২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর থেকেই আওয়ামী ফ্যাসিবাদের উত্থান শুরু

২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর আওয়ামী লীগের লগি-বৈঠার তান্ডবে সংঘটিত নারকীয় হত্যাকান্ডের বিচারের দাবিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে করা হয়েছে। মঙ্গলবার বায়তুল মোকাররম উত্তর গেইট থেকে শুরু করে বিজয়নগর-কাকরাইল হয়ে শান্তিনগরের অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে হাজার-হাজার নেতাকর্মী ২৮ অক্টোবরের নৃশংস হত্যাকান্ডের বিচার দাবি করে। এরআগে বায়তুল মোকাররম উত্তর গেইট সমাবেশে দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, যারা জাতীয় নির্বাচনের দিন গণভোট চায় তারা জুলাই সনদকে অকার্যকর করতে চায়। তাদের খারাপ উদ্দেশ্য জাতি বুঝে গেছে। এরা প্রথমত জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দিতেই রাজি হয়নি। পরবর্তীতে অন্য সকল রাজনৈতিক দলের ঐকমত্য দেখে কৌশলগত কারণে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দিতে একমত হলেও তারা দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছে। এজন্য তারা গণভোটের পক্ষে মত দিলেও গণভোট আয়োজন নিয়ে দ্বিমত পোষণ করে নানারকম ভ্রান্ত যুক্তি উপস্থাপন করছে। ২৮ অক্টোবরের ঘটনার সাথে জড়িতদের বিচার করার দাবি জানিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর থেকেই আওয়ামী ফ্যাসিবাদের উত্থান শুরু হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের ন্যায় বিচার নিশ্চিত করে ইনসাফ ও ন্যায় বিচারের নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলবে।
কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর মো. নূরুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের পরিচালনায় বায়তুল মোকাররম উত্তর গেইটে অনুষ্ঠিত সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, মাওলানা আব্দুল হালিম। এছাড়া, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন (ঢাকা -৮ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী), কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ দেলাওয়ার হোসেন (ঠাকুরগাঁও-১ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী), কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামাল হোসেন (ঢাকা-৫ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী) প্রমূখ। সমাবেশে মিয়া গোলাম পরওয়ার আরো বলেন, দিল্লি বসে হাসিনা বাংলাদেশে নভেম্বরে নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রস্তুতি নিচ্ছে তার আগেই হাসিনার নেতৃত্বাধীন ১৪ দলকে নিষিদ্ধ করতে হবে। তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটকে নিষিদ্ধ না করে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হবে না। তারা সন্ত্রাসী ও নৈরাজ্যের মাধ্যমে নির্বাচনকে বিকর্তিক করার চেষ্টা করবে। মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর বাংলাদেশের ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক দিন। এই দিনটি পল্টন ট্র্যাজেডি হিসেবে পরিচিত। ঐ দিন চারদলীয়জোট সরকার ক্ষমতা হস্তান্তর করার আগে সমাবেশ করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ২৭ অক্টোবর রাতে হাসিনা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের নেতাকর্মীকে লগি-বৈঠা নিয়ে রাজপথে নেমে আসার নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা সারাদেশে লগি-বৈঠার তান্ডব চালিয়ে জামায়াত-শিবিরের ১৪জন নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়। মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত দীর্ঘ ১৮ বছর শেখ হাসিনা ফ্যাসিবাদের নেতৃত্ব দিয়েছে। তার নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট সকল অপকর্মের সমান অপরাধী। তাই হাসিনাসহ ১৪ দলীয় নেতাদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। সভাপতির বক্তব্যে নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর জামায়াত-শিবির সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠে থেকে আওয়ামী লীগের অস্ত্রের মুখে দেশ রক্ষায় লড়াই করেছে। আমাদের নেতাকর্মীরা রাজপথ থেকে এক ইঞ্চি দূরেও সরে যায়নি। সেই ধারা অব্যাহত রেখে আজও জামায়াত-শিবির মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় এবং স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা রেখে আসছে। সেদিন বিএনপি যদি জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে একসাথে সন্ত্রাসী আওয়ামী গোষ্ঠীকে প্রতিহত করতে এগিয়ে আসতো তবে আধিপত্যদের দোসর আওয়ামী লীগ দীর্ঘ ১৮ বছর জাতির ওপর জুলুম নির্যাতন করার সুযোগ পেতো না।

Facebook Comments Box