মতের সংঘর্ষ ভালো কিছু বয়ে আনে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে দেশ মহাবিপর্যয়ের দিকে এগিয়ে যাবে। দেশের জন্য যেটা কল্যাণকর হবে, সেটাই গ্রহণ করা হবে। বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলরুমে জুলাই ঘোষণা, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি প্রদান ও বাস্তবায়ন এবং পিআর পদ্ধতিতে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবিতে জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। দলের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি দেলাওয়ার হোসেনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হালিম।
এতে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল। এসময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, ঢাকা-১৩ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মোবারক হোসাইন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য, ঢাকা-১০ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী এডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর, ঢাকা-৮ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি, ঢাকা-৫ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মোহাম্মদ কামাল হোসেন, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি, ঢাকা-৯ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী কবির আহমেদ, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য, ঢাকা-৪ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন প্রমুখ।
ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় এসে বলেছিলেন, তারা সংস্কার করবেন। দেশের মানুষও সংস্কার চায়। কিন্তু এই সংস্কার প্রক্রিয়ায় একটি দল নোট অফ ডিসেন্ট। তার মানে কি আপনারা সংস্কার চান না? এই সংস্কারের ব্যাপারে এখন নানা ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। আমরা যেমন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে মেনে নিয়েছি, একইভাবে সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে।
ইতোমধ্যে রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, কিন্তু নির্বাচন কোন পদ্ধতিতে হবে, এই বিষয়টি ক্লিয়ার করতে হবে। আমরা পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন দেওয়ার কথা বলেছি। আমরা কখনো আওয়ামী জাহেলিয়াতে ফিরে যেতে চাই না। যারা এই ফেয়ার পিআর সিস্টেমের বিরোধিতা করছে, তারা সেই কেন্দ্র দখল, ভোট জালিয়াতির পরিকল্পনা করছে। সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে দেশ মহাবিপর্যয়ের দিকে এগিয়ে যাবে। তিনি আরো বলেন, যারা পিআর চাচ্ছেন, আসেন, আলোচনা হোক। আমরা নির্বাচন কমিশনকে বলবো, পিআর পদ্ধতিকে সামনে রেখে নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা করুন। তিনি বলেন, নির্বাচনের মাস নিয়ে আমাদের কোনো আপত্তি ছিল না। কিন্তু সংস্কার শেষ না করেই নির্বাচনের সময় ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা আপনার ঘোষিত তারিখেই নির্বাচন চাই। কিন্তু তার আগে নির্বাচনের যেসব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, সেসবের সমাধান করুন। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দলের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, জুলাই ঘোষণায় শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামীর সমাবেশে আওয়ামী লীগের পরিচালিত গণহত্যার ঘটনা তুলে ধরা হয়নি। চব্বিশের ০৭ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের ডামি নির্বাচন পরবর্তী ৬ মাস পেরিয়ে গেলে যেই দল নির্বাচনের দাবিতে একটা মিছিল পর্যন্ত করেনি, করতে পারেনি; সেই দল ছাত্র-জনতার বিপ্লব পরবর্তী সারাক্ষণ নির্বাচন নির্বাচন করছে। অথচ তারা গণহত্যার বিচার কিংবা রাষ্ট্রের সংস্কার এমনকি জুলাই যোদ্ধাদের অবদানের জন্য জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দিতেও দাবি জানাচ্ছি। উল্টো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতেছে। তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমান গণভোট দিয়ে নিজের ক্ষমতার বৈধতা দিতে পারলে, জনগণের দাবির যথার্থতা যাচাইয়ে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দিতে এবং পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনে জনমত সংগ্রহে গণভোটে তাদের আপত্তি কেন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ১৫ ফেব্রুয়ারীতে একতরফা নির্বাচন করার কথা জাতি ভুলে যায়নি। কার হাতে, কার দ্বারা, কখন, কীভাবে গণতন্ত্র ধ্বংস হয়েছে জাতি সেগুলো জানে। জামায়াতে ইসলামী ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ ব্যবস্থা উত্থাপিত করার পর যারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিরোধিতা করে বলেছিল, পাগল আর শিশু ব্যতীত কেউ নিরপেক্ষ নয়, তারা পরবর্তীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহালের দাবিতে অনেক আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে। এমনকি এখানো আইনি লড়াই চালাচ্ছে। আজকে যারা পিআর বুঝে না দাবি করছে, তারা অচিরেই পিআরের দাবিতে ঐক্যমত পোষণ করবে। কারণ তারাও বিশ্বাস করে, জামায়াতে ইসলামীর উত্থাপিত সকল ফর্মুলা দেশ ও জাতির স্বার্থে।
সভাপতির বক্তব্যে নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, জুলাই সনদের সাংবিধানিক ভিত্তি দিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের উপর যেই দায়িত্ব দিতে চায়, এটি হবে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। এটি হবে জুলাই যোদ্ধাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতার সামিল। যদি নির্বাচিত সরকারই জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দিতে হয়, তাহলে জাতি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের কোনো প্রয়োজন ছিল না। বড় দল দাবি করা দল গণভোটকে ভয় পায় কেন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, কারণ তারা জনগণের পক্ষে কথা বলে না, কাজ করে না। তাদের কথা ও কাজ শুধুমাত্র নিজেদের দলীয় স্বার্থে। কোনো ফ্যাসিস্ট শক্তিকে জনগণের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না হুশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, দেশের ৭১ শতাংশ জনগণ পিআর চায়। অথচ একটি দল কথায় কথায় বলে পিআর পদ্ধতি জনগণ বুঝে না। আসলে জনগণের সঙ্গে ঐ দলের কোন যোগাযোগ বা সম্পর্কই নাই। সংবিধান মোতাবেক নির্বাচন করার ঘোষণা দেওয়ায় তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনি কোন সংবিধানের ক্ষমতা বলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হয়েছেন। জাতির সামনে সেটিও স্পষ্ট করার আহ্বান জানিয়ে নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, কোনো একটি দলের প্রতিনিধিত্ব করা পরিহার করুন। নয়তো রকিব-হুদার কমিশনের পরিণতি আপনাদেরকেও ভোগ করতে হবে।
















