তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, মনে রাখতে হবে, শুধু বিদ্যমান চাকরির জন্য দক্ষ জনশক্তি তৈরি করাই যথেষ্ট নয়; নতুন চাকরি সৃষ্টি এবং চাকরির বাজার সম্প্রসারণের বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের স্পৃহা শুধু ব্যক্তিগত কর্মসংস্থান বা চাকরি পাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা ঠিক নয়। তাদের দক্ষতা, জ্ঞান ও মেধাকে জাতীয় স্বার্থ ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘ফ্রম স্কিল টু অপরচুনিটি’ শীর্ষক চাকরি মেলায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ইএসডিও) উদ্যোগে এবং বেসরকারি সহযোগিতা সংস্থা চোরগউসান ফর চিল্ড্রেন ও এডুকোর সহায়তায় এ মেলার আয়োজন করা হয়। এডুকো বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর আব্দুল হামিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যর মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী ও ইএসডিওর নির্বাহী পরিচালক ড. মো. শহিদ উজ জামান।
‘জব ক্রিয়েশন’, ‘জব এক্সটেনশন’ বা ‘জব মার্কেট এক্সপানশন’- যে নামেই বলা হোক, এর মূল ভিত্তি অর্থনীতি, শিল্পনীতি ও উৎপাদননীতি উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আর এসব নীতির সঙ্গে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও নীতিনির্ধারণ সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই কর্মসংস্থানের সমস্যার সমাধান করতে হলে শুধু দক্ষতা উন্নয়নের দিকে তাকালে হবে না; চাকরির বাজারের ‘সুইচ’ কোথায়, সেটিও বুঝতে হবে।
তথ্যমন্ত্রী তরুণদের নিজেদের দক্ষতা ও সক্ষমতাকে সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রয়োজনের সঙ্গে যুক্ত করার মানসিকতা তৈরির ওপর জোর দেন। এ প্রসঙ্গে তিনি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে জ্ঞান ও প্রযুক্তি নিয়ে এসে বাংলাদেশের জনশক্তিকে আধুনিক পোশাকশিল্পের দক্ষতার সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়ার উদাহরণ দেন।
তিনি বলেন, সেসময় উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ, ব্যাংক ঋণ, বিদেশি জ্ঞান ও প্রযুক্তির সঙ্গে সংযোগ এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তার মাধ্যমে একটি নতুন শিল্পখাতের ভিত্তি তৈরি করা হয়।
মন্ত্রী বলেন, একজন রাষ্ট্রনায়কের এ ধরনের নীতিগত সহায়তার সুফল শুধু একজন ব্যক্তি বা একটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; তা পুরো অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে।
তিনি বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান দুটি উৎস পণ্য রপ্তানি ও প্রবাসী আয়ের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, সীমিত ভৌগোলিক পরিসরে বিপুল জনসংখ্যার এই দেশে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টির জন্য নতুন নতুন শিল্প ও উৎপাদন খাত গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।
মন্ত্রী চাকরিপ্রার্থী তরুণদের নিজেদের ক্যারিয়ার গড়ার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতি, সমাজ, রাজনীতি ও জাতীয় স্বার্থ সম্পর্কে ধারণা রাখার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ‘এই বেসিক পিকচার যদি একজন তরুণের মাথায় না থাকে, তাহলে সে হয়তো চাকরি পাবে; কিন্তু তার সেই দক্ষতা ও সম্ভাবনা জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত নাও হতে পারে। তিনি তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানভিত্তিক কারিকুলাম তৈরির সময় তাদের নৈতিকতা, দর্শন এবং বিদ্যমান রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা সম্পর্কেও ধারণা দেওয়ার জন্য জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও আয়োজক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানান। তথ্যমন্ত্রী তরুণদের দক্ষ কর্মী হিসেবে তৈরির পাশাপাশি তাদের দায়িত্বশীল ও সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা এবং তাদের দক্ষতা উন্নয়নকে জাতীয় স্বার্থমুখী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
















