ইংল্যান্ডকে ‘খোঁচা’ দিলেন আর্জেন্টাইন মিডিয়া

ইংল্যান্ডকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। আলবিসেলেস্তেদের শিবিরে যখন চলছে উদযাপন, তখন ইংল্যান্ডের ড্রেসিংরুমে নেমে এসেছে হতাশা। সেমিফাইনালের আগেই ফাইনালে খেলার স্বপ্ন দেখা থ্রি লায়ন্সদের বিদায় নিতে হয়েছে আক্ষেপ আর সমালোচনার মধ্য দিয়ে।

আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওআইসি জানিয়েছে, ইংল্যান্ডের হারের পরও দেশটির ফুটবল অঙ্গনে হতাশার রেশ কাটছে না।

সাবেক ইংলিশ ফুটবলার ও ‘টকস্পোর্ট’-এর রেডিও উপস্থাপক জেসন ক্যান্ডির মতে, ম্যাচের ফলাফল নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। তার চোখে আর্জেন্টিনাই পুরো ম্যাচে শ্রেষ্ঠ দল ছিল।

তিনি বলেন, ‘ফলাফল নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই। পুরো ৯০ মিনিট তারা (আর্জেন্টিনা) আমাদের চেয়ে ভালো খেলেছে। আমরা যেভাবে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেলাম, তা আবারও আমাদের কাপুরুষতাকেই প্রমাণ করে।’

ইংল্যান্ডের জার্মান কোচ টমাস টুখেলের কৌশল নিয়েই সবচেয়ে বেশি সমালোচনা হয়েছে। ম্যাচে লিড নেওয়ার পর গোল ধরে রাখতে তিনি রক্ষণাত্মক কৌশলে চলে যান এবং পাঁচ ডিফেন্ডার নিয়ে খেলতে শুরু করেন। সাবেক ইংলিশ ফুটবলার জেমি ও’হারা এই সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, ‘সেই একই পুরোনো আবর্জনা মার্কা খেলা। আমরা এজন্যই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিচ্ছি।’

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক তারকা গ্যারি নেভিল ম্যাচের আগে ইংল্যান্ডের বড় জয়ের প্রত্যাশা করেছিলেন। কিন্তু হারের পর তিনি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি এভাবে হেরে যাওয়া মেনে নিতে পারছি না। গোল দেওয়ার পর থেকেই আমরা রক্ষণাত্মক হয়ে পড়তে শুরু করি, নিজেদের গুটিয়ে নিই। আর এই একই ছবি আমরা অতীতেও বহুবার দেখেছি।’

তবে শুধু ইংল্যান্ডের ব্যর্থতাই নয়, আর্জেন্টিনার লড়াকু মানসিকতারও প্রশংসা করেছেন অনেকে। এনজো ফার্নান্দেজের দুর্দান্ত গোল এবং লাউতারো মার্তিনেজের জয়সূচক হেডে মাত্র সাত মিনিটের ব্যবধানে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় আর্জেন্টিনা।

সেমিফাইনালের আগে ইংল্যান্ডের সাবেক তারকা জো কোল বলেছিলেন, তারা মেসিকে নিষ্ক্রিয় রাখার পরিকল্পনা করবে। তবে ম্যাচ শেষে তিনি স্বীকার করেন, আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের জাতীয় দলের হয়ে খেলার আবেগ ও নিবেদন অসাধারণ। রদ্রিগো দে পলের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ক্লাব পর্যায়ে যাই হোক না কেন, আর্জেন্টিনার জার্সিতে তিনি বিশ্বের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডারদের একজন।

Facebook Comments Box