ব্যবসা সহজীকরণে পাঁচ বছর মেয়াদী ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়ন কার্যক্রম শুরু করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ঢাদসিক)। বৃহস্পতিবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (ডিসিসিআই) এর মিলনায়তনে আয়োজিত ২ সপ্তাহব্যাপী (৬-২০ জুলাই) ‘ট্রেড লাইসেন্স সেবা বুথ স্থাপন’ এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ৫ বছর মেয়াদি ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়ন সুবিধা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।
কামরাঙ্গীরচরকে একটি কেন্দ্রীয় বাণিজ্যিক অঞ্চল হিসেবে গড়ে তুলতে গৃহিত পরিকল্পনা উল্লেখ করে শেখ তাপস বলেন, “প্রত্যেক শহরের একটি সেন্ট্রাল বিজনেস ডিস্ট্রিক্ট বা ফাইন্যান্সিয়াল হাব থাকে। ঢাকা যখন স্থাপিত হয় তখন চকবাজার ফিনান্সিয়াল হাব হিসেবে স্থাপিত হয়। কিন্তু ঢাকাকে নিয়ে কোনো সময় সুপরিকল্পিত নগরায়নের চিন্তা করা হয়নি। যে কারণে চকবাজারের সেই জৌলুস বা কার্যক্রম এখন ধীরে ধীরে স্নান হয়ে গেছে। পরবর্তীতে মতিঝিলকে ফিন্যান্সিয়াল ডিস্ট্রিক্ট হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। কিন্তু কালের বিবর্তনে মতিঝিলও তার সেই জৌলুস হারিয়েছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন থেকে শহর পরিকল্পনার লক্ষ্যে মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে জানিয়ে মেয়র আরো বলেন, যার মাধ্যমে আমরা চকবাজারকে আবার পুনরুজ্জীবিত করতে চাই। আমরা চাই সেটা ব্যবসায়িক প্রাণকেন্দ্র হিসেবে আবার মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। মতিঝিলকে আমরা আবার পুনরুজ্জীবিত করতে চাই। সেগুলো বাস্তবায়নে আমরা এ বছর থেকেই কার্যক্রমে যাবো। এছাড়াও স্মার্ট বাংলাদেশের যে রূপকল্প, তার আলোকে আমরা কামরাঙ্গীরচরকে একটি সেন্ট্রাল বিজনেস ডিস্ট্রিক্টে রূপান্তরিত করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি।
শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, ব্যবসা সহজীকরণের একটি বড় দাবি ছিল আমাদের ব্যবসায়ী সমাজের। বাণিজ্য অনুমতি (ট্রেড লাইসেন্স) প্রত্যেক বছর নবায়ন করতে হয়। এই বিষয়টি তাদের (ব্যবসায়ীদের) অনেক সময় মনে থাকে না অথবা দেখা যায় যে বছরের শেষ প্রান্তে এসে করতে হয়। সেসব বিষয়কে সহজীকরণ করার জন্য আইন অনুযায়ী ডিজিটাল প্লাটফর্মের মাধ্যমে আমরা প্রথমবারের মতো ৫ বছর মেয়াদী ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়নের কার্যক্রম আজ হতে শুরু করলাম। এখন থেকে যে কোনো ব্যবসায়ী বাণিজ্য অনুমতি নেওয়ার পরে ১ বছর, ২ বছর, ৩ বছর বা ৪ বছর অথবা সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্ত নবায়ন সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে।
এ সেবা প্রথম ডিসিসিআই এর মাধ্যমে শুরু হলো জানিয়ে শেখ তাপস বলেন, “এই সেবা, এ সুযোগে এই অর্থ বছরের আজ থেকে আমরা শুরু করছি এবং এই অর্থ বছরের প্রথম সেবাদান কার্যক্রম ঢাকা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সদস্যদের দিয়েই আমরা শুরু করছি। ঢাকা চেম্বার দিয়েই শুরু করছি, কারণ, আমি মনে করি, ঢাকা শহরের ব্যবসা-বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ঢাকা চেম্বার দীর্ঘদিন ধরে তার অবস্থান করে নিয়েছে। ঢাকা চেম্বার ঢাকা শহরের ব্যবসা-বাণিজ্যের নেতৃত্বদানকারী প্রতিষ্ঠান। প্রতি বছরের জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে দুই সপ্তাহ ব্যাপী এখানে একটি বুথ দিয়ে রাজস্ব সেবা আমরা নিশ্চিত করব। অনুষ্ঠানে ডিসিসিআই সভাপতি ব্যারিস্টার মো. সমীর সাত্তার, করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান এবং ডিসিসিআই এর সেক্রেটারি জেনারেল আনসারুল আরিফিন, করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আরিফুল হক ও ডিসিসিআইয়ের বোর্ড অব ডাইরেক্টরস এর নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।














