সাবেক মন্ত্রীকে গণধোলাই দেয়ার ঘোষণা ছাত্রলীগ নেতার

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের সাবেক মন্ত্রী তাজুল ইসলামকে গণধোলাই দেয়ার ঘোষণা দিলেন নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ইব্রাহীম ফরাজী।

গতকাল ব্যাক্তিগত ফেসবুক আইডিতে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে এ ঘোষনা দেন তিনি। নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গেলাম রাব্বানীসহ কয়েক ‘শ নেতাকর্মী এই স্ট্যাটাসে তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে মন্তব্য করেছেন।

স্ট্যাটাসে ইব্রাহীম ফরাজী লিখেন, এই যে তাজুল সাহেব, ছাত্রজীবনে কোনদিন কোনজায়গায় জয় বাংলার স্লোগান দিছে বলে প্রমাণ মিলাতে পারিনি। অথচ সে ২০১৯ সাল থেকে বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় টা ভাগিয়ে নিয়েছেন। কথায় কথায় ইংলিশ বলে। কিন্তু রাজনীতিবিদ হিসেবে চরম লেভেলের অথর্ব।

তিনি বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ কর্তৃক আয়োজিত ২০২৩ সালের ৭ মার্চের প্রোগ্রামে উনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হোন। মঞ্চে দাড়িয়ে, হাজার হাজার লোকের সামনে ঘোষণা দিলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনটি অত্যাধুনিক করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন জায়গায় কয়েকটি বাথরুম স্থাপনের জন্য যে বাজেট লাগবে তিনি তা এক সপ্তাহের মধ্যে ব্যবস্থা করে দিবেন। বাজেটের পরিমান টা আড়াই কোটির কাছাকাছি ছিলো। অর্ডিয়েন্সরা তাকে বিশাল বড় মারহাবা দিলো।

ইব্রাহীম বলেন, সপ্তাহ গেলো, মাস গেল, বছর গেল, তাজুল সাহেবের বাজেট আর বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌছাচ্ছে না। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ভিসি মহোদয় উনাকে একাধিকবার ফোন করেছিলেন, প্রক্টর মহোদয় তার অফিসে কয়েকবার গিয়েছিলেন কাজটি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য, কিন্তু তিনি তেমন দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেননি।

তিনি বলেন, হয়তো তার (তাজুল ইসলাম) পকেটে যদি ১০ লক্ষ টাকার চেক দেয়া যেতো তাহলে মনে হয় খুব সহজে হয়ে যেতো। পরবর্তীতে ১৬ মাস পর সে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে কাজটি করার জন্য অনুমতি দেয় জানান তিনি।

কয়েকদিন আগে উনার স্ত্রীর নামে থাকা ৩০০ একর জমি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে জানিয়ে ইব্রাহীম ফরাজী বলেন, একটা মন্ত্রী যদি হয় এতো বড় মুনাফেক-অথর্ব, তাহলে ঐ দলের পতন হওয়াই তো স্বাভাবিক। তাজুলদের মতো লোকের কারনেই আওয়মীলীগের ভরাডুবি হয়েছে। ওদের মতো চোরদের যেখানে পাওয়া যাবে, সেখানেই গণধোলাই দিতে হবে।

মন্তব্যের বক্সে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গেলাম রাব্বানী লিখেন, আমি দায়িত্বে থাকার সময় বেগমগঞ্জ থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শেষে ঢাকা ফিরছি জেনে সে আমাকে তার নির্বাচনী প্রচারণায় নেয়ার জন্য লোকজন নিয়ে রাস্তার মাঝে দাঁড়িয়ে যায়, তার অনুরোধে অন্য প্রোগ্রাম বাতিল করে প্রচারণায় অংশ নিয়েছি, ভোট চেয়েছি। তার একান্ত অনুরোধে নেত্রীর কাছেও পজিটিভ বলেছি। কখনও কোন সুবিধা নেই নাই, তদবির সুপারিশ করি নাই।

তিনি আরও বলেন, নিজ এলাকার ছোট্ট একটা ব্রিজ ভেঙে যাওয়াতে, স্থানীয়দের অনুরোধে সেই ১৯ সাল থেকে একাধিকবার গিয়ে অনুরোধ করার পরও তিনি বারংবার করে দেবেন বলে কাজটা করেন নাই, সেখানে এখনও বাঁশের সাঁকো! যে লোক নিজে অনেকবার তার দরকারে কল দিতেন, একদিন আমি ফোন করার পর, বলে, কে? নাম বলার পর বলছে, কোন রাব্বানী?! এরপর এই সুবিধাবাদী চরিত্রের লোককে আর কখনো ফোন করি নাই।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ইব্রাহীম ফরাজী বলেন, ছাত্রলীগের প্রেগ্রামে অতিথি হয়ে এসে তাজুল ইসলাম নিজের মুখে বিশ্ববিদ্যালয়ের এ কাজটুকু করে দেওয়ার ঘোষনা দেন। দিবে-দিবে বলে দিনশেষে কাজটি করে দেন নি। এতে তার জন্য আমার সংগঠনের বদনাম হয়েছে। শিক্ষার্থীদের কাছে আস্থা কমছে ওনার জন্য। ওনাকে ঘুষ দিলে তখনি কাজটা পাশ করে দিতেন। এখন শুনলাম আমাদের রেডি করা কাজ, বর্তমান অবৈধ সরকারের সময়ে অনুমোধন পাবে।

Facebook Comments Box