সীতাকুণ্ডের অগ্নিকাণ্ডে পোশাক খাতের ক্ষতি হাজার কোটি টাকা

সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়িতে বিএম কনটেইনার ডিপোতে অগ্নিকাণ্ডে তৈরি পোশাক পুড়ে এ খাতের হাজার কোটি টাকার বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্ত ও ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করেছে পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। সংগঠনের প্রথম সহসভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে এ কমিটির প্রধান করা হয়েছে।

সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনায় আন্তর্জাতিকভাবে অসম্ভব ক্ষতির সম্মুখীন হব আমরা। অর্থনীতির অনেক ক্ষতি হবে। বিএম ডিপোতে পুড়ে যাওয়ার আমদানি-রপ্তানি পণ্যের মূল্য হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।’

করোনা পরবর্তী ঘুরে দাঁড়ানোর সময়ে আন্তর্জাতিকভাবে অসম্ভব আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা করছেন বিজিএমইর নেতারা। ডিপো মালিকের মনিটরিং, ফায়ার ও হেলথ সেইফটি দুর্বলতা ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি পোশাক খাতের সম্ভবনাময় সময়ে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র কিনা সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়েছে।

চট্টগ্রামের ফোরএইচ গ্রুপ, প্যাসিফিক জিন্স, ক্লিপটন, এশিয়ান অ্যাপারেলস, শিনশিনসহ অন্তত ১২টি প্রতিষ্ঠানের রপ্তানি চালান বিএম ডিপোতে পাঠানো হয়েছে। কতোটুকু শিপমেন্ট হয়েছে আর কতটুকু পুড়ে গেছে সে হিসাব এখনো পাওয়া যায়নি।

পেসিফিক জিন্সের কর্ণধার ও চট্টগ্রাম চেম্বারের সহসভাপতি সৈয়দ মো. তানভীর বলেন, ‘আমাদের রপ্তানিপণ্য বিএম ডিপোতে ছিল। কিছু শিপমেন্ট হয়েছে। তবে সঠিক ক্ষয়ক্ষতির হিসাব এখনো পাইনি।’

ক্লিপটন গ্রুপের ব্যবস্থপনা পরিচালক ও বিজিএমইএ পরিচালক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, ‘এই সংকট কাটিয়ে উঠতে সবার সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রয়োজন। বিদেশি ক্রেতারা পন্য না পেলে তাদের পুনরায় পাঠাতে হবে। নতুনভাবে পণ্য তৈরি করে পাঠাতে হলে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। তাই কাস্টমস, বন্দরসহ সরকারি সকল প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা প্রয়োজন।

Facebook Comments Box