বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত সমাবেশে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার বর্ণনা দিয়ে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন, ‘সেদিন আমরা মুক্তমঞ্চে সমাবেশ করতে চেয়েছিলাম। কিন্ত আজ, কাল করে খালেদা-নিজামীর সরকার ২০ তারিখেও আমাদের মুক্তমঞ্চে সমাবেশের অনুমতি দেয়নি। কারণ তারা কিভাবে হামলা চালানো হবে তার পরিকল্পনা সাজিয়ে রেখেছিল। আমরা বুজতে পারি নাই বিএনপি সরকার মাস্টার প্ল্যান এর অংশ হিসেবে মুক্তাঙ্গন শান্তি সমাবেশ করার অনুমতি না দিয়ে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে করতে বাধ্য করেছিল।
গতকাল বুধবার (২৩ আগস্ট) বিকালে বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগ এর উদ্যোগে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ভয়াল ২১শে আগষ্ট দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে নিক্ষিপ্ত গ্রেনেড হামলায় নিহত শহীদ আইভী রহমানসহ সকল শহীদের স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
আইভী রহমানসহ নিহত সকল শহীদের শ্রদ্ধা জানিয়ে জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, এইমাস শোকাবহ আগষ্ট মাস। বাংলাদেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করলে, দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করলে বাংলার মানুষ বিএনপি’র রাজনৈতিক খবর রচনা করবে। তখন শুধু হামলা করেই ক্ষুদ্ধ হয়নি, নিহত, আহতদের কোন রকম সাহায্য করতে দেয়নি। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিন আমার আর রেহানার যা কিছু আছে সব বিক্রি করে আমার নেতাকমীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করবো। ওই দিন পাকিস্তানের তৈরি গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়েছিলো। তারেক রহমান এই হামলা পরিকল্পনা করেছিলেন। হাওয়া ভবন তৈরি করে তারেক রহমান রক্তের লিলা খেলা খেলেছেন। একুশে আগস্ট এর ঘটনায় তারেক রহমানের জড়িত হওয়ার অনেক প্রমান আছে।
তিনি আরও বলেন, খুনি জিয়া ৭৫ এর হত্যাকারীদের পালাতে সহায়তা করেছিলেন। খুনিদের বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়েছিলেন। এ সময় তিনি নেতাকর্মীদের আগামীতে মহিলা আওয়ামীলীগের দুর্গ গড়ে তোলার জন্য প্রস্তুত থাকার আহবান জানান ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মেহের আফরোজ চুমকি এমপি, বিশেষ অতিথি ছিলেন, শহীদ আইভি রহমানের মেয়ে তানিয়া বখত, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ মহিলা সমিতি। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক শবনম জাহান শীলা এমপি।
এছাড়াও আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন গ্রেনেড হামলায় আহত বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগ এর নাসিমা ফেরদৌস (সাবেক এমপি), সহ-সভাপতি ইয়াসমিন হোসেন, সহ-সভাপতি আসমা জেরিন ঝুমুর, সহ-সভাপতি শাহিদা তারিক দিপ্তী (সাবেক এমপি), ঢাকা মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগ উত্তরের সভাপতি পারুল বেগম , ঢাকা মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগ দ সাধারণ সম্পাদক আয়শা মোকাররম, কাউন্সিলর সোনালী আক্তার, ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুমা আক্তার এবং মাহমুদা বেগম (ভাটারা থানা)।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামীগের সাবেক সভাপতি সাফিয়া খাতুন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা বেগম কৃক, সুলতানা রাজিয়া পান্না, স্মৃতি কণা, সাবেরা আক্তার, পান্না বেগম, নাসিমা ফেরদৌসসহ শত শত নের্তৃবৃন্দ।
এ সময় সভাপতির বক্তব্যে মেহের আফরোজ চুমকি বলেন, একটি স্বাধীন দেশে কেন এতো রক্ত দেখতে হয়েছে আমাদের। একুশে আগষ্টের মতো ঘটনা আমাদের কে দেখতে হয়েছে। যারা এই সন্ত্রাসীর সাথে যুক্ত ছিল তাদের প্রতি ঘৃণা জানাই।















