ভূমিকম্প দুর্যোগ মোকাবেলায় ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড কঠোরভাবে মানার বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশ উচ্চ মাত্রার ভ‚মিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে। ফলে সরকার নিরাপদ নগরী গঠনের লক্ষ্যে ভ‚মিকম্প জনিত দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে কাজ করে যাচ্ছে। বুধবার রাজধানীর পূর্ত ভবনের সম্মেলন কক্ষে “তুরস্কে সংগঠিত ভূমিকম্প থেকে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশে ভূমিকম্প ঝুঁকি হ্রাসের লক্ষ্যে করণীয়, বিএনবিসির প্রয়োগ এবং স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারদের রেজিস্ট্রেশনের প্রয়োজনীয়তা” শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
ভূমিকম্প দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড মেনে চলার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, ঝড়-বৃষ্টি এবং টর্নেডোর মত প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি বাংলাদেশ উচ্চ মাত্রার ভ‚মিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রতি ১০০-১৫০ বছরের ইতিহাসে দেশ বড় ধরনের ভূমিকম্প আক্রান্ত হয়েছে। বাংলাদেশ এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চল ১৮৯৭ সালের গ্রেট আসাম ভ‚মিকম্পসহ অনেক বড় ভ‚মিকম্পের সম্মুখীন হয়েছে। শরীফ আহমেদ বলেন, কোন ধরনের পূর্বাভাস ছাড়া ভ‚মিকম্পের মত প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটে থাকে বলে বড় মাত্রার যেকোনো ভ‚মিকম্প ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ ঘটাতে পারে। তাই এর জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার সর্বোত্তম উপায় হল ভবনগুলোকে বিল্ডিং কোড অনুযায়ী ভ‚মিকম্প সহনীয় করে ডিজাইন করে শক্তিশালী করা।
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ভবিষ্যতে আমাদের দেশে তুরস্কের মত ভয়াবহ দুর্ঘটনা যাতে না ঘটে সেজন্য এখনি যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সবাইকে আইনের প্রতি আরো শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। এ ব্যপারে আইনের কঠোর প্রয়োগের ওপর সরকার গুরুত্বারোপ করছে।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী জনাব মোঃ শামীম আখতারের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এস কে ঘোষ এসোসিয়েটস এলএলসি, আইসিসির, প্রেসিডেন্ট ড. সত্যেন্দ্র কুমার ঘোষ, স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ইউআরপি এর প্রকল্প পরিচালক জনাব আব্দুল লতিফ হেলালী। সেমিনারে সরকারি/ বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তর সংস্থার শতাধিক প্রকৌশলী অংশগ্রহণ করেন।














