পলাতক আসামী ও প্রাণনাসের হুমকিদাতা হোসেন মিজানকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এম এম এ কাদের। প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ ও ন্যায় বিচারের লক্ষ্যে গতকাল শনিবার সকালে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন (ক্র্যাব) এ ভুক্তভোগী এম এম এ কাদের এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান। লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, আমার সাবেক কর্মচারী হোসেন মিজান আমার পরিবারের সদস্যসহ আমাকে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নাম ব্যবহার করে প্রতিনিয়ত হত্যার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। হোসেন মিজান বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর এবং জুলাই আন্দোলন ঠেকাতে সশস্ত্র হামলার অন্যতম অর্থ জোগান দাতা ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ছাত্র হত্যা দায়ে নারায়ঙ্গঞ্জ জেলা, সিদ্দিরগঞ্জ থানা, মামলা নং-০৯ , ৬ জানুয়ারি ২০২৫ এর এজাহার ভুক্ত ১৩ নং আসামী । হোসেন মিজানের হুমকিতে বর্তমানে আমি ও আমার পরিবারের সদস্যদের জীবন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

তিনি বলেন, ১৯৯৮ ইং সালে বড় ভাইয়ের অনুরোধে হোসেন মিজানকে প্রথমে বাড়ীর দারোয়ান হিসেবে নিযুক্ত করি। পরবর্তীতে আমি তাকে আমার নিজের প্রতিষ্ঠান এ.কে. ট্রেডার্স এর কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ দেই। চাকরি করার সুবাদে ধীরে ধীরে সে আমার বিশ্বস্ত হয়ে ওঠে। দীর্ঘ সময় চাকরি করার পর ২০০৫ইং সালের দিকে হোসেন মিজান ঠিকাদারী লাইসেন্স করে। ঠিকাদারি কাজের জন্য তার কাছে মুলধন না থাকায় স্ট্যাম্প চুক্তিপত্র করে ব্যবসায়ীক লভ্যাংশ দেয়ার শর্তে আমার কাছ থেকে কয়েক ধাপে ২০০৫ ইং থেকে ২০১৭ ইং পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে টাকা নেয় এবং হিসাব করে করে আমাকে বিভিন্ন তারিখের তার স্বাক্ষর করা চেক দেয়। চেকগুলো ডিজঅনার হলে আমি প্রথমে উকিল নোটিশ এবং পরে মামলা দায়ের করি। এর পর থেকেই হোসেন মিজান একের পর এক আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও বিভিন্ন সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে আমাকে ও আমার পরিবারের অন্য সদস্যদের হত্যার হুমকি দেয়া শুরু করে। ইতিমধ্যে হোসেন মিজানের নামে অর্থ আদায় মামলা, প্রতারণা, সাইবার ক্রাইম, চেক ডিজঅর্নার মামলা সহ ৮টি মামলা চলমান রয়েছে। আমার দায়ের করা এন আই এক্টের মামলায় হোসেন মিজানকে দোষী সাব্যস্ত করে এক বছরের কারাদণ্ড ও চেকের সমপরিমাণ টাকা প্রদানের আদেশ দিয়েছে ঢাকার বিশেষ যুগ্ম দায়রা জজ ও পরিবেশ আদালত। ১০/০৯/২০২৪ ইং তারিখে ওয়ারেন্ট ইসু করা হয় । এ ব্যপারে আমি ৬ বার ভাষানটেক থানার ওসির সাথে দেখা করেছি কিন্তু ভাষানটেক থানার পুলিশ এখনো তাকে গ্রেফতার করতে পারে নাই। তাছাড়া গত ১৫/০৯/২০২৪ ইং তারিখে মিরপুর বিভাগের ডিসি এবং পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিত ভাবে জানানোর পরেও অদৃশ্য কারণে তাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না। তিনি বলেন, প্রকৃত পক্ষে আমি এবং আমার ছেলেরা কেউই জীবনে কোনও দিন কোনো রাজনীতির সাথে জড়িত নই। তার পরেও হোসেন মিজান একের পর এক ষড়যন্ত্র করে উপায়ান্ত না পেয়ে আমাকে আওয়ামী লীগ নেতা এবং আমার ছোট ছেলে মোস্তফা নবি ফাইয়াজকে ছাত্রলীগের নেতা সাজিয়ে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা সাথে ১৪ টা মিথ্যা হত্যা মামলায় আসামী করেছে। এর মধ্যে ৯টি মামলা থানা পুলিশ কোর্টে ফাইনাল রিপোর্ট দিয়েছে যে ওই মামলা সাজানো ও মিথ্যা। এছাড়া বাকি ৫টি মামলারই বাদী পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি সকল প্রকার হয়রানী, নির্যাতন ও প্রাণনাশের হুমকি থেকে রেহাই পেতে যথাযথ তদন্তপূর্বক আইনী সহায়তা প্রত্যাশায় আইন উপদেষ্ঠা, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন।
















