কাদামাখা হাটে ভোগান্তিতে ক্রেতা-বিক্রেতারা

টানা বৃষ্টিতে রাজধানীর শনির আখড়া পশুর হাটে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। হাটের বিভিন্ন অংশে পানি ও কাদা জমে থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ক্রেতা- বিক্রেতারা। ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে গরুগুলোকেও, পানির মধ্যেই দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে তাদের। কোথাও আবার পশুগুলোকে কাদার মধ্যেই শুয়ে থাকতে দেখা গেছে।

সোমবার বিকেলে শনির আখড়া পশুর হাট ঘুরে দেখা যায়, বৃষ্টির কারণে হাটের ভেতরের বেশির ভাগ অংশ কর্দমাক্ত হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও পানি জমে ছোট ডোবায় পরিণত হয়েছে। বিক্রেতারা খড় ও বালু ফেলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে তাতেও পুরোপুরি স্বস্তি মিলছে না।

জামালপুর থেকে আসা গরু ব্যবসায়ী হাসেম জানান, তিনি ১৫টি গরু নিয়ে হাটে এসেছেন। এর মধ্যে সাতটি বিক্রি হলেও এখনো আটটি গরু অবিক্রীত রয়েছে।

তিনি বলেন, বৃষ্টির কারণে হাটের অবস্থা খুব খারাপ হয়ে গেছে। গরুগুলোকে পানির মধ্যে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। এতে গরুগুলোও কষ্ট পাচ্ছে, আমরাও সমস্যায় আছি।

ফরিদপুর থেকে আসা ব্যবসায়ী সিদ্দিক মৃধা বলেন, তিনি ও তার ভাই মিলে ১২টি গরু নিয়ে এসেছেন। এর মধ্যে নিজেদের খামারে লালন–পালন করা কয়েকটি গরুও রয়েছে। কিন্তু হাটে আসার দুই দিন পার হলেও এখন পর্যন্ত একটি গরুও বিক্রি হয়নি।

সিদ্দিক বলেন, বাজার এখনো জমেনি। বৃষ্টির কারণে মানুষ কম আসছে। তবে শেষ সময়ে বিক্রি বাড়বে বলে আশা তার।

হাটে আসা ক্রেতা আবদুল হামিদ বলেন, বৃষ্টির কারণে হাটে পানি আর কাদা। ঠিকমতো হাঁটা যায় না। গরু দেখতেও সমস্যা হচ্ছে। এতে আমাদেরও ভোগান্তি হচ্ছে।

সরেজমিনে আরও দেখা যায়, কিছু বিক্রেতা নিজেদের উদ্যোগে বালু ফেলে পানি কমানোর চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ খড় বিছিয়ে গরু রাখার জায়গা শুকনো রাখার চেষ্টা করছেন। টানা বৃষ্টি থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

উল্লেখ্য, কয়েক দিনের টানা ভ্যাপসা গরমের পর রোববার বিকেলে রাজধানীতে বৃষ্টির পর আজ সোমবারও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় মুষলধারে বৃষ্টি হয়।

দুপুর ১২টা থেকে দুপুর একটার মধ্যে শুধু রাজধানীতেই ৪৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে।

Facebook Comments Box