তেজগাঁও আনিসুল হক সড়কে কোন গাড়ি পার্কিং করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মোঃ আতিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশন থেকে পরিদর্শনে গেলে ট্রাক সরিয়ে নেওয়া হয়, তারা চলে গেলেই ট্রাক ফিরিয়ে এনে সড়ক বেদখল করা হয়। এটার আর করতে দেয়া হবে না। বুধবার ডিএনসিসির অঞ্চল-৩ এর আওতাধীন তেজগাঁও আনিসুল হক সড়কের অবৈধ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান শেষে মেয়র মোঃ আতিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
মেয়র আনিসুল হক সড়কে ট্রাক রাখা নিয়ে সিটি কর্পোরেশন ও আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সাথে ট্রাক মালিকরা ‘টম অ্যান্ড জেরি’ খেলছেন অভিযোগ করে আতিকুল ইসলাম বলেন, এই কাজ করে সড়কে যানজট তৈরি হচ্ছে। এতে জনভোগান্তি হচ্ছে। এই টম অ্যান্ড জেরি খেলা আর খেলতে দেয়া হবে না। জনগণের চলাচল বাধাগ্রস্ত করে এই রাস্তায় কোন গাড়ি রাখতে দেয়া হবে না। বেলা সাড়ে এগারোটায় মেয়র মোঃ আতিকুল ইসলাম সরেজমিনে সড়কটি পরিদর্শনে যান। ট্রাক মালিক সমিতির অফিসের সামনে সড়ক জুড়ে বেশ কিছু ট্রাক রাখা ছিল। মেয়রের নির্দেশে পরে সেখান থেকে ওই ট্রাকগুলো সরিয়ে দেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
পরে মেয়র পুরো সড়কটি ঘুরে দেখে বলেন, রেললাইনের পরপরই লেগুনার স্টেশন করা হয়েছে। এধরনের লেগুনা স্টেশন এখানে কোনভাবেই থাকতে পারবে না। কোন ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান দাঁড়াতে পারবে না। ট্রাক মালিকরা জানান, গাড়ি রাখার জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা তাদের নেই। জায়গার ব্যবস্থা করতে মেয়রকে অনুরোধ জানান মালিকরা।
জবাবে মেয়র বলেন, ‘আগে রাস্তা খালি করতে হবে পরে আপনাদের কথা শুনবো। আপনার মালিক সমিতি ও চালক সমিতির নেতৃবৃন্দরা আমার কথা শুনবেন তাহলেই আমি আপনাদের কথা শুনবো। আপনারা সহযোগিতা করলে আমিও আপনাদের সহযোগিতা করবো। আজকে থেকে এই রোডে কোন গাড়ি থাকবে না এটি আপনারা নিশ্চিত করবেন। এখানে রিকশার জন্য আলাদা লেইন তৈরি করে দিয়েছি উল্লেখ করে মেয়র এসময় আরো বলেন, সেদিক দিয়ে রিকশাসহ অযান্ত্রিক যান চলবে। বাধাহীনভাবে অযান্ত্রিক যানগুলো এই লেন ব্যবহার করে চলতে পারবে। ফলে ট্রাক রাখতে পারবে না। এ বিষয়টি পুলিশ নিশ্চিত করবে। এসময় পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের প্রতিনিধি মেয়রকে জানান সাতরাস্তা হয়ে ফার্মগেটে যাওয়ার পথে যে রেলক্রসিংটি রয়েছে সেটিকে সরিয়ে রাস্তাটি সোজা করে দিলে যানজট অনেক কমে যাবে। জবাবে মেয়র বলেন, এই বিষয়ে রেলমন্ত্রীর সাথে আলাপ করে সিদ্বান্ত নেয়া হবে। এবং ডিএনসিসির প্রধান প্রৌকশলীকে বিষয়টি সার্ভে করে ডিজাইন করার নির্দেশ দেন মেয়র মোঃ আতিকুল ইসলাম। অভিযানে অন্যান্যের মধ্যে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সেলিম রেজা, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জোবায়দুর রহমান, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহ. আমিরুল ইসলাম, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমোডর এস এম শরিফ-উল ইসলাম, ২৪ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোঃ সফিউল্লা, ৩৫ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোক্তার সরদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
















