আওয়ামী লীগের সাথে রাজনৈতিক পুনর্মিলন বা রিকনসিলিয়েশন অসম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের অনেক মানুষ এখনও আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেন। তারা বাংলাদেশেরই নাগরিক। আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী-সমর্থকদের সাথে পুনর্মিলনের উদ্যোগ নেওয়া খারাপ কোনো ধারণা নয়, বরং এমন উদ্যোগ হলে ভালো হতো। তবে রিকনসিলিয়েশনের আগে এর মৌলিক ভিত্তি কী হবে, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি। মঙ্গলবার সরকারের কার্যক্রমের অগ্রগতি ও সমসাময়িক ইস্যুতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
মাঝখান থেকে কেউ যদি রিকনসিলিয়েশন চান এবং মনে করেন এটি ভালো উদ্যোগ, তাহলে আমারও মনে হয় এটি ভালো উল্লেখ করে জাহেদ উর রহমান বলেন, তাদের উচিত আওয়ামী লীগের সাথে যোগাযোগ করা। আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে কথা বলে রিকনসিলিয়েশন শুরুর মৌলিক জায়গাটি নিশ্চিত করতে হবে। সেটি হলে এ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
তিনি বলেন, শুধু আলোচনার মাধ্যমে রিকনসিলিয়েশন শুরু করলেই হবে না। এর জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক শর্ত ও পারস্পরিক অবস্থান স্পষ্ট করা জরুরি। আওয়ামী লীগ সেই জায়গায় এগিয়ে এলে পুনর্মিলন নিয়ে আলোচনা করা সম্ভব। তথ্য উপদেষ্টা বলেন, পুনর্মিলনের উদ্যোগ সফল করতে আওয়ামী লীগকেই প্রথমে এগিয়ে আসতে হবে। দলটিকে নিজেদের দায় স্বীকার করতে হবে।
উপদেষ্টা বলেন, আমরা খুব অবাক হয়ে পাঁচ তারিখের পর থেকে এখন পর্যন্ত দেখছি, সেই দলটা, সেই দলটার প্রধান নেত্রী তিনি এখনো আমাদেরকে হুমকি দিচ্ছেন। আমি একটা সময় তার বক্তব্য, পাঁচ তারিখের পর যখন প্রথম কথা বলতে শুরু করলেন, তখন শোনার চেষ্টা করেছি। তিনি সমানে হুমকি দিচ্ছেন, সবাইকে দেখে নেবেন, পাল্টা এই করে ফেলো ওই করে ফেলো, নানান রকম হুমকি ক্রমাগত দিয়ে গেছেন, যদি তাই হয়ে থাকে আসলে এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে রিকনসিলিয়েশনের আলাপটা আমাদের দিক থেকে অন্তত এন্টারটেইন করা কঠিন।
এদিকে, চাঁদাবাজিতে সরকার প্রশ্রয় দিচ্ছে কিনা—এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সরকার প্রশ্রয় দিচ্ছে না। সরকারের প্রশ্রয় দেয়ার কোনো কারণ নেই। আমি এই অভিযোগ উড়িয়েও দিতে চাই না যে, সরকারি দলের কেউ না কেউ এটার সাথে কোনোভাবে জড়িত নয়।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘এটা সরাসরি পদে থাকা বা নাম ব্যবহার করা—এই প্রবণতা নেই। আমি এ দেশে জন্মেচ্ছি বড় হয়েছি আমি জানি। প্রশ্নটা হচ্ছে—সরকার কী করছে, সরকারের উদ্দেশ্যটা কী। আমার মনে হয় সাম্প্রতিক সময়ে মিরপুরে যে ঘটনাটা ঘটেছে, সেটার পর যেভাবে সরকার প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে আমার মনে হয় এতেই বার্তাটা খুব স্পষ্ট যে, সরকার আসলে এগুলো কোনোভাবে সহ্য করবে না।
আমি বারবার বারবার যে কথাটা বলার চেষ্টা করি, সেটা হচ্ছে জনগণ যদি কোনোভাবে সাফার করতে থাকে এবং সেটা যদি সরকারি দলের নামে হয়ে থাকে। তাতে যদি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সঠিক ব্যবস্থা বা তড়িৎ ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে এটার মাসুল তো সরকারকে দিতে হবে’—বলেন তিনি। বিশেষ অভিযান প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, আমাকে আগের দিনও এটা জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। আমাকে মিসকোট করা হয়েছে। গতদিন আমি কোনোভাবেই বলিনি, আমাকে প্রশ্নটা একদম লিডিং জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে, যৌথ বাহিনী অভিযানে নামছে কিনা। আমি জবাবে বলেছি— না। আমি বলেছি যে, পুলিশ বাহিনী যেভাবে কাজ করছে, পুলিশ বাহিনী সেভাবে কাজ করে যাবে।
















