এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল বিগত ২০ বছরের তুলনায় সবচেয়ে নিম্ন হয়েছে। এবার পাশের হার ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। গত বছর এই হার ছিল ৭৭ দশমিক ৮৭ শতাংশ। এছাড়া জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কমেছে অর্ধেকের বেশি।
আজ বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ভয়াবহ এ ফল বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ ইংরেজি, আইসিটি ও উচ্চতর গণিতে শিক্ষার্থীরা ব্যাপক খারাপ করেছে। অধিকাংশ শিক্ষা বোর্ডে ইংরেজিতে পাসের হার ৬০ শতাংশের মধ্যে। শুধু ঢাকা ও বরিশাল বোর্ডের শিক্ষার্থীদের ইংরেজিতে পাসের হার ৭০ শতাংশের ঘরে।
প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, এবার পাসের হারে সবচেয়ে তলানিতে থাকা কুমিল্লা বোর্ডে ইংরেজিতে পাস করেছেন ৬৫ দশমিক ২৮ শতাংশ শিক্ষার্থী। এছাড়া রাজশাহী বোর্ডে ইংরেজিতে ৬৮ দশমিক ৮২ শতাংশ, যশোরে ৫৪ দশমিক ৮২ শতাংশ, চট্টগ্রামে ৬৩ দশমিক ৭৬ শতাংশ, সিলেটে ৬৪ দশমিক ৫৩ শতাংশ, দিনাজপুরে ৬৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ এবং ময়মনসিংহে ৬১ দশমিক ৯২ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছেন।
ইংরেজিতে সবচেয়ে ভালো করেছে বরিশাল বোর্ডের শিক্ষার্থীরা। এ বোর্ডে ইংরেজিতে পাসের হার ৭৫ দশমিক ১৬ শতাংশ। তারপরেই রয়েছে ঢাকা বোর্ড। এ বোর্ডে ইংরেজিতে ৭৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছেন।
এ বিষয়ে ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. খন্দোকার এহসানুল কবির বলেন, ইংরেজিতে বহুনির্বাচনি প্রশ্ন না থাকায় অনেকে বেশি নম্বর পাওয়া কঠিন হয়। এছাড়া স্বাভাবিকভাবেও বিগত বছরের তুলনায় ইংরেজিতে এবার যশোর বোর্ডে বেশি ফেল করেছে। সেখানে ইংরেজিতে ফেলের হার ৪৫ শতাংশের বেশি। এছাড়া অন্যান্য বোর্ডের সদস্যরাও খুব ভালো করতে পারেনি ফলে সার্বিক বিপর্যয় হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০২৫ সালের ফলাফল বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য একটি সতর্ক সংকেত। গত ১০ বছরের তুলনায় এবার ফলের নিম্নগতি শুধু সামগ্রিক শিক্ষার মান নয়, ইংরেজি দক্ষতার চিত্রকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। ইংরেজিতে দুর্বলতা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ভর্তি পরীক্ষাতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
২০২৫ সালের এইচএসসি ফলাফল প্রমাণ করেছে ইংরেজি বিষয়ে দুর্বলতাই দেশের উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। যতক্ষণ না ভাষা শেখার পদ্ধতি ও মূল্যায়ন কাঠামোতে সংস্কার আনা হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত ‘ইংরেজির ধাক্কা’ বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার জন্য এক ভয়াবহ বাস্তবতা হিসেবেই থেকে যাবে।
















