যুবদল নেতা কিবরিয়া হত্যা : সন্ত্রাসী ‘পাতা সোহেল’ গ্রেফতার

রাজধানীর পল্লবী এলাকায় যুবদলের সদস্যসচিব গোলাম কিবরিয়াকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় পল্লবীর শীর্ষ সন্ত্রাসী পাতা সোহেল ওরফে মনির হোসেনসহ দুজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৪। অন্যজন সোহেলের সহযোগী সুজন।

‎মঙ্গলবার রাতে সাভার ও টঙ্গী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন র‍্যাব-৪ এর মিডিয়া অফিসার মেজর মোহাম্মদ আবরার ফয়সাল সাদী।

‎তিনি বলেন, বুধবার বিকেল ৩টায় কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তাদের ব্যাপারে বিস্তারিত জানানো হবে।

‎হত্যাকাণ্ডের ওই ঘটনায় কিবরিয়ার স্ত্রী সাবিহা আক্তার দীনা বাদী হয়ে মঙ্গলবার পল্লবী থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় জনিসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্য আসামিরা হলেন- সোহেল ওরফে পাতা সোহেল ওরফে মনির হোসেন, সোহাগ ওরফে কালু, মাসুম ওরফে ভাগিনা মাসুম ও রোকন। এ ছাড়া মামলায় অজ্ঞাত সাত থেকে আটজনকেও জড়িত হিসেবে দেখানো হয়েছে। মামলাটি পল্লবী থানা পুলিশ তদন্ত করছে।

গত সোমবার (১৭ নভেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে সাতটায় হেলমেট ও মুখোশ পরা তিন অস্ত্রধারী মিরপুর ১২-এর বি ব্লকের ‘বিক্রমপুর হার্ডওয়্যার অ্যান্ড স্যানিটারি’ দোকানে পল্লবী থানা যুবদলের সদস্যসচিব কিবরিয়াকে গুলি করে হত্যা করে।

ঘটনার পর দুর্বৃত্তরা পালাতে গিয়ে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় ওঠে। দ্রুত না চালানোয় তারা চালক আরিফ হোসেনকে কোমরে গুলি করে। আহত চালককে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় কিবরিয়াকে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে স্থানীয়রা জনি ভূঁইয়া নামে একজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।

হত্যাকাণ্ডের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তের মধ্যেই তা ভাইরাল হয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, কিবরিয়া দোকানে ঢোকার দু-তিন সেকেন্ডের মধ্যেই কয়েকজন দুর্বৃত্ত ঢুকে গুলি চালানো শুরু করে। একজনের পরনে পাঞ্জাবি, দুজনের গায়ে শার্ট ছিল। সবার মাথায় হেলমেট ও মুখে মুখোশ ছিল। ঘটনার সময় দোকানে নয়জন উপস্থিত ছিলেন। দুর্বৃত্তদের একজন গুলি শুরু করলে ভয়ে সবাই বের হয়ে যান। প্রথমে দুজন মিলে কিবরিয়াকে গুলি করা শুরু করে। এরপর তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে একজন আরও তিনটি গুলি করে দ্রুত পালিয়ে যায়।

Facebook Comments Box