দূর্ণীতিবাজ চৌধুরী নাফিজ সারাফাত পদ্মা ব্যাংকের চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়কালে ব্যাংকের চাকুরীচ্যুতদের পূনর্বহালের দাবীতে ঢাকায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। রবিবার শাহবাগে এ মানববন্ধন করেন অত্র ব্যাংকের ফোর্স রিজাইন এবং টারমিনেটিকৃত সাবেক নির্বাহী ও কর্মকর্তাবৃন্দরা।
এতে প্রধান সমন্বয়ক জনাব মেজবাউল আলম তার সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় বলেন, গত ২৭-০৮-২০১৪ ইং তারিখে আমরা পদ্মা ব্যাংকের গুলশানস্থ প্রধান কার্যলয়ের সামনে মানব বন্ধন শেষে ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কাজী মো: তালহা সাহেবের সাথে সাক্ষাত শেষে কর্মকর্তাদের দাবী-দাওয়া সম্বলিত স্মারকলিপি পেশ করেন। জনাব তালহা কর্মকর্তাদের আশ্বস্ত করেন অন্যায় ভাবে চাকুরীচ্যুতদের পূনর্বহাল করবেন এবং অন্যান্য দাবী দাওয়াগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন। কিন্তু, পরিতাপের বিষয় আমরা ওনাকে সময় দিয়েছিলাম ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দূর্নীতিবাজ সাবেক চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিজ সারাফাতের আজ্ঞাবহ পরিচালনা পর্ষদ ভেঙ্গে দিতে হবে, কিন্তু তিনি তাও করেন নাই।
আমরা আরো বলেছিলাম, চৌধুরী নাফিজ সারাফাতের পদ্মা ব্যাংক হতে অর্থ লুটপাটের সহায়তাকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে, উনি তাও করে নাই।
আমরা আজকের এই মানব বন্ধন থেকে দাবী জানাই, অন্যায় ভাবে চাকুরীচ্যুতদের ০৩-০৯-২০২৪ তারিখের মধ্যে তাদের পূনর্বহাল করতে হবে।
তিনি আরো উল্লেখ করেন, বিগত ম্যানেজমেন্ট এর মানব বন্ধনকারীদের চাকুরীচ্যুত করার প্রধান কারণই ছিলো ব্যাংকটিতে নিজের লোকজনের একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা এবং দূর্নীতির পথ সুগম করা।
চৌধুরী সাহেবের বন্ধু সাব্বির মোহাম্মদ সায়েম মিরপুর শাখার ব্যবস্থাপক থাকার সময় ঐ শাখা থেকে নামে বেনামে ১২০ কোটি টাকা লোপাট করে। কিন্তু তার বিরুদ্ধে এখনো কোন ব্যবস্থা গ্রহন হয় নাই, উপরন্তু তাকে পদোন্নতি দিয়ে গুলশান কর্পোরেট শাখার ব্যবস্থাপক বানিয়ে আরো অর্থ লুটপাট করেছে। আমাদের দাবী জনাব সাব্বির সায়েম কে আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে বরখাস্ত করে তদন্তপূর্বক আইনি ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।
চৌধুরী নাফিজ সারাফাত এই ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে এই ব্যাংকের মাসিক বেতন ভাতাদি বাবদ ব্যয় হতো প্রায় ৩ কোটি টাকা। চৌধুরী সাহেব দায়িত্ব গ্রহন করার পরে উনি উনার পছন্দের লোকদের উচ্চ বেতনে নিয়োগ দেওয়ার কারনে এর ব্যয় দাড়িয়েছে মাসে প্রায় ৭ সাত কোটি টাকা। এই কয়েক বছরে প্রায় ১৫০/২০০ কোটি টাকা অপচয় হয়েছে। অথচ, ফলাফল নেগেটিভ। এই অপচয়ের কারণ অনুসন্ধান করে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।
আমরা প্রতিনিয়তই প্রিন্ট এবং ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় পদ্মা ব্যাংক থেকে চৌধুরী নাফিজ সারাফাত কর্তৃক বিপুল পরিমান অর্থ লোপাটের খবর পাচ্ছি। কিন্তু কোন এক অদৃশ্য কারনে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় নাই। আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি জোর দাবী জানাই অনতিবিলম্বে একটি সৎ ও দক্ষ অডিট টিম পাঠিয়ে পূর্নাঙ্গ তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত আইনী ব্যবস্থা গ্রহন করুন।
আমরা সকলেই জানি পদ্মা ব্যাংক বার বার সংকটে পড়ার মূল কারনই হচ্ছে দূর্নীতি, যদি পদ্মা ব্যাংক থেকে দূর্নীতিগ্রস্থ পরিচালক ও কর্মকর্তাদের বিতারিত করা না হয়, পদ্মা ব্যাংক রুগ্ন থেকে মৃত্যুর দিকেই ধাবিত হবে।
















