এ বছরের মধ্যেই ঢাকা নগর পরিবহনের বহরে ১০০টি নতুন ইলেকট্রিক বাস যুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ঢাদসিক) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। মঙ্গলবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ঢাদসিক) প্রধান কার্যালয় নগর ভবনের বুড়িগঙ্গা হলে বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটির ২৭তম সভা শেষে সাংবাদিকদেরকে সাথে মতবিনিময়কালে ঢাদসিক মেয়র ও বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটির সভাপতি ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস এ তথ্য জানান।
যাত্রীদের সুবিধার কথা চিন্তা করেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে জানিয়ে মেয়র আরো বলেন, এছাড়া, নগর পরিবহনে যাত্রী সেবার মান অক্ষুণœ রাখা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এর আগের বৈঠকে অর্থাৎ ২৬তম সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছিল, বাস রুট রেশনালাইজেশনের আওতায় ঢাকা নগর পরিবহনের নতুন ২৪ ও ২৫ নম্বর রুটে ৫০টি বাস চলাচল করবে। ঘাটারচর থেকে আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত পৃথক এই দুইটি সার্কুলার রুটে বাস সার্ভিস চালু হলে মেট্রোরেলের সঙ্গে যাত্রীদের কানেক্টিভটি বাড়বে বলে জানানো হয়েছিল।
কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে তারপরও ঢাকা নগর পরিবহন এগিয়ে চলছে উল্লেক করে শেখ তাপস বলেন, আমরা সুনির্দিষ্টভাবে এসব ছোটখাটো প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করছি এবং সেগুলো সংশোধন করছি। ১০০ বাস নামানোর মাধ্যমে আমরা ঢাকাকে পরিবেশবান্ধব শহর হিসেবে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবো। বায়ু দূষণের যে তকমা আমরা শুনি, সেখান থেকেও আমরা এগিয়ে যেতে পারব, বায়ু দূষণ থেকে মুক্ত হতে পারব। এসময় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের পরিকল্পনা ছিল আরবান ক্লাস্টারের ৬টি এবং সাব আরবানের ৩টি মিলে ৯টি ক্লাসটার করা হবে। প্রথমে গ্রীন ক্লাস্টার নিয়ে আমরা কাজ করছি। যেখানে ২১ থেকে ২৮ নম্বর মোট ৮ টি রুট নিয়ে মাস্টারপ্ল্যান করেছিলাম। তার পরিকল্পনা হিসেবে আমরা ২১, ২২,২৩,২৪, ২৫, ২৬ এবং আজকে ২৭ ও ২৮ এই মোট ৮টি রুট অন্তর্ভুক্ত হলো। সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে ২৭ ও ২৮ নম্বর রুট চালুর লক্ষ্যে টেন্ডার আহবান করা হবে। তিনি বলেন, আমরা টোটাল গ্রীন ক্লাস্টার যেটা আছে, এটি একটি কোম্পানির আওতায় নিয়ে আসতে বেশ অগ্রসর হতে পারছি।
ফিটনেসবিহীন বাস বন্ধের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মেয়র আরও বলেন, ফিটনেসবিহীন গাড়ির সংখ্যা দিন দিন কমছে। আমরা এ সংখ্যা কমানোর চেষ্টা করছি। এসব বাসের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর বিষয়ে সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে। ২১, ২২ ও ২৬ নম্বর রুটে যথাক্রমে ২১মে থেকে ১লা জুন, ১১জুন থেকে ১৫জুন ও ১৬জুলাই থেকে ২০ জুলাই ডিএনসিসি, ডিএসসিসি, ডিএমপি ও বিআরটিএ যৌথভাবে চিরুনী অভিযান পরিচালনা করবে। পুরতন রুটপারমিটবিহীন, ফিটনেসবিহীন কোন বাস চলতে দেয়া হবে না। নগর পরিবহনে কোন পুরতন বাস অন্তর্ভূক্ত করা যাবে না। শুধুমাত্র নতুন বাস দিয়েই নগর পরিবহন পরিচালিত হবে। সভায় অন্যান্যের মধ্যে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক সাবিহা পারভীন, বিআরটিএ’র চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার, বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. তাজুল ইসলাম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান, ঢাকা মেট্টোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. মুনিবুর রহমানসহ কমিটির সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
















