অচল দিল্লি, চার সাবেক মুখ্যমন্ত্রীসহ আটক ৩০০০

ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে ব্যাপক ধরপাকড় চালিয়েছে দেশটির পুলিশ। শনিবার সকাল থেকে দিনভর চলা এই অভিযানে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যয়, দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন এবং ত্রিপুরার মানিক সরকারসহ বিরোধী দলের বহু নেতা ও আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অন্তত ৩০০০ বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে।

এনডিটিভি জানায়, মুম্বই থেকে বিমান নিয়ে শনিবার সকালে দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছান সিজেপির আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকে। বিমানটি সকাল ১০টা ১৯ মিনিটে নামার সঙ্গে সঙ্গেই সেখানে আগে থেকেই প্রস্তুত থাকা বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও নারী পুলিশ কর্মী তাদের ঘিরে ফেলেন।

বিমান থেকে নামার আগেই সিজেপি নেতারা ইনস্টাগ্রামে লাইভ শুরু করেন। সেই লাইভ ভিডিওতে পুলিশ ও নেতাদের মধ্যে তুমুল বাগ্বিতণ্ডা দেখা যায়। অভিজিৎ দীপকে লাইভে বলেন, ‘গ্রেপ্তার হব জেনেই আমরা দিল্লিতে এসেছি। ভয় পাই না।’ পরে পুলিশ তাকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করে। দিল্লি পুলিশও এই আটকের কথা স্বীকার করেছে।

দিল্লি পুলিশের কড়া পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে সিজেপি এক বিবৃতিতে বলেছে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করতে যন্তর মন্তরে পৌঁছানোর আগেই নেতাদের আটকে দেওয়া সরকারের পূর্বপরিকল্পিত পদক্ষেপ। এটি নাগরিকদের চলাফেরার স্বাধীনতার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। সংগঠনটি অবিলম্বে তাদের নেতাদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছে।

এর আগে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতির সময় গুরুগ্রামের বাসা থেকে জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে আটক করেছে পুলিশ। দিল্লি না যাওয়ার অনুরোধ অমান্য করায় তাকে হেফাজতে নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এছাড়া, আইনজীবীদের একটি প্রতিবাদ মিছিলে যোগ দিতে যাওয়ার সময় সিজেপির আইনি সহায়তাকারী রত্না সিংহকেও সকালে আটক করা হয়। সব মিলিয়ে শুক্রবার রাত থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় ১ হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

সিজেপির পূর্বঘোষিত কর্মসূচি প্রতিহত করতে শুক্রবার রাত থেকেই কঠোর নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয় রাজধানী দিল্লি। রাজ্যটিতে প্রায় ৪১ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। দিল্লির অন্তত ৪৫টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে। একাধিক এলাকায় জারি করা হয়েছে ১৪৩ ধারা (নিষেধাজ্ঞা)। অনেক এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। শনিবার ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত দিল্লিগামী সব মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় পুলিশের পক্ষ থেকে লাগাতার মাইকিং করা হচ্ছে।

এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই শনিবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে বিরোধীদের তীব্র আক্রমণ করেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। তিনি অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ মহল রাজধানী দিল্লির শান্তি ও শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করছে।

Facebook Comments Box