মেম্বার প্রার্থীর সমর্থককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মেম্বার প্রার্থীর এক সমর্থককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তারা ঘটনার সঠিক তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানান। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তবে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি ঠেকাতে ঘটনাস্থলে পুলিশি তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।

নিহতের স্বজন মোহাম্মদ আলী জানান, গত সোমবার রাতে উপজেলার ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নের উত্তর রাবাইটারী বটতলা বাজারে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দুই ইউপি সদস্য প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে ওই ওয়ার্ডের তালা প্রতীকের প্রার্থী শাহজালাল প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্যান প্রতীকের সমর্থক বাবুল মিয়াকে (৪০) গালমন্দ করেন। এক পর্যায়ে বাবুল মিয়াকে উঠিয়ে নিয়ে বাজারের এক চায়ের দোকানে আটকে খড়ি দিয়ে পিটিয়ে আহত করেন। পরে বাবুলকে নাগেশ্বরী শাপলা ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসা নিয়ে মঙ্গলবার বাড়িতে আসার পর রাতে তিনি মারা যান।

বাবলু মিয়া উত্তর রাবাইটারী গ্রামের মৃত আজগার আলীর ছেলে। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। ঘটনার মীমাংসার জন্য ওই রাতে দফায় দফায় বৈঠক চলে নিহতের বাড়িতে। পরে বুধবার এলাকার লোকজন জড়ো হয়ে লাশ দাফন না করে সড়ক অবরোধ করেন। বাঁশ দিয়ে বন্ধ করা হয় যানবাহন। দুই ঘণ্টাব্যাপী উপজেলার রাবাইটারী এলাকার ফুলবাড়ী-নাগেশ্বরী সড়কে পথচারী ও যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেয় জনতা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ফুলবাড়ি থানায় নিয়ে আসে।

ফ্যান প্রতীকের প্রার্থী মুকুল মিয়া বলেন, ২৮ নভেম্বর আমাদের ইউনিয়নে ভোট। সে জন্য আমরা প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। হঠাৎ করে আমার নিরপরাধ কর্মীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমি এর সঠিক বিচার চাই।

নিহতের স্ত্রী মমতা বেগম জানান, রাতে লাশ দাফনের জন্য আমাকে চাপ দেওয়া হয়েছে। সে জন্য ঝামেলায় না গিয়ে লাশ দাফনের জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু সকাল বেলা পরিবারের লোকজন সঠিক বিচার চেয়ে বিক্ষোভ করেন।

তবে তালা প্রতীকের প্রার্থী শাহজালালের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেও কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নাগেশ্বেরী বি-সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপার সুমন রেজা বলেন, লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিমল চাকমা বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বজন ও এলাকাবাসীল দাবি শোনার পর লাশ নিয়ে আসা হয়েছে। মেডিক্যাল রিপোর্ট পাওয়ার পর পুলিশ ব্যবস্থা নেবে বলে জানান তিনি।

সবারবাংলা/এসআই

Facebook Comments Box