ব্যক্তিগত যানবাহনের পরিমাণ কমিয়ে পাবলিক ট্রানজিটের ব্যবহার বাড়াতে হবে বলে জানিয়েছেন, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান। তিনি বলেন, এর পাশাপাশি হাঁটা, সাইকেল চালানোর মতো টেকসই ভ্রমণের অভ্যাস গড়ে তুলতে এমআরটি লাইন ৬ বরাবর ট্রানজিট-ওরিয়েন্টেড ডেভেলপমেন্ট (টিওডি) পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ম্যাস ট্রানজিট করিডোর বরাবর ট্রানজিট ওরিয়েন্টেড ডেভেলপমেন্টের জন্য নীতি ও নির্দেশিকা তৈরি শীর্ষক প্রকল্পের ৩য় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এ কথা বলেন।
আদিলুর রহমান খান বলেন, আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে, আমাদের বিশ্বস্ত উন্নয়ন অংশীদারদের মধ্যে অন্যতম একটি জাইকা আামাদের পাবলিক ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম পুননির্মাণ এবং টিওডি প্রকল্পের মাধ্যমে দীর্ঘ সময় ধরে পরিত্যক্ত জমি ও পরিবহন সমস্যাকে সংযুক্ত করতে এগিয়ে এসেছে। তিনি বলেন, টিওডি বিশদ এলাকা পরিকল্পনায় (২০২২-২০৩৫) ঢাকার গাড়ি-কেন্দ্রিক পরিবহন চ্যালেঞ্জের একটি প্রধান সমাধান হিসাবে স্বীকৃত যা পথচারী ও পরিবেশ-বান্ধব।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ হামিদুর রহমান খান, ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ, JICA বাংলাদেশ এর প্রধান রিপ্রেসেন্টেটিভ মিঃ ইচিগুচি তমহিদে। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন রাজউকের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোঃ ছিদ্দিকুর রহমান সরকার (অবঃ)।
সেমিনারে টিওডি এর Concept প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক এবং ঢাকার ক্ষেত্রে টিওডি Development এর Challenges, গাবতলী স্টেশন কেন্দ্রিক পাইলট কেস স্টাডি ইত্যাদি বিষয় উপস্থাপন করেন জাইকা পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের টীম লিডার মিজ নজমি হিসিদা। পরবর্তীতে বাংলাদেশে টিওডি এর খসড়া নীতিমালা উপস্থাপনা করা হয়। এছাড়াও উত্তরা সেন্টার স্টেশনে রাজউক ও মেট্রোরেল কোম্পানি এর যৌথ উদ্যোগে ১ম টিওডি Development প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনার অগ্রগতি তুলে ধরা হয়।
এসময় সচিব মোঃ হামিদুর রহমান খান বলেন, বাংলাদেশে টিওডি বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিভিন্ন অংশীদারদের মধ্যে ভূমি অধিগ্রহণ, অর্থায়ন এবং সমন্বয়ের মতো সমস্যাগুলি সমাধান করা দরকার। দৃঢ় রাজনৈতিক ইচ্ছা, সম্প্রদায়ের সম্পৃক্ততা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে আমরা এই চ্যালেঞ্জগুলি কাটিয়ে উঠতে পারি। ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) এর মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আব্দুর রউফ বলেন, হংকং, টোকিও এবং দিল্লির মতো শহরে সফল টিওডি প্রকল্পগুলি থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে, আমাদের ঢাকার জন্য অনুরূপ কৌশলগুলি বাস্তবায়নের একটি অনন্য সুযোগ রয়েছে। আমাদের মেট্রো রেল করিডোরগুলি জাতীয় অগ্রগতির পরিচয় হিসাবে টিওডি বাস্তবায়নে একটি ভালো অবস্থানে রয়েছে।
রাজউকের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোঃ ছিদ্দিকুর রহমান সরকার (অবঃ) বলেন, একটি সমন্বিত পদ্ধতির উপর গুরুত্বারোপ করে একটি টেকসই ও বাসযোগ্য শহর পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক অগ্রগতির সাথে পরিবহন ব্যবস্থা এবং ভূমি ব্যবহারের পরিকল্পনাকে একত্রিত করা প্রয়োজন। ইউরোপ এবং এশিয়া জুড়ে শহরগুলি – যেমন হংকং, টোকিও, সিঙ্গাপুর এবং দিল্লি-সফলভাবে তাদের ম্যাস ট্রানজিট করিডোর বরাবর ট্রানজিট-ওরিয়েন্টেড ডেভেলপমেন্ট টিওডি বাস্তবায়ন করেছে। এই উদাহরণগুলি দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে, আমরাও আমাদের প্রিয় রাজধানী ঢাকার জন্য টিওডি কৗশল গ্রহণ করতে পারি।
















