বাংলাদেশে রাজনৈতিক কারণে ধর্মীয় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে ভারত ও মিয়ানমারও ভালো থাকবে না বলে জানিয়েছেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। তিনি বলেন, যারা ধর্মকে হাতিয়ার করে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে চায় তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানী পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন।
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার নির্বাচনের আয়োজনে কাজ করছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। শাসন নয়, পরবর্তী সরকারের প্লাটফর্ম তৈরি করতেই কাজ চলছে। পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ হবে আশাপ্রকাশ করে ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, যেসব দুর্বৃত্ত আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে বিনষ্ট করতে চায়, তাদেরকে সরকার কঠোর হাতে দমন করবে।
ড. খালিদ বলেন, বংশানুক্রমিকভাবেই আমাদের অন্তর সংকীর্ণ। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, জৈন ও বিভিন্ন উপজাতির মানুষ যারা এদেশে বসবাস করে তাদের সবার ক্ষেত্রেই এটা প্রযোজ্য। আমরা অন্যদেরকে আমাদের অন্তরে স্থান দিতে পারি না। আমরা প্রচণ্ড আত্মকেন্দ্রিক।এই অচলায়তন ভেঙে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রসারিত করতে হবে।পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বাড়াতে হবে।
আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর ইতোমধ্যেই বেশকিছু মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডা পরিদর্শন করেছি।কয়েকটি মন্দিরে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করছি উল্লেখ করে তিনি বলন, পরবর্তীতে আমি বিভিন্ন উপাসনালয় পরিদর্শনে যাব। আমরা সবসময় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করে আসছি।আগামী দিনেও আমরা এটা রক্ষা করব। উপদেষ্টা বলেন, পারস্পরিক হিংসা-বিদ্বেষ আমাদেরকে ছোট করে দেয়। বাংলাদেশ আমাদের সবার।সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। আমাদের সবার অধিকার সমান। সিদ্ধেশ্বরী সার্বজনীন পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি নিবাস চন্দ্র মাঝির সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ধর্ম সচিব মু. আ. হামিদ জমাদ্দার ও সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দিরের স্টিয়ারিং কমিটির চেয়ারম্যান তপন মজুমদার প্রমুখ। এ সময় মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র দত্ত, স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য সচিব সমীর গুপ্ত, সদস্য প্রণীতা সরকার এবং পরে উপদেষ্টা অসহায় মানুষের মাঝে বস্ত্র বিতরণ করেন।
















