চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি:
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দক্ষিণ আইচার চর আইচা মৌজায় প্রায় ৬০ বছর ধরে ভোগদখলে থাকা আড়াই একর জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জমির মালিকপক্ষের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
জানা যায়, ১৯৬৭ সালে দরবেশ আলী ফকির, তারু ফকির, আরব আলী ফকির, আবদুল করিম চৌকিদার ও জাবেদ আলী সাবকবলা দলিলের মাধ্যমে শামছুল হক মিয়া ও তাঁর ছেলে সাইদুর রহমানের কাছে জমি হস্তান্তর করেন। এর আগে সংশ্লিষ্ট দাতারা মফিজুদ্দিন মুন্সীর কাছ থেকে এসএ ৪৯৭৮ ও ৪৯৭৯ নম্বর দাগে সাবকবলা দলিলের মাধ্যমে জমিটি ক্রয় করেছিলেন বলে পরিবারটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
পরবর্তীতে ওই জমি শামছুল হক মিয়া ও তাঁর ছেলে সাইদুর রহমানের কাছে সাবকবলা দলিলের মাধ্যমে হস্তান্তর করা হয়। ক্রয়সূত্রে মালিকানা পাওয়ার পর থেকে তারা প্রায় ৬০ বছর ধরে জমিটি ভোগদখল করে আসছেন বলে দাবি পরিবারের।
তবে পরবর্তী হাল জরিপে মফিজুদ্দিন মুন্সীর সন্তান আমির হোসেন, মোহাম্মদ আলী ও তাঁর স্ত্রী ফাতেমা খাতুনের নামে সংশ্লিষ্ট দাগের জমিটি রেকর্ড হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে ।
এদিকে সম্প্রতি দক্ষিণ আইচার বশির হাওলাদার, ইকবাল হাওলাদার, মহিউদ্দিন, মফিজ, মান্নান ও হারুন সরদারের ছত্রছায়ায় একটি মহল প্রভাব বিস্তার করে ওই জমি দখলের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন শামছুল হক মিয়ার পরিবারের সদস্যরা।
শামছুল হক মিয়ার ছেলে রিপন মিয়া বলেন, “প্রায় ৫ যুগে ধরে আমরা জমিটি ভোগদখল করে আসছি। সম্প্রতি একটি পক্ষ জমিটি দখলের চেষ্টা করছে। বিষয়টি নিয়ে ইকবাল হাওলাদারের সঙ্গে কথা বললে তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন।”
চর আইচার স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, “জমিটি নিয়ে সম্প্রতি দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে । বিষয়টি নিয়ে এলাকায় যেন কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সে জন্য প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”
দক্ষিণ আইচা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসান কবির বলেন, “অভিযোগ পেলে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
















