সেবা নিতে একজন ব্যক্তিকে দপ্তরে যেন তিন-চারবার আসা না লাগে

সেবা নিতে একজন ব্যক্তিকে যেন দপ্তরে তিনবার, চারবার আসা না লাগে সে বিষয়ে নজর রাখতে হবে বলে জানিয়েছেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ঢাদসিক মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। তিনি বলেন, রাজস্ব আদায়ে একটি বড় বিষয় হলো আপনার আচরণ, আপনার ব্যবহার। এক্ষেত্রে আপনার দপ্তরে যারা সেবাটা নিতে আসছেন তাদের সাথে ভালো আচরণ করবেন, সুন্দর ব্যবহার করবেন। মঙ্গলবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান কার্যালয় নগর ভবনের মেয়র হানিফ অডিটরিয়ামে রাজস্ব আদায়ের সার্বিক পর্যালোচনা সভা ‘রাজস্ব সম্মেলন’ এ মেয়র এ কথা বলেন।

যার দপ্তরে যে সেবা নিতে যেদিন আসবে সেদিনই তাকে সেবাটা দিবেন উল্লেখ করে মেয়র আরো বলেন, প্রয়োজনে একটু বিলম্ব হলেও সেদিনই সেবাটা দেবেন। তাকে কালকে আসেন, পরশু আসেন, তিনদিন পরে আসেন, দশ দিন পরে আসেন এসব বলা যাবে না। এতে করে সে ব্যক্তি কর দেওয়ার মানসিকতা হারিয়ে ফেলেন। আপনার আচরণগত কারণে বা তাকে যথাযথ সেবা দেওয়া থেকে বঞ্চিত করার কারণে একজন আগ্রহী করদাতাও করখেলাপি হয়ে যেতে পারেন। সুতরাং কোনো আগ্রহী করদাতাকে করখেলাপি বানাবেন না।

এ সময় হয়রানি ছাড়া জনগণকে সেবা দিতে ব্যর্থ হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা কঠোরতা দেখানো হবে উল্লেখ করে শেখ তাপস বলেন, আমরা কিন্তু ঝুড়িতে একটাও পঁচা আম রাখতে চাই না। আপনারা জানেন যে, আমরা পঁচা আম ফেলে দিচ্ছি এবং আরও পঁচা আম আমরা ফেলতে থাকব। এটা চলমান প্রক্রিয়া। আমার দাদি বলতেন, একটা ঝুড়িতে একটা পঁচা আম থাকলে বাকি আমগুলোতেও পচন ধরে। আমের ঝুড়ি থেকে প্রথমে আমগুলো নিয়ে নিচে রাখতে হয়। তারপর যেগুলো ভালো সেগুলোকে ঝুড়িতে রাখতে হয়। যেগুলো পঁচা আম সেগুলো ফেলে দিতে হয়। সুতরাং এখনো যে কটা পঁচা আম আছে বা এখনো যারা অন্যভাবে চিন্তা করেন তারা এখানে থাকতে পারবে না। এখানে থেকে কোনো ধরনের গাফিলতি, অবহেলার সুযোগ নেই।

করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আরিফুল হকের সঞ্চালনায় রাজস্ব সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব সচিব আকরামুজ্জামান, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাদের মধ্যে (অঞ্চল-১ ও ৭) মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম , (অঞ্চল ২ ও ৬) সোয়ে মেন জো, (অঞ্চল-৩) বাবর আলী মীর, (অঞ্চল ৪ ও ১০) মো. আতাহার মিয়া, (অঞ্চল ৫ ও ৯) মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন সরকার এবং (অঞ্চল-৮) মোহাম্মদ শফিউর রহমান প্রমুখ রাজস্ব আদায় বৃদ্ধিতে বিদ্যমান প্রতিক‚লতা ও আগামীদিনের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে নিজ নিজ মতামত ব্যক্ত করেন। রাজস্ব সম্মেলনে উপ-প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মো. শাহজাহান আলীসহ কর্পোরেশনের কর কর্মকর্তা, উপ-কর কর্মকর্তা, বাজার সুপারভাইজর, লাইসেন্স ও বিজ্ঞাপন সুপারভাইজর, রেভিনিউ সুপারভাইজার, রেন্ট এসিট্যান্স, হিসাব সহকারীসহ রাজস্ব বিভাগের সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ অংশগ্রহণ করেন।

Facebook Comments Box