শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে সরকার। আবাসিক এলাকায় রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত হর্ন বাজানো নিষিদ্ধসহ উচ্চ শব্দ সৃষ্টিকারী যন্ত্রপাতি ব্যবহারে একাধিক বিধিনিষেধের কথা জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার পরিবেশ অধিদপ্তরের এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ বিধিনিষেধের কথা জানানো হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রকাশিত গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শব্দদূষণ মানুষের স্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এ কারণে সরকার ‘শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫’ জারি করেছে এবং সবাইকে তা কঠোরভাবে অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, এলাকাভেদে শব্দের সর্বোচ্চ মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। শিল্প এলাকায় সর্বোচ্চ ৮০ ডেসিবেল এবং মিশ্র এলাকায় সর্বোচ্চ ৭৫ ডেসিবেলের বেশি শব্দ করা যাবে না।
এ ছাড়া বিধিমালায় বলা হয়েছে—
উচ্চ শব্দ উৎপন্নকারী কোনো যন্ত্রপাতি বা কর্মকাণ্ডে নির্ধারিত শব্দসীমা অতিক্রম করা যাবে না।
কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া পারিবারিক অনুষ্ঠান বা জনসমাবেশে উচ্চ শব্দের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা যাবে না। অনুমতি থাকলেও শব্দের মাত্রা ৯০ ডেসিবেলের বেশি এবং সর্বোচ্চ ৫ ঘণ্টার বেশি ব্যবহার করা যাবে না।
নির্ধারিত শব্দসীমা অতিক্রমকারী হর্ন উৎপাদন, আমদানি, মজুত, বিক্রয়, প্রদর্শন, বিপণন, পরিবহন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ।
নীরব এলাকায় হর্ন বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ ছাড়া আতশবাজিসহ কোনো ধরনের শব্দদূষণ করা যাবে না।
আবাসিক এলাকায় রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত হর্ন বাজানো নিষিদ্ধ।
প্রাকৃতিক বনাঞ্চল ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলে লাউডস্পিকার বা উচ্চ শব্দ সৃষ্টি করে এমন যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না।
আবাসিক এলাকার শেষ সীমানা থেকে ৫০০ মিটারের মধ্যে সন্ধ্যা ৭টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত নির্মাণকাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি পরিচালনা করা যাবে না। ট্রাফিক সার্জেন্ট বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সামনে শব্দদূষণের ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তর জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষায় সবাইকে বিধিমালা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
















