শিক্ষক দম্পতির লাশ উদ্ধারের ঘটনায় মামলা

Last Updated on: আগস্ট ২০, ২০২২

গাজীপুরে প্রাইভেটকারের ভেতর থেকে শিক্ষক দম্পতির লাশ উদ্ধারের ঘটনায় অবশেষে হত্যা মামলা হয়েছে। নিহত প্রধান শিক্ষক জিয়াউর রহমান মামুনের বড় ভাই আতিকুর রহমান বাদী হয়ে গাছা থানায় মামলাটি দায়ের করেছেন।

শুক্রবার রাত পৌনে ৯টার দিকে আতিকুর রহমানের দেওয়া এজাহারটি মামলা আকারে রুজু করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (ডিবি এন্ড মিডিয়া) আবু সায়েম নয়ন।

তিনি আরও বলেন, অজ্ঞাতনামা আসামি করে নিহত প্রধান শিক্ষকের বড় ভাই একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিয়ে ইতোমধ্যেই তদন্তের কাজ শুরু করেছে পুলিশ। এছাড়াও ঘটনার পর থেকেই এর রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। কী কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে তা এখনো স্পষ্ট নয়। আশা করছি শিগগিরই রহস্য উন্মোচিত হবে। ইতিমধ্যেই শিক্ষক দম্পতির প্রাইভেটকার থেকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) একটি খাবারের বক্সসহ (হটপট) কিছু সামগ্রী আলামত হিসেবে জব্দ করে পরীক্ষা নিরীক্ষা করছে ।

মামলার বাদী জিয়াউরের বড় ভাই আতিকুর রহমান বলেন, এ হত্যাকাণ্ডটি পূর্ব পরিকল্পিত। যদি ছিনতাই কিংবা ডাকাতি হতো তাহলে আমার ভাই ও তার স্ত্রীর সঙ্গে থাকা স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন কিছুই খোয়া যেত। তাই হত্যা মামলা দায়ের করেছি। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি কামনা করি।

শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান শাফি বলেন, দুইজনের ফুসফুসে ও কিডনিতে জমাট রক্ত পাওয়া গেছে। এটা খাবারে বিষক্রিয়া বা অন্য কারণেও হতে পারে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে। তাদের শরীরের বিভিন্ন নমুনা ঢাকায় সিআইডি ল্যাবে পাঠানো হয়েছে বলে জানান এ চিকিৎসক।

এদিকে, রাতে গাজীপুরে নিহতের জানাজা শেষে ময়মনসিংহের ত্রিশালে গ্রামের বাড়িতে নিহত শিক্ষক দম্পতিকে দাফন করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (১৮ আগস্ট) ভোরের দিকে গাজীপুর মহানগরের টঙ্গীর বগারটেক এলাকার জয়বাংলা সড়কের পাশে একটি প্রাইভেটকারের ভেতর থেকে শিক্ষক দম্পতি টঙ্গীর শহিদ স্মৃতি স্কুলের প্রধান শিক্ষক জিয়াউর রহমান মামুন ও তার স্ত্রী আমজাদ আলী স্কুলের সহকারী শিক্ষিকা জলি আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে গাছা থানা পুলিশ। ঘটনার পর থেকে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করছেন নিহতদের স্বজনরা।

নিহত প্রধান শিক্ষক ড্রাইভিং সিটে বসা ছিলেন। তার হাতটিও গাড়ির স্টিয়ারিংয়ে ছিল। তাদের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন, গয়না ও টাকা পাওয়া যায়। সবমিলিয়ে রহস্য ঘেরা এ শিক্ষক দম্পতির লাশ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

Facebook Comments Box