নতুন পে-স্কেলে বেতন অনিশ্চয়তায় চরফ্যাশনের ২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষক

আবু সিদ্দিক, ভোলা প্রতিনিধি:

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় সার্ভিস বুক হালনাগাদ না হওয়ায় নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী বর্ধিত বেতন পেতে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন দুই হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক।

চরফ্যাশন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা ও সময়মতো প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কার্যক্রম সম্পন্ন না হওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ শিক্ষকদের। এতে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে তাঁদের মধ্যে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন নির্ধারণ, পদোন্নতি ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করতে সার্ভিস বুক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি। চাকরিতে যোগদানের তারিখ, শিক্ষাগত যোগ্যতা, পদোন্নতি, প্রশিক্ষণ ও বেতনসংক্রান্ত তথ্য এতে সংরক্ষিত থাকে। নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রেও সার্ভিস বুকের তথ্য হালনাগাদ থাকা জরুরি।

ভুক্তভোগী শিক্ষকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সার্ভিস বুক হালনাগাদসহ প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কাজ যথাসময়ে সম্পন্ন না হওয়ায় নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী বর্ধিত বেতন পাওয়ার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সময়মতো প্রশাসনিক কার্যক্রম শেষ না হওয়ায় এখন তাঁদের প্রাপ্য আর্থিক সুবিধা পেতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অথচ এ কাজ সংশ্লিষ্ট শিক্ষা অফিসের নিয়মিত প্রশাসনিক দায়িত্বের অংশ।
ভুক্তভোগী শিক্ষকদের ভাষ্য, শ্রেণিকক্ষে পাঠদানসহ বিদ্যালয়ের নানা দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি চাকরিসংক্রান্ত নথিপত্র ও বেতন-ভাতার বিষয়ে তাঁদের শিক্ষা অফিসের ওপর নির্ভর করতে হয়। সার্ভিস বুক হালনাগাদের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ সময়মতো সম্পন্ন না হলে এর দায় সাধারণ শিক্ষকদের ওপর পড়া উচিত নয়।

নতুন পে-স্কেল কার্যকরের বিষয়টি আগে থেকেই জানা থাকলেও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি কেন যথাসময়ে নেওয়া হয়নি, সে প্রশ্নও তুলেছেন তাঁরা। এ বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বললেন, সময়স্বল্পতার কারণে যথাসময়ে সব কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। তবে শিক্ষা কর্মকর্তার এ বক্তব্যের পরও সময়মতো কার্যক্রম শেষ করতে না পারার কারণ ও এর প্রভাব নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে অনেক প্রশ্ন রয়েছে। তাঁদের দাবি, জনবলসংকট কিংবা অতিরিক্ত দাপ্তরিক চাপ থাকলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা নিয়ে সমস্যার সমাধান করা যেত। কিন্তু প্রশাসনিক বিলম্বের কারণে দুই হাজারের বেশি প্রাথমিক শিক্ষককে আর্থিক সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তায় রাখা সমীচীন নয়। সার্ভিস বুক হালনাগাদ, বেতন নির্ধারণসহ সংশ্লিষ্ট সব দাপ্তরিক কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি শিক্ষকদের।

Facebook Comments Box