চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি:
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার বেতুয়া-ঢাকা নৌরুটে চলমান কথিত ‘রোটেশন’ প্রথার মাধ্যমে যাত্রীদের পছন্দমতো লঞ্চে যাতায়াতের অধিকার খর্ব, কেবিন বাণিজ্যে অনিয়ম এবং যাত্রী হয়রানির অভিযোগ তুলে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
ঢাকার আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুল বাছেত শামীম স্বাক্ষরিত মো.আরিফুর রহমান জুয়েল বাদী হয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর চেয়ারম্যানকে বিবাদী করা হয়েছে।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলা দেশের একটি বৃহৎ দ্বীপাঞ্চলীয় জনপদ। উপজেলার লাখো মানুষের রাজধানী ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম নৌপথ। অভিযোগ রয়েছে, ২০২১ সালের পর থেকে এ রুটে চলাচলকারী কয়েকটি লঞ্চ কোম্পানি পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে ‘রোটেশন’ পদ্ধতি চালু করে। ফলে যাত্রীরা নিজেদের পছন্দের লঞ্চে ভ্রমণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং নির্দিষ্ট লঞ্চে যাতায়াতে বাধ্য হচ্ছেন।
নোটিশে আরও বলা হয়, প্রতিদিন কয়েক হাজার যাত্রী এ নৌরুট ব্যবহার করলেও রোটেশন ব্যবস্থার কারণে প্রতিযোগিতামূলক সেবা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যাত্রীদের কেবিন বুকিং, সেবার মান এবং সময়সূচি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। বিশেষ করে অসুস্থ, নারী, শিশু ও জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারী যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এতে অভিযোগ করা হয়, কেবিন বুকিং ব্যবস্থায় পর্যাপ্ত স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা না থাকায় যাত্রীরা নানা ধরনের হয়রানি ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের শিকার হচ্ছেন। এছাড়া রোটেশন পদ্ধতির ফলে যাত্রীদের স্বাধীনভাবে পরিবহন সেবা গ্রহণের অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে, যা ভোক্তা অধিকার ও সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
লিগ্যাল নোটিশে বাংলাদেশ সংবিধানের ২৭ ও ৩১ অনুচ্ছেদ, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এবং Inland Shipping Ordinance, 1976-এর বিভিন্ন বিধানের উল্লেখ করে বলা হয়, যাত্রীসেবা ও নৌযান পরিচালনায় স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা এবং জনস্বার্থ নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।
নোটিশে ১৫ দিনের মধ্যে কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে বেতুয়া-ঢাকা নৌরুটে রোটেশন পদ্ধতি বাতিল বা পুনর্বিবেচনা, যাত্রীদের পছন্দমতো লঞ্চে যাতায়াতের সুযোগ নিশ্চিত করা, কেবিন বুকিংয়ে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা, কেবিন ভাড়া ও সংখ্যা প্রকাশ এবং যাত্রীসেবা সংক্রান্ত তথ্য দৃশ্যমানভাবে প্রদর্শনের ব্যবস্থা গ্রহণ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে জনস্বার্থ ও সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় উচ্চ আদালতে রিট আবেদনসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
অ্যাডভোকেট আবদুল বাছেদ শামীম বলেন, যারা জনস্বার্থের বিরুদ্ধে বেতুয়া – ঢাকা নৌরুটে রোটেশন করেছে তাদের ছাড় নেই।অবিলন্বে ১৫ দিনের মধ্যে রোটেশন প্রথা বাতিল করে সন্তোষজনক জবাব না দিলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।
















