সংবাদ পরিবেশন যেমন একটি দায়িত্ব, তেমনি জাতীয় ঐক্য ও সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্রকে সামনে এগিয়ে নিতে গণমাধ্যমের দায়িত্ব রয়েছে বলে জানিয়েছেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি। তিনি সাংবাদিকদের জামায়াতের জন্য কোনো ভালো পরামর্শ কিংবা কোনো ত্রুটির বিষয়ে খোলামেলা কথা বলতে আহ্বান জানিয়েছেন। বুধবার রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডের বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে ইলেকট্রনিক মিডিয়ার শীর্ষ নির্বাহীদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেন বাংলাভিশনের প্রধান সম্পাদক ও হেড অব নিউজ ড. আবদুল হাই সিদ্দিক, সময় টিভির সিইও জোবায়ের আহমেদ বাবু, যমুনা টেলিভিশনের সিইও ফাহিম আহমেদ, এটিএন বাংলার হেড অব নিউজ মতিউর রহমান, এটিএন নিউজের সিইই শহিদুল আজম, চ্যানেল আই’র প্রধান নির্বাহী সম্পাদক জাহিদ নেওয়াজ খান, এনটিভির প্রধান বার্তা সম্পাদক ফখরুল আলম খান কাঞ্চন, আরটিভির হেড অব নিউজ ইলিয়াস খান, এখন টিভির হেড অব নিউজ মোস্তফা কামাল স্বপন, স্টার নিউজের হেড অব নিউজ ওয়ালিউর রহমান মেরাজ, একাত্তর টেলিভিশনের সিইও এন্ড হেড অব নিউজ শফিক আহমেদ, ইনডিপেনডেন্ট টিভির হেড অব নিউজ মামুন আব্দুল্লাহ, ডিবিসি নিউজের সিএনই সাহাবুদ্দীন চৌধুরী, নিউজ টুয়েন্টিফোরের হেড অব নিউজ শরিফুল ইসলাম খান, চ্যানেল টুয়েন্টিফোরের নির্বাহী পরিচালক ও হেড অব নিউজ জহিরুল আলম, এসএ টিভির নিউজ ইনচার্জ ওয়াহিদ মিল্টন, বৈশাখী টিভির হেড অব নিউজ জিয়াউল কবির সুমন, দীপ্ত টিভির হেড অব নিউজ এস এম আকাশ, মোহনা টিভির প্রধান বার্তা সম্পাদক সুমন মোস্তাফিজ, জিটিভির হেড অব নিউজ গাউসুল আজম বিপু, নাগরিক টিভির প্রধান বার্তা সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেন নবিন, এশিয়ান টিভির সিইও হাসনাইন খুরশেদ, মাই টিভির এডিটর ইন চিফ মাহমুদ আল ফয়সাল, বাংলা টিভির পরিচালক বার্তা মীর নূর উস শামস শান্তনু, চ্যানেল এস’র ম্যানেজিং ডিরেক্টর এন্ড সিইও সুজিত চক্রবর্তী, গ্রিন টিভির হেড অব নিউজ মাহমুদ হাসান, টিআরটি ওয়ার্ল্ডের বাংলাদেশ প্রধান কামরুজ্জামান বাবলু প্রমুখ।
পরে বৈঠকের বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার। গোলাম পরওয়ার ডা. শফিকুর রহমানের উদ্ধৃত করে বলেন, তিনি সমাজের বিদ্যমান জনদুর্ভোগ নিয়ে ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের শীর্ষ নির্বাহীদের সাথে কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। এখন যদি গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না হয়, তাহলে রাজনীতিতে সংকট তৈরি হবে। তিনি এ ক্ষেত্রে সংসদের ভিতরে এবং বাইরে জামায়াতের প্রকাশ্য ও আন্তরিক ভূমিকার কথা তুলে ধরেছেন। গোলাম পরওয়ার বলেন, সাংবাদিকদের মধ্য থেকে অনেকে বলেছেন, জুলাই সনদ অনুযায়ী যে গণভোট হয়েছে, সেটির বিষয়ে যারা ভিন্নমত পোষণ করছেন।
তিনি আরও বলেন, জনজীবনের দুর্ভোগ, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বিদ্যুৎ, গ্যাসের সংকট, সন্ত্রাস এবং সংকীর্ণ দলীয়করণসহ নানা উদাহরণ তুলে ধরে বিদ্যমান পরিস্থিতি শীর্ষ নির্বাহীদের কাছে তুলে ধরেছেন আমীরে জামায়াত। ইলেকট্রনিক মিডিয়া সংবাদ পরিবেশন ছাড়াও যে জনমত তৈরি ও জাতীয় ঐকমত্য তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে, সেটিও তুলে ধরেছেন তিনি। তিনি আরও জানান, গণমাধ্যমের শীর্ষ নির্বাহীরা বলেছেন, বর্তমান সংসদে বিরোধীদল হিসেবে জামায়াত যে ভূমিকা রাখছে, তা অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় গঠনমূলক, শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক। আমীরে জামায়াত আশ্বস্ত করেছেন, সংসদের ভিতরে এবং বাইরে দেশের ও জনগণের স্বার্থে সকল ভালো কাজে আমরা সরকারকে সহযোগিতা করব এবং সরকারের জনস্বার্থবিরোধী কাজের বিরুদ্ধে আমরা অবস্থান নেবো এবং সেটি হবে- অহিংস, গঠনমূলক ও দায়িত্বশীল। আমরা রাজপথের সকল আন্দোলনই ননভায়োলেন্ট করতে চাই। সাংবাদিকরা ভালো ভালো রাজনৈতিক কর্মসূচির পরামর্শ দিয়েছেন বলেন গোলাম পরওয়ার। মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, মাওলানা আবদুল হালিম ও এডভোকেট মোয়াযযম হোসাইন হেলাল; কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য আব্দুর রব, অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন, এডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ ও মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মোহাম্মদ জাহিদুর রহমান ও দেলাওয়ার হোসেন প্রমুখ।
















