যারা প্ল্যান ছাড়া বিল্ডিং করছেন বা প্ল্যান নিয়ে সেটার ব্যত্যয় ঘটিয়েছেন, তাদের জন্য একটি বিধিমালা তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের। তিনি বলেন, এটা নিয়ে কাজ চলছে। বুধবার রাজধানীর বনানীতে হোটেল শেরাটনে বণিক বার্তা আয়োজিত ‘স্মার্ট সিটি কনক্লেভ ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গত সাত মাসের মধ্যে রাজউকের মতো আমরা নতুন আরো ছয়টি ডেভেলপমেন্ট অথরিটি করেছি উল্লেখ করে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী বলেন, এর মধ্যে রয়েছে ময়মনসিংহ, সিলেট, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ, রংপুর ও বরিশাল। এর আগে আরো চারটি ছিল। পর্যায়ক্রমে আগামীতে বগুড়া নিয়েও কাজ করছি। ডেভেলপমেন্ট অথরিটি না থাকলে দেখা যায়, সিটি করপোরেশনই প্ল্যান দিচ্ছে, তারাই কাজ করছে। সেখানে চেক অ্যান্ড ব্যালান্স থাকে না। আমরা সবাইকে একটি সামগ্রিক আইনি কাঠামোর মধ্যে আনার চেষ্টা করছি। যারা এরই মধ্যে প্ল্যান ছাড়া বিল্ডিং করছেন বা প্ল্যান নিয়ে সেটার ব্যত্যয় ঘটিয়েছেন, তাদের জন্য একটি বিধিমালা তৈরি হচ্ছে। এটা নিয়ে কাজ চলছে।
অনুষ্ঠানে দেশের আবাসন, নির্মাণ, জ্বালানি ও নগর পরিকল্পনা খাতের নীতিনির্ধারক, পরিকল্পনাবিদ, প্রকৌশলী, বিশেষজ্ঞ, উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ।
বাস্তবতা তুলে ধরে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী বলেন, গুলশান, বনানীর লেক ও হাতিরঝিল লেক নিয়ে প্রধানমন্ত্রী আমাদের সঙ্গে ছয় বার মিটিং করেছেন। গুলশান-বনানীর বাড়ির মধ্যে বোধহয় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশে প্ল্যানিংয়ের সময় যে সেফটি ট্যাংক থাকার কথা ছিল, সোকওয়েল থাকার কথা ছিল, তারা করেনি। আমাদের নামী-দামি ডেভেলপাররা বিল্ডিং করে আসছে, সুয়ারেজটা দিয়ে দিয়েছেন স্ট্রং অর্ডারের সঙ্গে। আমরা চেষ্টা করছি সবাইকে সচেতন করতে। এ নিয়ে আমরা গুলশান, বনানী, বারিধারা সোসাইটির সঙ্গে তিন থেকে চার বার মিটিং করছি।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত আরো বলেন, আরবান ডেভেলপমেন্ট অধিদপ্তরের মাধ্যমে আমরা প্রথমবারের মতো প্রায় ১০ বছর মেয়াদি একটি পরিকল্পনা নিয়েছি। এ পরিকল্পনার আওতায় প্রথমে মেট্রোপলিটন সিটিগুলো নিয়ে কাজ করছি। এরপর আমাদের বড় সিটিগুলো থেকে শুরু করে একদম উপজেলা পর্যায়েও যেন প্রকৃত অর্থে একটি মাস্টার প্ল্যান করা যায়, তা নিয়ে কাজ করব।
পলিসি কনক্লেভে এলপিজি ও সোলার’ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেন ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী। ‘নির্মাণে দেশীয় সক্ষমতা’ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেন বিএসএমএর সভাপতি এবং ক্রাউন সিমেন্ট পিএলসি ও জিপিএইচ গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম এবং জিএমইএবির সভাপতি ও নাসির সিনট্যাক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসিম বিশ্বাস। ‘স্মার্ট-সবুজ আবাসন ও অর্থায়ন’ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেন স্পেসজিরো লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্লাহ, ডিবিএইচ ফাইন্যান্স পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাসিমুল বাতেন এবং এবিসি রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শ্রাবন্তী দত্ত। এ ছাড়া ‘প্রাথমিক আলোচনা ও বৃহত্তর দৃষ্টিভঙ্গি: আবাসন, নির্মাণ ও টেকসই নগরায়ণ’ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. ইশতিয়াক আহমেদ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান।
















