নির্বাচন তো একটা হয়নি, দুটো হয়েছে

বিএনপির মধ্যে ফ্যাসিস্টদের ফটোকপি দেখতে পাচ্ছি বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ক্ষমতাসীন দল বিএনপিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, সাড়ে ১৭টা বছর জুলুমের শিকার হয়েছি আমরাও, আপনারাও। এখন হঠাৎ করে আল্লাহ তাআলা আমাদের মুক্তি দিলেন একটা রক্তভেজা আন্দোলনের মাধ্যমে। এই স্মৃতি তাড়াতাড়ি ভুলে গিয়ে তখনকার ফ্যাসিস্টরা যা করেছে, এখন আপনারাও তা করছেন। রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে বাংলাদেশ লেবার পার্টি আয়োজিত ‘জান দেবো, জুলাই দেবো না’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান প্রমুখ।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমি তাদেরকে একবার অনুরোধ করবো, জাতির উপরে যে জুলুমের পাহাড় নেমে এসেছিল, এই ক্ষেত্রটা কেন কীভাবে প্রস্তুত হয়েছিল তারা যেন একবার চিন্তা করে। তারা যেন চিন্তা করেন সাড়ে ১৭টা বছর বাংলাদেশের মানুষ বিশেষ করে সেই সরকারের বিরোধী যারা ছিলেন, বিরোধী রাজনৈতিক মতবাদে যারা বিশ্বাস করছেন, তারাসহ সকল আলেম-ওলামা, সাংবাদিক মহল, সুশীল সমাজ, ব্যবসায়ীরা, সাধারণ মানুষেরা, শ্রমিক জনতারা তারা কেমন ছিলেন– তারা যেন একটু চিন্তা করে। তারা নিজেরাই বলেছেন, তাদের সময় কেটেছে পাট ক্ষেতে, ধান ক্ষেতে। এখন ফ্যাসিস্টদের কোন জিনিস আপনারা বাদ দিয়েছেন, কোন জিনিসের পরিবর্তন করেছেন? ওরা যেমন বিরোধী মতকে দমন করার জন্য ষড়যন্ত্র অপপ্রচার এবং বল প্রয়োগের আশ্রয় নিয়েছিল, আপনারা সবগুলো ইতোমধ্যে নিয়ে ফেলেছেন।

নির্বাচন তো একটা হয়নি, দুটো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শপথ দুইটা নেওয়ার কথা ছিল। আমরা নিলাম, আপনারা নিলেন না কেন? সেই আপনারাই তো আমাদের মতো বলেছিলেন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলবো। জনগণ তো ‘হাঁ’ বলেছে। ৭০ ভাগ মানুষ হ্যাঁ বলার পরে জনগণের এই অভিপ্রায়কে আপনারা অপমান করছেন কেন? ৭১ এর যুদ্ধ কেন হয়েছিল? বেসিক দুইটা কারণ ছিল। একটা ছিল বৈষম্য। আরেকটা ছিল জনগণের ভোটকে সম্মান না দেখানো।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া মো. সামসুল আলম প্রসঙ্গে সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সামসুল আলমের কথা বলা হয়েছে। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন যে তিনি বিএনপির র‌্যাংক এন্ড ফাইলের একজন একটিভিস্ট। অতিরিক্ত সচিব হিসেবে এক বছরের জন্য আপনারা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছেন। আপনাদের মতলব আপনারাই ভালো জানেন। তবে এই এক বছরের ভেতরে গুরুত্বপূর্ণ অনেকগুলো নির্বাচন হবে। যেই লোক তার দলের জন্য যানপ্রাণ দিয়ে কাজ করেছে, সেই লোককে একটা নিরপেক্ষ জায়গায় আপনারা পাঠিয়ে দিলেন। সচিব হওয়ার জন্য এখন আর বিসিএস কোয়ালিফাই করা লাগবে না। সচিব হওয়ার জন্য দলীয় একটা পদ থাকলেই হবে। এতো কষ্ট করা লাগবে না। শর্ট কোর্স মাত্র তিন মাস প্র্যাকটিস করলে হয়ে যাবে। নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, ভারতে মোদি যেভাবে কথা বলেন, বাংলাদেশেও আমরা সেই কথার প্রতিধ্বনি শুনছি। অনেকে বলেন, দেশে নাকি আবার ফ্যাসিবাদ আসা শুরু করেছে; আবার কেউ কেউ প্রশ্ন তোলেন, পাঁচ মাসে কীভাবে তা সম্ভব? আসলে ফ্যাসিবাদ নতুন করে আসেনি, ফ্যাসিবাদ আগে থেকেই রয়েছে এবং তারেক রহমান এখন সেটির ওপর বসেছেন। আগে এই ফ্যাসিবাদের চেয়ারে ছিলেন শেখ হাসিনা। কথা ছিল ফ্যাসিবাদের চেহারা ও চেয়ার—দুটোই বাদ যাবে এবং ব্যবস্থার পরিবর্তনের মাধ্যমে দেশ গণতান্ত্রিক হবে। কিন্তু তারেক রহমান সেই পথে না হেঁটে সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সন্ত্রাসের জন্য প্রস্তুত নয়। ইনশাআল্লাহ আমরা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে দাঁড়াব এবং লড়াই করব। এর পরিণতি দুটি হতে পারে—হয় জেলে যাব, না হয় কবরে যাব। কিন্তু কারও সঙ্গে আপস (নেগোশিয়েট) হবে না, কারও কাছে মাথা নত করব না। এটি আজাদীর বাংলাদেশ, এটি ওসমান হাদীর বাংলাদেশ।

Facebook Comments Box