হত্যা, চাঁদাবাজি করে থাকে।

আসামিদের জিগ্যাসাবাদে আরো জানায়, তাদের মধ্যে অনেকেই ইতিপূর্বে বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশে আত্মসমর্পণ করে পুনরায় তারা সংঘবদ্ধ হয়ে নতুন সদস্য সংগ্রহ করে নতুন দল গঠন করে যশোর জেলার অভয়নগর, মনিরামপুর, কেশবপুরসহ আশপাশের জেলা সমুহে বিভিন্ন মাছের ঘের দখল, চাঁদাবাজি ও হত্যাকাণ্ডের মতো জঘন্য কাজ করে থাকে।

এরই ধারাবাহিকতায় গ্রেফতারকৃত আসামি ও পলাতক আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে গত ১০ জানুয়ারি সন্ধ্যা সাতটা হইতে রাত আটটার মধ্যে যেকোন সময় অভয়নগরের হরিশপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে মাঠে ৩নং সুন্দলী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের নব নির্বাচিত ইউপি সদস্য উত্তম সরকারের নিকট চাঁদা দাবি করে। চাঁদার টাকা না পেয়ে তাকে গুলি করে হত্যা করে। পরবর্তীতে হত্যাকারীরা মোবাইল ফোনে স্বীকৃতি দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বিভিন্ন ব্যক্তির নিকট চাঁদাদাবি করে বলে জানা যায়।

রোববার(১৬ জানুয়ারি) যশোর জেলা পুলিশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। পলাতক আাসামিদের গ্রেফতারের জন্য গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত আছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সবারবাংলা/এসআই

Facebook Comments Box