ঢাকা শহরকে আর বাসযোগ্য মনে হচ্ছে না

জুনাইদ শাহীন

ঢাকা শহরকে আর বাসযোগ্য মনে হয় না বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আজকাল আমার নিজেরই মনে হয় যে আমি ঢাকা শহরে থাকবো না, দেশের অন্য শহরে গিয়ে থাকবো। কারণটা হচ্ছে, এটা আর বাসযোগ্য মনে হয় না। শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) উদ্যোগে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম ‘দক্ষিণের জানালা’র উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আমরা ঘর থেকে বের হয়ে যে অক্সিজেন গ্রহণ করছি সেটাও দূষিত উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, আপনি যদি একটি সরকারি হাসপাতালে যান, সেখানে ঢোকাই যায় না। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের দিকে চলে যাচ্ছে। সেই অবস্থা থেকে যদি আমরা বের হতে না পারি, প্রতিষ্ঠানগুলোকে সামনে এগিয়ে আনতে না পারি, তাহলে এতক্ষণ যে স্বপ্নের কথা বলা হলো, সেগুলো স্বপ্নই থেকে যাবে। কারণ আমরা কি সত্যিই সেই মুক্ত বাতাস নিতে পারব? তিনি বলেন, আরও বেশিদিন যেন মানুষ বেঁচে থাকতে পারে, সে জন্য দূষণমুক্ত অক্সিজেন নিশ্চিত করা এবং বাসযোগ্য শহর ও নগর গড়ে তোলার আন্দোলন প্রয়োজন। এ ধরনের উদ্যোগ নগরবাসীকে আলোড়িত করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

শুধু নাগরিকদের সচেতন করলেই হবে না উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, যারা নীতিনির্ধারণ করছেন, ঢাকা শহর পরিচালনা করছেন এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছেন, তাদেরও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের পর প্রকল্প চলছে এই ঢাকা নগরের জন্য, কিন্তু মানুষ কতটুকু উপকৃত হচ্ছে, নাগরিকরা কতটুকু উপকৃত হচ্ছে, সেই বিষয়গুলো মূল্যায়ন করা দরকার। সেই বিষয়গুলো সামনে নিয়ে এগোনো দরকার। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, সিটি করপোরেশন স্থানীয় সরকারের একটি স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান। বিশ্বের বিভিন্ন নগর নির্বাচিত মেয়র ও স্বশাসিত করপোরেশনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। তাই এসব প্রতিষ্ঠানে আরও গভীর চিন্তা, দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে।

ঢাকার পরিবেশ ও নদী দূষণের প্রসঙ্গ তুলে মির্জা ফখরুল বলেন, কলেজজীবনে আমরা প্রায়ই বুড়িগঙ্গায় নৌকায় চড়ে ঘুরতে যেতাম। কিন্তু এখন সেই নদীর কাছেও যাওয়া যায় না। এত দূষিত, এত দুর্গন্ধ। আমার কাছে মনে হয়, ঢাকা শহরের অনেক সমস্যার মূলেই বোধহয় এই বুড়িগঙ্গা। বুড়িগঙ্গার পানি আজ যে অবস্থায় আছে, শীতলক্ষ্যাও প্রায় একই অবস্থার দিকে যাচ্ছে। তাহলে ঢাকা শহরের নাগরিকরা যাবে কোথায়? তিনি বলেন, চলমান উদ্যোগগুলোর পাশাপাশি কাঠামোগত পরিবর্তনও প্রয়োজন। পরিকল্পনা সঠিকভাবে নিতে হবে এবং ‘প্রজেক্ট শেষ তো সব শেষ’—এমন পরিস্থিতি যেন না হয়। ঢাকা শহরের পানির অবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক এক ক্যাবিনেট বৈঠকে এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ঢাকা শহরের পানির অবস্থা খুবই ভয়াবহ। একটি বড় অংশের পানি সেবনযোগ্য নয়। আরেকটি বড় সমস্যা হচ্ছে, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর হাজার মিটার নিচে নেমে যাচ্ছে। এটি ঢাকার জন্য একটি ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনছে। তিনি বলেন, নদীগুলোকে দূষণমুক্ত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এত প্রকল্প হয়, কিন্তু বুড়িগঙ্গাকে দূষণমুক্ত করার কোনো কার্যকর প্রকল্প তৈরি হয় না। আমি চেষ্টা করব এ বিষয়ে আলোচনা করে আমরা বুড়িগঙ্গাকে ঠিক করতে পারি কি না, তুরাগকে ঠিক করতে পারি কি না, সেসব বিষয় দেখতে হবে। এতে সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেন, আমরা এমন একটি শহর গড়ে তুলতে চাই, যাতে নাগরিকরা সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পান। তিনি বলেন, আদি ঢাকাকে তার পুরনো রূপ ফিরিয়ে দিতে চাই। হকারদের পুনর্বাসনের বিষয় চিন্তা চলছে। জলাবদ্ধতা দূর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কাজও চলমান। সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল ও প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার প্রমূখ।

Facebook Comments Box