হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের স্বার্থ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অধিকার, নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় সরকার ও বিরোধী দলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে বলে জানিয়েছেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি। তিনি বলেন, বাংলাদেশ আমাদের সবার প্রিয় জন্মভূমি। এদেশে আমরা কেউ সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু নই। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী আমরা সবাই বাংলাদেশি এবং এ দেশের গর্বিত নাগরিক। দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা আমাদের সবার পবত্রি দায়িত্ব। দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য হাতে হাত রেখে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এক সাথে কাজ করতে হবে। বুধবার বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে হিন্দু ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় সভায় ডা. শফিকুর রহমান এমপি এসব কথা বলেন। আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজার প্রাক্কালে আয়োজিত এ সভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের অধিকার, নিরাপত্তা, বিভিন্ন সমস্যা ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য জনাব মোবারক হোসাইন ও ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি প্রমুখ। হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের সভাপতি অ্যাডভোকেট দীনুবন্ধু রায়, মহাসচিব অ্যাড. গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক, প্রেসিডিয়াম সদস্য নারায়ণ চন্দ্র সরকার, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পার্থ সারথী ঘোষ এবং যুগ্ম মহাসচিব অমল চৌধুরীসহ অন্য প্রতিনিধিরা, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি অ্যাড. সুব্রত চৌধুরী ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথসহ অন্য প্রতিনিধিরা, বাংলাদেশ পূজা উপদাপন পরিষদের সভাপতি সাংবাদিক বাসুদেব ধর ও সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সন্তোষ শর্মাসহ অন্য প্রতিনিধিরা, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি অর্পনা রায় ও সাধারণ সম্পাদক মিন্টন বৈদ্যসহ অন্য প্রতিনিধিরা, মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি গোপাল চন্দ্র দেবনাথ ও সাধারণ সম্পাদক শুভাশীষ কুমার বিশ্বাস সাধনসহ অন্য প্রতিনিধিরা, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সভাপতি তপন চন্দ্র মজুমদারসহ অন্য প্রতিনিধিরা, আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ ভাবনামৃত সংঘের সভাপতি সত্যরঞ্জন বাড়ৈ ও সাধারণ সম্পাদক চারু চন্দ্র দাশ ব্রহ্মচারীসহ অন্য প্রতিনিধিরা, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের (প্রভাষ-পলাশ) সভাপতি ড. প্রভাস চন্দ্র রায় ও নির্বাহী মহাসচিব পলাশ কান্তি দে-সহ অন্য প্রতিনিধিরা, বাংলাদেশ ঋষি পঞ্চায়েত ফোরামের সভাপতি রামানন্দ দাস ও সাধারণ সম্পাদক রাজ কুমার দাসসহ অন্য প্রতিনিধিরা, বাংলাদেশ সনাতন পার্টির সভাপতি আশিষ রঞ্জন দাস ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. সুমন কুমার রায়সহ অন্য প্রতিনিধিরা, বাংলাদেশ রবিদাস ফোরামের সভাপতি চাঁদমোহন রবিদাস ও সাধারণ সম্পাদক শিপন রবিদাস প্রাণকৃষ্ণসহ অন্য প্রতিনধিরা, ভোলানন্দগিরি আশ্রম ট্রাস্টের সভাপতি অ্যাড. সুব্রত চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক ননী গোপাল মজুমদারসহ অন্য প্রতিনিধিরা, বাংলাদেশ রবিদাস উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি দিলীপ রবিদাস ও সাধারণ সম্পাদক ফুল চাঁদ রবিদাসসহ অন্য প্রতিনিধিরা, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সভাপতি মি. জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ও সাধারণ সম্পাদক মি. সঞ্জিব দ্রংসহ অন্য প্রতিনিধিরা, বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদের সভাপতি কৃষ্ণলাল ও সাধারণ সম্পাদক নির্মল দাশসহ অন্য প্রতিনিধিরা, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু সমাজ সংস্কার সমিতির সভাপতি অধ্যাপক হীরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক সোমনাথ দে ও সাংবাদিক সুজন দেসহ অন্য প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী সুব্রত চৌধুরীসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা সভায় অংশ নেন।

মতবিনিময় সভা শেষে এক সংক্ষিপ্ত প্রেস ব্রিফিংয়ে বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের বিষয়বস্তু তুলে ধরে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের-পরবর্তী সময়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুষ্ঠান, পূজামন্ডপ ও মন্দিরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা যে সহযোগিতা ও ভূমিকা রেখেছেন, তা হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ প্রশংসা করেছেন। তাঁদের বিভিন্ন সমস্যা, বৈষম্য, বঞ্চনা ও অসুবিধার কথা সভায় তুলে ধরা হয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে সরকার ও বিরোধী দল সম্মিলিতভাবে কাজ করবে বলে বিরোধীদলীয় নেতা তাঁদের আশ্বস্ত করেছেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের বক্তব্য ও সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। তাঁদের সঙ্গে ভবিষ্যতেও মতবিনিময় অব্যাহত থাকবে এবং তাঁদের পাশে থেকে দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা করা হবে। মতবিনিময় সভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের পক্ষে বক্তব্য দেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী। হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে শুধু বক্তব্যে নয়, বাস্তবেও সব নাগরিকের সমান অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে। তাঁরা তাঁদের বিভিন্ন সমস্যা ও বঞ্চনার বিষয় তুলে ধরে এসব সমাধানে সরকার ও বিরোধী দলকে সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। মতবিনিময় সভায় উভয় পক্ষ পারস্পরিক যোগাযোগ, সহযোগিতা ও সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

Facebook Comments Box