বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ইমার্জেন্সি মাল্টি সেক্টর রোহিঙ্গা ক্রাইসিস রেসপন্স প্রজেক্টের আওতায় প্রশিক্ষণ নিতে ৯ কর্মকর্তা বিদেশে গেছেন। নেতৃত্ব দিচ্ছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুল হাসান। তাদের ২৯ নভেম্বর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২১ নভেম্বর এ ৯ কর্মকর্তা তুরস্ক, জার্মানি ও সুইডেন সফরে যান। সরকারের আরও ২৫ কর্মকর্তা রোহিঙ্গা সংকট ব্যবস্থাপনা শিখতে কানাডা, তুরস্ক ও জার্মানি যাওয়ার অপেক্ষায় আছেন।
উল্লিখিত ২৫ কর্মকর্তার মধ্যে কানাডা যাবেন ১২ জন। তাদের বিদেশ সফরে যাওয়ার জন্য ইতোমধ্যে সরকারি আদেশ (জিও) জারি হয়েছে। তবে তারা এখনই যাচ্ছেন না।
সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, কানাডায় এখন অনেক শীত পড়েছে। শীত কমলে এ কর্মকর্তারা সুবিধাজনক সময়ে দেশটিতে সফরে যাবেন।
বাকি ১৩ কর্মকর্তা যাবেন তুরস্ক ও জার্মানিতে। তাদের বিদেশ ভ্রমণের প্রস্তাবটি অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে বলে সূত্র জানিয়েছে। চলমান অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে রোহিঙ্গা সংকট ব্যবস্থাপনা শিখতে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণের সমালোচনা করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
তারা বলছেন, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা নাগরিকদের জন্য বাংলাদেশ সরকার ভাসানচরে থাকার ব্যবস্থা করেছে। উন্নয়ন সহযোগীদের সহযোগিতায় কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের সব ধরনের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এখন বাংলাদেশ সরকারের পূর্ণ মনোযোগ দেওয়া উচিত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে।
তবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর হচ্ছে বিশ্বব্যাংকের অনুদানের অর্থে। এখানে সরকারি অর্থায়নের কোনো বিষয় নেই। তাছাড়া প্রকল্পে বিদেশ ভ্রমণের জন্য আলাদা অর্থ ধরা আছে। সে জন্যই কর্মকর্তারা বিদেশ সফরে যাচ্ছেন।
সচিব কামরুল হাসানের নেতৃত্বে এখন তিন দেশ সফরে থাকা অন্য কর্মকর্তারা হলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক-২ শহীদুল ইসলাম, প্রকল্পের পরিচালক এটিএম মাহবুব উল করিম, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) পরিচালক মুহাম্মদ মিজানুর রহমান সরকার, প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমানের একান্ত সচিব হুমায়ুন কবীর, জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব শামীম রহমান, প্রীতম সাহা, মনজুর আলম ও সুজিত কুমার চন্দ। মন্ত্রণালয় সূত্র ও জিও থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, এ সফরে প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমানের যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তিনি নাম প্রত্যাহার করে নেন।
প্রকল্পের আওতায় বিদেশ ভ্রমণে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা কর্মকর্তাদের মধ্যে আছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মিজানুর রহমান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাসান সারওয়ার, কেএম আবদুল ওয়াদুদ, এবিএম সফিকুল হায়দার।
এছাড়া এ তালিকায় পরিকল্পনা কমিশন, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি), অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এবং শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়ের কর্মকর্তা আছেন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান জানান, আন্তর্জাতিক বা উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়নের ক্ষেত্রে শর্তসাপেক্ষে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। এ প্রকল্পে যেহেতু বিশ্বব্যাংক অনুদান দিচ্ছে, তাই সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
তবে একটি সূত্র জানায়, বিশ্বব্যাংকের অনুদানে সরকারি কর্মকর্তারা এ সফরে যাক তা চাননি প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান। তিনি আপত্তি জানালেও শেষ পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যাপক আগ্রহের কারণে ছাড় দিতে হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোহিঙ্গাদের জন্য সরকার ভাসানচর, টেকনাফ ও উখিয়ায় সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে। সরকারি কর্মকর্তারা বিদেশ ভ্রমণে গিয়ে কী শিখবেন, আর কী প্রয়োগ করবেন তা সবাই জানেন ও বোঝেন। কর্মকর্তারা যদি বিশ্বব্যাংকের অনুদানে গিয়ে থাকেন তবে বলতে হয়, এ অর্থ অন্যখাতে খরচ করা যেত। যে কোনো প্রকল্পে বিদেশ ভ্রমণের ব্যবস্থা রাখা হয় সরকারি কর্মকর্তাদের খুশি করতে।
দেশে চলমান ডলার সংকটের মধ্যে কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণে না গিয়ে তা রোহিঙ্গাদের জন্য অন্য খাতে খরচের পরামর্শ দেন তারা।
















