সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে চলতি অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি বাড়লেও সরকার তা নিয়ন্ত্রণ ও জনগণের ওপর এর প্রভাব প্রশমনে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বুধবার জাতীয় সংসদে সরকার দলীয় এমপি শহীদুজ্জামান সরকারের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। সংসদ অধিবেশনে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সভাপতিত্ব করেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করছে। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ অবস্থান বজায় রাখতে সরকার নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। চলমান আন্তর্জাতিক সংকটেও দেশে খাদ্য নিরাপত্তা সুরক্ষিত আছে। কোভিড অতিমারি ও রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে বিশ্বে খাদ্যপণ্যসহ সব ক্ষেত্রে জোগান ব্যবস্থার সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এ সংকট মোকাবিলার মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা সুনিশ্চিতকরণে বাংলাদেশ সরকার প্রতিনিয়ত জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।
খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়ে বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে আজ উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে সংসদ নেতা বলেন, কৃষি গবেষণা, সম্প্রসারণ ও কৃষি ক্ষেত্রে ধারাবাহিক উপকরণ ও নীতি সহায়তার ফলে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে পেরেছে।
মামুনুর রশীদ কিরণের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রস্তাবিত বিনিয়োগ এখন ২৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। অর্থনৈতিক অঞ্চলে ৪১টি কোম্পানি বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করেছে। বিভিন্ন জোনে ৫০টি শিল্প নির্মাণাধীন রয়েছে। এসব শিল্প থেকে এ পর্যন্ত ১৪ দশমিক ৮০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমমূল্যের পণ্য উৎপাদন হয়েছে এবং ২৯১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমমূল্যের পণ্য রপ্তানি রয়েছে। এই শিল্পগুলোর প্রায় ৫০ হাজার জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি বলেন, ২০০৭ সালের জরিপে দেশে মোট কর্মসংস্থান ছিল ৪ কোটি ৭৩ লক্ষ। গত তারা দেড় দশকে আমাদের সরকার নতুন ২ কোটি ৩৫ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। ২০২৩ সালের জরিপ অনুযায়ী দেশে এখন মোট কর্মসংস্থানের এটি পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ১১ লক্ষ জনে। বেকারত্বের হার ২০১০ সালের ৪.৫ শতাংশ হতে ২০২২ সালে ৩.২ শতাংশে নেমে এসেছে বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কর্মক্ষেত্রে নারী শ্রমশক্তির অংশগ্রহণের হার ২০১৬ সালের ৩৬.০ শতাংশ হতে ২০২২ সালে ৪২.৭ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। পণ্য ও সেবা রপ্তানি আয় ২০০৭-০৮ অর্থবছরের ১৪.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে প্রায় চার গুণের বেশি বেড়ে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৫৫.৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। মাথাপিছু আয় ২০০৭-০৮ অর্থবছরের ৬৮৬ মার্কিন ডলার হতে চারগুণ বৃদ্ধি পেয়ে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ২ হাজার ৭৬৫ মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, ২০০৭-০৮ অর্থবছরে দেশে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ১২.৩ শতাংশ। গত ১৪ বছরে সময়ে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, খাদ্য ও জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি, করোনা মহামারি ইত্যাদির মাঝেও সরকার ধারাবাহিকভাবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছে। ২০২১-২২ অর্থ বছরে মূদ্রাস্ফিতির হার নেমে আসে ৬.১৫ শতাংশ।
















