চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি:
ভোলার চরফ্যাশনে প্রধান সড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভার ময়লা-আবর্জনা ফেলে স্তূপ করে রাখায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। আবর্জনা থেকে ছড়ানো উৎকট দুর্গন্ধে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। সড়ক দিয়ে পথচারী ও যানবাহনের যাত্রীরা ময়লার গন্ধে নাক চেপে চলাচল করতে হচ্ছে। এ যেন আঞ্চলিক সড়কের পাশে ময়লার পাহাড়!
চরফ্যাশন-ভোলা আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে এভাবে ময়লা ফেলা হলেও তা অপসারণে কার্যকর উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার দাবি জানানো হলেও তা আমলে নেওয়া হচ্ছে না।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, শহরের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে ২০ থেকে ২৫ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী কাজ করছেন। তবে শহরের ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য পৌরসভার নিজস্ব কোনো নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশন নেই। ফলে প্রতিদিন শহর ও বিভিন্ন বাসাবাড়ি থেকে সংগ্রহ করা ময়লা পিকআপে করে প্রধান সড়কের পাশে ফেলে রাখা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ,দুর্গন্ধ যাতে না হয় মাঝেমধ্যে ওই আবর্জনার স্তূপে আগুন দিয়ে পোড়ানো হয়। এতে ধোঁয়া ও দুর্গন্ধে পরিবেশ আরও দূষিত হয়। দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা বর্জ্য থেকে ছড়ানো দুর্গন্ধে নাজেহাল হয়ে পড়েছেন আশপাশের বাসিন্দা ও পথচারীরা।
সড়কের পাশেই রয়েছে দৃষ্টিনন্দন ও পরিবেশবান্ধব বাসটার্মিনাল ও আশপাশে আবাসিক এলাকা। ফলে ময়লার উৎকট দুর্গন্ধের মধ্য দিয়েই যাত্রীদের বাসস্ট্যান্ডে আসা-যাওয়া করতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন জনদুর্ভোগ বাড়ছে, অন্যদিকে শহরের সৌন্দর্য ও পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আশরাফুল ইসলাম সুমন বলেন, ময়লার দুর্গন্ধ ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের কারণে বিভিন্ন জটিল রোগের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ময়লায় আগত পশুপাখি মশামাছি থেকে বিভিন্ন রোগ ছড়াতে পারে।
চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোমানা আফরোজ বলেন, মহাসড়কের পাশে ময়লা ফালানোর কারণে মানুষকে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পৌরসভার ময়লা যত্রতত্র রাস্তার পাশে ফেলার কোনো সুযোগ নেই।
মেয়র না থাকায় বর্তমানে তিনি পৌর প্রশাসকের দায়িত্বও পালন করছেন। তিনি বলেন, রাস্তার পাশে ময়লা ফালানোর কারনে জনদুর্ভোগ হচ্ছে।পৌরসভার ময়লা ডাম্পিং স্টেশন করার জন্য জমি খোঁজা হচ্ছে। প্রধান সড়কের পাশে ময়লা দ্রুত অপসারণ করা হবে। ভবিষ্যতে যাতে সেখানে আর ময়লা ফালানো না হয়, সে ব্যাপারেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
















