ঢাকা মহানগরীর জনসংখ্যার চাহিদার তুলনায় আমাদের শিশু-কিশোর-কিশোরীদের পার্ক, খেলার মাঠ, গণপরিসর এর সংখ্যা অত্যন্ত অপ্রতুল। বিশেষ করে রাজধানীর অনুন্নত ও অপরিকল্পিত এলাকায় পার্ক, খেলার মাঠের তীব্র সংকট রয়েছে। পার্ক, খেলার মাঠ, গণপরিসর এর সুবিধাদির ক্ষেত্রে এলাকাভিত্তিক বৈষম্য দৃশ্যমান। উন্নয়নকৃত খেলার মাঠ পার্ক অনেক ক্ষেত্রে বিশেষ মহলের নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে। এছাড়া, বাণিজ্যিক ব্যবহার বাড়ছে, ফলে বাড়ছে বৈষম্য। উন্নয়নকৃত খেলার মাঠ, পার্ক এ ক্ষেত্রবিশেষে প্রবেশাধিকার অত্যন্ত সংকুচিত। ঘাস নষ্ট হয়ে যাবার অজুহাতে অনেক খেলার মাঠে খেলতে দেয়া হয়না। অথচ রাজধানীতে প্রত্যেক নাগরিকের জন্য ৯ বর্গমিটার খেলার মাঠ, পার্ক থাকা প্রয়োজন।
বুধবার ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং এন্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি), সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশ এবং নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরাম বাংলাদেশ এর যৌথ আয়োজনে বনানীর এক হোটেলে অনুষ্ঠিত ঢাকা মহানগরীর খেলার মাঠ-পার্ক-গণপরিসর সুবিধাদির এলাকাভিত্তিক সুযোগের সমতা নিশ্চিত করতে টেকসই পরিকল্পনা” শীর্ষক নগর সংলাপএ বক্তারা এসব কথা বলেন।
পরিকল্পনামাফিক নতুন খেলার মাঠ পার্ক তৈরির উদ্যোগ অতি স্বল্প উল্লেখ করে বক্তারা আরো বলেন, পুরনো খেলার মাঠ পার্ক এর উন্নয়ন প্রকল্প নেয়া হয়েছে যা সাধুবাদযোগ্য; এই উদ্যোগে কিছু এলাকায় এলাকাবাসীর খেলা ও বিনোদনের সুযোগ-সুবিধা বেড়েছে। আবার এধরনের প্রকল্প অনেক ব্যয়বহুল এবং ভারী নকশার কারণে পার্ক-খেলার মাঠ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকছে। এ ধরনের পার্ক-খেলার মাঠের রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত ব্যয়বহুল হয়ে দাঁড়িয়েছে। মূল প্রবন্ধে আইপিডি’র নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, খেলার মাঠকে আধুনিক নগর পরিকল্পনায় বিনোদন সুবিধার পাশাপাশি স্বাস্থ্য অবকাঠামো হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সেন্টার ফর ডিসিজ কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) বলছে শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য প্রতিদিন ন্যূনতম ১ ঘন্টা করে খেলাধূলা ও শারীরিক সক্রিয় কর্মকাণ্ড সম্পৃক্ত থাকা প্রয়োজন। তিনি বরেন, প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য ন্যূনতম ৯ বর্গমিটার খেলার মাঠ, পার্ক থাকা উচিত। এই হিসেবে প্রতি এক হাজার মানুষের জন্য সোয়া দুই একর খোলা জায়গা এবং এক একর খেলার মাঠের প্রয়োজন। ইউএন-হ্যাবিটেট এর মতে হাঁটা দূরত্বে খেলার মাঠ, সবুজ এলাকা থাকা উচিত। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পরিকল্পনার মানদণ্ড অনুযায়ী যে কোন আবাসন এলাকার ন্যূনতম ১০ ভাগ খেলার মাঠ-পার্ক প্রভৃতি সুবিধাদির জন্য বরাদ্দ থাকা প্রয়োজন। অতি ঘন নগর এলাকায় প্রতি অর্ধ বর্গ কিমি এলাকায় জনসংখ্যা বিবেচনায় ন্যূনতম একটি খেলার মাঠ থাকা প্রয়োজন। বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতায় মেয়েদের খেলার সুযোগ নিশ্চিত করতে এলাকাভিত্তিক বিশেষায়িত খেলার মাঠ তৈরি করতে পারলে মেয়েদের খেলাধূলার সুযোগ বাড়ানো সম্ভব। ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং এন্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি) স¤প্রতি এক সমীক্ষা প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে অধ্যাপক আদিল বলেন, নগর পরিকল্পনার মানদন্ড অনুযায়ী ঢাকা মহাগরীতে ৭৯৫, চট্টগ্রামে ৫৪১, রাজশাহীতে ৩৭, খুলনাতে ৬৫, সিলেটে ৪০ ও বরিশালে ৪৫ টি খেলার মাঠের ঘাটতি রয়েছে।
আইপিডি উপদেষ্টা অধ্যাপক আকতার মাহমুদ বিনোদন অধিকারকে মৌলিক অধিকার দাবী করে বলেন, স্বল্প আয়ের মানুষসহ নগরের সকল এলাকা ও শ্রেণী-পেশার মানুষের জন্য সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে খেলার মাঠ-পার্ক সুবিধাদি নিশ্চিত করতে হবে। উত্তরা, বনানীর মত পরিকল্পিত এলাকায় বিনোদন সুবিধাদি বৃদ্ধি না করেই জনসংখ্যা ও জনঘনত্ব নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বাড়তে দেয়া হচ্ছে, ফলে এসব এলাকার বাসযোগ্যতা কমছে। আইপিডি উপদেষ্টা অধ্যাপক আকতার মাহমুদ বিনোদন অধিকারকে মৌলিক অধিকার দাবী করে বলেন, স্বল্প আয়ের মানুষসহ নগরের সকল এলাকা ও শ্রেণী-পেশার মানুষের জন্য সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে খেলার মাঠ-পার্ক সুবিধাদি নিশ্চিত করতে হবে। উত্তরা, বনানীর মত পরিকল্পিত এলাকায় বিনোদন সুবিধাদি বৃদ্ধি না করেই জনসংখ্যা ও জনঘনত্ব নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বাড়তে দেয়া হচ্ছে, ফলে এসব এলাকার বাসযোগ্যতা কমছে। এসময় নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরাম বাংলাদেশ এর সভাপতি সাংবাদিক অমিতোষ পাল, সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশ এর পরিচালক (হিউম্যানিটারিয়ান) মো. মুশতাক হোসেন নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরাম বাংলাদেশ এর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক ফয়সাল খান, আইপিডি পরিচালক মো. আরিফুল ইসলাম, কলাবাগান এর তেতুলতলা মাঠ আন্দোলন এর সংগঠক সৈয়দা রত্মা প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।














