শেখ হাসিনাকে জানতে হলে বঙ্গবন্ধুকে জানতে হবে

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু বলেছেন, শেখ হাসিনাকে জানতে হলে প্রথমে বঙ্গবন্ধুকে জানতে হবে, আর বঙ্গবন্ধুকে জানতে হলে পুরো বাংলাদেশকে জানতে হবে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু জীবিত থাকলে আরও আগেই বাংলাদেশ উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্ব দরবারে পরিচিত পেতো। মঙ্গলবার সম্প্রীতি বাংলাদেশ আয়োজিত রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৬তম জন্মদিন উপলক্ষে ‘শুভ জন্মদিন তিমির হননের নেত্রী’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য শামসুল হক টুকু এসব কথা বলেন।

বন্ধবন্ধুসহ তার পরিবারের সদস্যদের নৃশংসভাবে হত্যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র বানানোর নীলনকশা তৈরি করা হয়েছিল উল্লেখ করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ঘাতকদের ষড়যন্ত্রকে ধুলিস্মাৎ করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশে প্রত্যাবর্তন করে আওয়ামী লীগের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন এবং দেশকে সমৃদ্ধির পথ দেখান প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী এখনো জীবন বাজি রেখে দেশের ও দেশের মানুষের উন্নয়নে কাজ করে চলেছেন জানিয়ে তিনি আরো বলেন, গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে হলে নির্বাচনের বিকল্প নেই। সব দলকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করতে চান। তাই সব দলের অংশগ্রহণে আশাকরি সুন্দর একটি নির্বাচন হবে। সম্প্রীতি বাংলাদেশ এর আহবায়ক পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভাপতিত্বে, সদস্য সচিব ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীলের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান। এছাড়াও আলোচনায় অংশ নেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর হারুন অর রশিদ, ইউজিসি’র সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর আব্দুল মান্নান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর নিজামুল হক ভূইয়া, সাবেক তথ্য কমিশনার প্রফেসর সাদেকা হালিম, বাংলাদেশ পোষ্টের সম্পাদক শরিফ শাহাবুদ্দিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক অধ্যাপক অসীম কুমার, অধ্যাপক বিমান চন্দ্র, বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম, প্রফেসর মাহফুজা খাতুন, মাওলানা আজাদ, সৈয়দ বোরহান কবির, ড. উত্তম বড়ুয়া ও ড. চন্দ্রনাথ পোদ্দার প্রমুখ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান বলেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশের সফল প্রধানমন্ত্রী। তাঁর নেতৃত্বে অর্থনীতির প্রতিটি সূচকে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে একটি রোল মডেল হিসেবে পরিচিত করেছেন। সন্ত্রাস ও জঙ্গি দমনেও তিনি বিশ্বনেতাদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। মিয়ানমারে জাতিগত সহিংসতায় পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা মুসলিমদের আশ্রয় দিয়ে সারা বিশ্বে হয়েছেন প্রশংসিত। বাংলাদেশকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। কিন্তু বিএনপিসহ কিছু রাজনৈতিকদল তা সহ্য করতে না পেরে তারা লাঠিসোটা নিয়ে সড়কে নৈরাজ্য করছে। তারা ভাবছে এসব করে ক্ষমতায় আসবে। কিন্তু তা আর কখনওই হবে না। তিনি আরো বলেন, বিএনপি বলছে আমরা উন্নয়ন চাই না গণতন্ত্র চাই। এভাবে রাস্তাঘাটে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে গণতন্ত্রের কথা তাদের মুখে মানায় না। তিনি বলেন, স¤প্রতি জাতিসংঘ বিশ্বের সেরা তৃতীয় প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে ভ‚ষিত করেছে। এতে আমরা গর্বিত। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নের্তৃত্বের কারণেই বাংলাদেশ আজ এগিয়ে যাচ্ছে।

সম্প্রীতি বাংলাদেশ এর আহবায়ক পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আমরা বলি তুমিই বাংলাদেশ, আর শেখ হাসিনাকে নিয়ে বলি তুমিই আগামীর বাংলাদেশ। তুমিই মুক্তিযোদ্ধের বাংলাদেশ। তুমিই সম্প্রীতির বাংলাদেশ। তিনি অত্যান্ত সাহসের সাথে একদিকে আওয়ামীলীগের নের্তৃত্ব দিচ্ছেন আরেকদিকে পুরো বাংলাদেশের নের্তৃত্ব দিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী শুধু বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নন তিনি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম নেতা। তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না। তেমনই শেখ হাসিনার জন্ম না হলে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বিনির্মাণের কাজ জাতি চোখে দেখতো না।

তিনি বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা প্রতি বছর দুর্গা পূজা পালন করেন। কিন্তু আবহমান কাল থেকেই এই উৎসবে যোগ দেন সব ধর্মবর্ণের মানুষ। এটি বাঙালির উৎসব। কোনো অপশক্তি যেন আমাদের এই সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

আমাদের অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে গেছেন প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করে আলোচনায় অন্য বক্তারা বলেন, তিনি হলেন তিমির হননের নেত্রী; যিনি অর্থনীতিতে সফল, গণতন্ত্রের নেত্রী। বিশ্ব নেতাদের মধ্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অন্যতম। ১৯৮১ সালে দেশে ফিরেছিলেন বলে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের দরবারে প্রশংসিত। শেখ হাসিনা আমাদের উন্নয়ন এবং অর্জনের রোল মডেল। তিনি নিজে যা অর্জন করেছেন, তা নজিরবিহীন। বিশ্বদরবারে বাংলাদেশকে বিশেষ মর্যাদায় উন্নীত করেছেন। তাঁর জন্মদিন পালন না করলে আমরা জাতির কাছে অকৃতজ্ঞ থেকে যাব। বক্তারা আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মের কারণে আমরা এ বাংলাদেশ পেয়েছি। আর এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী বেচে আছেন বলে বাংলাধেম আজ আলোর জগতে বিচরণ করছে। প্রধানমন্ত্রীর কারণেই আজ বাংলাদেশ বিশ্বে দরবারে উচুঁ করে দাঁড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে আমাদের একটাই চাওয়া তিনি যেন সব সময় সুস্থ থাকেন। তাহলে তার হাত ধরেই বাংলাদেশ আরো এগিয়ে যাবে।

Facebook Comments Box