অতিরিক্ত যাত্রী বহনে ৩ লঞ্চকে জরিমানা

অতিরিক্ত যাত্রী ওঠানোর দায়ে বরিশাল থেকে ঢাকাগামী তিনটি লঞ্চকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। পাশাপাশি অতিরিক্ত যাত্রী ওঠানো ঠেকাতে নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা আগে বরিশাল নদী বন্দর থেকে ঢাকাগামী ৯টি লঞ্চকে ছেড়ে যেতে বাধ্য করা হয়েছে।

শুক্রবার (৬ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে সাড়ে ৭টার মধ্যে ওই তিনটি লঞ্চের কর্তৃপক্ষকে জরিমানা করা হয়। তবে লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বহন ঠেকাতে বিকেল থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালতের দুটি দল নদী বন্দরে তদারকির দায়িত্ব পালন করেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের ওই দুটি দলকে অভিযানে সহায়তা করেন পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের একটি দলের নেতৃত্ব দেন বরিশাল সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তারিকুল ইসলাম। অপর দলটির নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুশফিকুর রহমান।

সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তারিকুল ইসলাম বলেন, লঞ্চগুলোতে সরকারি নির্দেশনা মেনে যাত্রী তোলা হচ্ছে কি না তা তদারকির জন্য বিকেল থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত নদী বন্দরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের এ অভিযান চালানো হয়। এ সময় অতিরিক্ত যাত্রী বহন না করার জন্য বারবার লঞ্চ কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়। তবে লঞ্চ কর্তৃপক্ষের সেদিকে কোনো খেয়াল ছিল না। ফলে তিনি দুটি লঞ্চকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। লঞ্চ দুটি হলো পারাবত-৯ ও সুরভী-৯।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুশফিকুর রহমান জানান, প্রশাসনের চোখ এড়িয়ে পারাবত-১৮ লঞ্চে ধারণক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি যাত্রী ওঠানো হয়। লঞ্চ ছাড়ার আগে যাত্রীতে টইটুম্বুর হয়ে যায়। লঞ্চের ছাদ, এমনকী প্রথম শ্রেণির যাত্রীদের কেবিনের সামনের স্থানেও যাত্রীদের বসানো হয়। এরপরও লঞ্চটিতে আরও যাত্রী ওঠানো হচ্ছিল। এ কারণে পারাবত-১৮ লঞ্চ কর্তৃপক্ষকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত যাত্রী ওঠানো ঠেকাতে নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা আগে বরিশাল নদী বন্দর থেকে ঢাকাগামী ৯টি লঞ্চকে ছেড়ে যেতে বাধ্য করা হয়েছে।

এদিকে বরিশাল নদী বন্দরে ঢাকাগামী যাত্রীদের বেশ ভিড় লক্ষ করা গেছে। ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার জন্য বরিশাল নদী বন্দরে নোঙর করা ছিল বিভিন্ন কোম্পানির ১২টি বিশালাকৃতির লঞ্চ। লঞ্চগুলো রাতে ছাড়লেও বিকেল থেকেই যাত্রীরা নদী বন্দরে আসতে শুরু করেন।

যাত্রীর ভিড়ে মুখর হয়ে ওঠে পন্টুন। হুড়োহুড়ি, ঠেলাঠেলি করে যাত্রীরা পরিবার-পরিজনসহ লঞ্চে ওঠেন। সন্ধ্যার আগেই যাত্রীতে পরিপূর্ণ হয়ে যায়। লঞ্চের ডেকে একজনের শরীরের সঙ্গে আরেকজনকে গাদাগাদি করে বসে থাকতে দেখা গেছে।

লঞ্চগুলোর ডেক ও ছাদও ছিল যাত্রীতে ঠাসা। অতিরিক্ত যাত্রীর কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ভ্রাম্যমাণ আদালত নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা আগে ৯টি লঞ্চকে পন্টুন ত্যাগ করার নির্দেশ দেন। বাকি তিনটি লঞ্চ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে বরিশাল নৌ বন্দর ত্যাগ করে।

Facebook Comments Box