নিজস্ব প্রতিবেদক
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপর হামলার ঘটনাকে ‘ফ্যাসিবাদকে পুনর্বাসনের ষড়যন্ত্রের অংশ’ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির নেতারা বলেছেন, এই হামলার মধ্য দিয়ে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসরদের মুখোশ উন্মোচিত হয়েছে। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সহযোগী ১৪ দলকে নিষিদ্ধ করারও দাবি জানিয়েছে দলটি। শনিবার জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে গণধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরুর ওপর হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে নেতারা এ কথা বলেন। জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এ বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, দলের সহকারী সেক্রেটারি ও সাবেক এমপি ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. আব্দুল মান্নান, শামসুর রহমান প্রমূখ।
বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দলের সহকারী সেক্রেটারি ও সাবেক এমপি ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী বহুদিন ধরে বলে আসছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভেতরে এবং বাইরে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসররা সক্রিয় আছে। নুরুল হক নুরের ওপর হামলার মাধ্যমে আমাদের সেই দাবি প্রমাণিত হলো। ফ্যাসিবাদ বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির অন্যতম নেতাকে টার্গেট করে হামলা চালানো হয়েছে। এই ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
হামলাকারীদের সিসি টিভি ফুটেজ ও গণমাধ্যমকর্মীদের ধারণকৃত ভিডিও দেখে চিহ্নিত করে অবিলম্বে আইনের আওতায় আনা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে ড. আযাদ বলেন, একইসঙ্গে জাতিসংঘ কর্তৃক স্বীকৃত ‘গণহত্যাকারী ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের শরিক’ ১৪ দলকে নিষিদ্ধ করারও দাবি করেন তিনি।
নির্বাচন প্রসঙ্গে জামায়াতের এ নেতা বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও প্রচলিত পদ্ধতির নির্বাচনে জনগণের সরকার গঠিত হয়নি। জনগণ এখন পিআর পদ্ধতিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন চায়। জরিপেও উঠে এসেছে দেশের ৭১ শতাংশ মানুষ এ পদ্ধতি সমর্থন করে। অথচ একটি দলের আপত্তির কারণে এটি চালু না করলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বিপ্লবী সরকার বলা যাবে না। সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, “গণঅধিকার পরিষদ একটি ফ্যাসিবাদ বিরোধী দল। তাদের প্রধানের ওপর রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হামলা আওয়ামী দোসরদের মুখোশ উন্মোচন করেছে। এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে জনগণ বসে থাকবে না। সভাপতির বক্তব্যে ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, যদি নুরুল হক নুর কোনো অপরাধ করে থাকেন, তাকে আইনের মাধ্যমে আটক করা যেতো। কিন্তু অমানবিকভাবে হামলা কেন চালানো হলো, এর জবাব স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে দিতে হবে। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি.এম. কাদের ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকেও নিরাপদে প্রটোকলে চলে যেতে পারলেন কেন, অথচ নুরের ওপর হামলা হলো—এ প্রশ্নও সরকারের কাছে রাখতে হবে। সমাবেশে জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও মহানগরী দক্ষিণের নেতারা নুরুল হক নুর ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানান এবং ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসন ঠেকাতে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানান।















