ভারতের প্রতি বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার বার্তা জামায়াতের

ভারতের প্রতি বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, আমরা কেউ বিপদে পড়তে চাই না। আমরা চাই সকলেই সকলের সম্মানিত প্রতিবেশী হিসেবে বাস করুক। এটা শুধু ভারত দিয়ে কথা নয় সকলের ক্ষেত্রে আমাদের একই কথা। বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সম্পাদক, প্রধান নির্বাহী, বার্তা সম্পাদক ও প্রধান প্রতিবেদকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন। নয়া দিগন্তের সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন, মানব জমিনের নির্বাহী সম্পাদক শামীমুল হক, এটিএন বাংলার পরিচালক (বার্তা) হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ, বাংলা ভিশনের প্রধান সম্পাদক আবদুল হাই সিদ্দিক, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, সাংবাদিক নেতা আবদুল হাই শিকদার, এমএ আজিজ, এলাহী নেওয়াজ খান সাজু এই মত বিনিময়ে ‘মুক্ত গণমাধ্যম’ বিষয়ে বক্তব্য রাখেন।

বন্ধু হিসেবে আমাদের সাহায্য করুন উল্লেখ করে জামাতের আমির বলেন, কিন্তু মেহেরবানি করে কেউ আমাদেরকে বাধ্য করার চেষ্টা করবেন না। ডিসিশনটা আমাদের জনগণকে নিতে দিন। জনগণ যখন ডিসিশন নেবে তখন সেই ডিসিশন জনকল্যাণমূলক হবে, এটাই হবে গণতন্ত্রের পক্ষে, জনগণের অধিকারের পক্ষে। কিন্তু অন্য জায়গা থেকে যদি আমাদেরকে বাধ্য করার চেষ্টা করেন তাহলে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হব।

আপনার স্বভাব বদলান তাহলে প্রতিবেশী বদলানোর দরকার পড়বে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, প্রতিবেশীকে প্রতিবেশী হিসেবে আপনি রিসিভ করুন, তার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করুন। আপনি যখন কাউকে সম্মান করবেন, ভালোবাসবেন, আপনার পাওনা হয়ে যাবে তার থেকে ভালোবাসা পাওয়া, সম্মান পাওয়া। এজন্য ধৈর্য ধরতে হবে, অস্থির হওয়ার কিছু নেই। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের পক্ষে অস্ত্র ধরে রাজাকার, আলবদর বাহিনী গড়ে তুলে গণহত্যায় সহযোগিতা করা জামায়াতের আমির বলেন, “আমার খুব ব্যাথা লাগে যখন একদল বলে ‘পাকিস্তানি রাজাকার’, আরেক দল বলে ‘হিন্দুস্থানি রাজাকার’ৃ খুব কষ্ট লাগে। আমার দেশের জনগণকে আরেক দেশের দালাল বানাচ্ছি, রাজাকার বানাচ্ছি কেন এটা করছি? এটা যারা করে তাদের ‘মানসিকতার পরিবর্তন হওয়া উচিত’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, “যে জাতি নিজের নাগরিকের স্বীকৃতিই দেয় না সেই জাতি বিশ্বের দরবারে সম্মানটা পাবে কীভাবে? আপনাদের মত আমারও কিছু কিছু দেশে যাওয়ার সুযোগ হয়েছে। সেই দেশের লোকেরা তাদের ভাষার বাইরে কারও সঙ্গে কথা বলতে চায় নাৃ ইন্টারন্যাশনাল ল্যাংগুয়েজ দুই একটা আছে সেটা তারা জানে কিন্তু বলে না। তাদের জাতীয়তাবাদ এতটাই দৃঢ়। আমরা দেখি যে, জাতীয় জীবনে কোনো মুহূর্ত আসলে তারা এক হয়ে যায়। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর একের পর এক হত্যা মামলায় দল ও শরিক দলের শীর্ষস্থানীয় নেতা, ক্ষমতাচ্যুত সরকারের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদেরকে আসামি করার বিষয়টি নিয়েও কথা বলেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, গণহারে একটা হত্যা মামলায় পাঁচশ জনকে আসামি করা হয়ৃ এটা কতটুকু যৌক্তিক এটা শতবার চিন্তা করা উচিত। তবে এর আড়ালে কিন্তু মূল ব্যক্তিটির বেঁচে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়ে যাচ্ছে। আমরা বলেছি, আমরা সবার চাইতে মজলুম বেশি এত মামলার প্রয়োজন নেই। সিম্বলিক কিছু মামলাই মানুষের শিক্ষার জন্য যথেষ্ট। কিন্তু সেই মামলায় একজনও নিরপরাধ মানুষ যাতে অভিযুক্ত না হয় সে ব্যাপারে শতভাগ নিশ্চিত হতে হবে। ১০ জন ঠিক আছে, একজন বেঠিক। এই একজনের ওপরে যদি জুলুম হয় আমরা জুলুম করতে চাই না। তারপরে অনিচ্ছা সত্ত্বেও কোনো ভুল হয়ে যায়, আপনাদের কাছে ধরা পড়ে আমাদেরকে বলে দেবেন আমরা সংশোধিত হব কথা দিচ্ছি।

জামায়াত দেশ থেকে হিংসা-বিভক্তি রাজনীতির অবসান চায় বলেও মন্তব্য করেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, আমরা হিংসা রাজনীতির কবর চাই এটা আর মাথাচাড়া দিয়ে না উঠুক, আমরা বিভক্তি রাজনীতির কবর চাইৃ এটাও মাথাচাড়া দিয়ে না উঠুক। কোনো বিষয়ে আমরা জাতির বিভক্তি চাই না। সকল ক্ষেত্রে আমরা চাই, জাতি ঐক্যবদ্ধ থাকুক। রাজনৈতিক দল হিসেবে কারো কোনো ক্ষোভ নেই মন্তব্য করে জামায়াতের আমির বলেন, আমরা সবাইকে ক্ষমা করে দিলাম। কিন্তু যিনি সুনির্দিষ্ট ক্রাইম করেছেন, তার ওই নির্দিষ্ট ক্রাইমের বিচার যদি নিশ্চিত না হয় তাহলে সমাজ সংশোধন হবে না। তা অন্য রকম হয়ে যাবে, বেপরোয়া হয়ে যাবে। এজন্য এটা ন্যায্যতা দাবি, ন্যায় বিচারের দাবি, সভ্যতার দাবি, সামাজিকতার দাবি, শান্তির দাবি। জামায়াতের নায়েবে আমির মজিবুর রহমান, সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম খান, হামিদুর রহমান আযাদ, এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, ঢাকা মহানগরের দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল, উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন, প্রচার ও মিডিয়া সেক্রেটারি মতিউর রহমান আখন্দও মত বিনিময়ে উপস্থিত ছিলেন।

Facebook Comments Box