চরফ্যাশনে তরমুজ চাষে লাভবান কৃষকেরা

নাদিম খান, চরফ্যাসন (ভোলা) প্রতিনিধি

ভোলার চরফ্যাশনের কৃষকেরা অন্যান্য ফসলের তুলনায় অধিক লাভবান তরমুজ চাষে, প্রথম রমযান থেকে বাজারে ভালো দাম পাচ্ছে। আগের তুলনায় চলতি বছরের উপজেলাটিতে বেড়েছে তরমুজ চাষ। বর্তমানে উপজেলাটির তরমুজ চাষিরা গাছ পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ চারা গাছের পরিচর্যা করছেন, কেউবা খেতে সেচ দিচ্ছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে কৃষকেরা ভালো ফলন পাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ২১ ইউনিয়নের মধ্যে ৯টিতে এবার তরমুজ চাষ হচ্ছে। এ বছর তরমুজের আবাদ হয়েছে ১০ হাজার ৮৭০ হেক্টরেরও বেশি জমিতে।নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময় চাষিরা পলিব্যাগে তরমুজ চারা উৎপাদন করেছে। ওই চারা জমিতে রোপণ করেছেন। ইতোমধ্যে দাম ভালো হওয়ায় এবার লাভবান হবেন জানান কৃষকরা।কলমি ইউনিয়নের কৃষক ১১ বছর ধরে তরমুজ চাষ করে আসছেন। চলতি বছর ২৪০ শতাংশ জমিতে গোরি ও জাম্বু জাতের তরমুজ চাষ করেছেন তিনি। চারাগাছ রোপণ থেকে এ পর্যন্ত প্রতি ৩৯ শতাংশে তার ৮০ থেকে ৯০ হাজার খরচ হয়েছে তার।

বেপারি বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে তরমুজ লাভে বিক্রি করতে পারব।একই এলাকার তরমুজ চাষি শিপন বলেন, এবার ৯৬০ শতাংশ জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। গত বছর কিছুটা লাভ হয়েছে। এ বছর জমির পরিমাণ বাড়িয়েছি। কিন্তু এবার সারের দাম বেড়েছে। বস্তা প্রতি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা বেশি দিয়ে কিনতে হয়েছে।উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ঠাকুর কৃষ্ণ দাস বলেন, চরফ্যাশন উপজেলায় ড্রাগন, ড্রাগন সুপার, গোরি, জাম্বু ও বাংলালিংক জাতের তরমুজ চাষ হয়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে প্রতি হেক্টর জমিতে ৫০ থেকে ৬০ টন ফলন হতে পারে। তরমুজ চাষে কৃষকদের হেক্টর প্রতি খরচ হয় দেড় থেকে দুই লাখ টাকা।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রোকনুজামান বলেন, ভালো ফলন হওয়ায় কৃষকরা তরমুজ চাষের প্রতি ঝুঁকেছে। এ বছর তরমুজের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১১ হাজার ৫৫০ হেক্টর। আবাদ হয়েছে ১০ হাজার ৮৭০ হেক্টরেরও বেশি জমিতে। উপজেলার চর কলমি, নজরুলনগর, দক্ষিনচরআইচা নুরাবাদ, নীলকমল, ওসমানগন্জ আবুবক্করপুর ও মুজিবনগর ইউনিয়নে তরমুজ চাষ বেশি হয়।

Facebook Comments Box