রাজপথে কঠোর কর্মসূচির বার্তা বিএনপির

শহিদুল্লাহ সবুজ, ঢাকা

আন্দোলনের মধ্য দিয়েই সরকারকে পরাজিত করতে বদ্ধ পরিকর বিএনপি। এ লক্ষ্যে ১ দফার দাবি আদায়ে আগামীতে রাজপথে আরো কঠোর কর্মসূচির বার্তা দিলো বিএনপি। রাজধানীর দুই প্রবেশ মুখে ভিন্ন সমাবেশে নেতারা বললেন- আমরা পথেই আছি। পদযাত্রা, রোডমার্চ, সমাবেশ করছি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে। এই আন্দোলন আরও তীব্র করতে হবে। একই হাসপাতালে চিকিৎসারত দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অবস্থা সংকটাপন্ন জানিয়ে তার সুচিকিৎসার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

আন্দোলন, আন্দোলন এবং আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এই সরকারকে পরাজিত করতে হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ‘আমরা তো বেশি কিছু চাই না। আমাদের চাওয়া আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব। যদি শোনেন তো ভালো, না হয় ফয়সালা হবে রাজপথে। অন্যদিকে, দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, সরকারের পতনের লক্ষ্যে আজ সারাদেশ ফঁসে ওঠেছে। আজকে বিএনপির সমাবেশে যে ঝড় উঠেছে; এই ঝড় যদি সচিবালয়ের দিকে রওনা দেয় তাহলে এ সরকার কি টিকে থাকতে পারবে?

সরকার পদত্যাগ, খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ এক দফা’ দাবিতে আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর উত্তরার ৮ নম্বর সেক্টরে ও যাত্রাবাড়ী শহীদ ফারুক রোডে আলাদা দুটি সমাবেশে বিএনপির নেতারা এসব কথা বলেন। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি এ সমাবেশের আয়োজন করে। উত্তরার সামবেশে সভাপতিত্বর করেন, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ফরহাদ হালিম। যাত্রা বাড়ির সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহবায়ক আব্দুস সালাম।

এর আগে উত্তর ও যাত্রাবাড়ির দুটি সমাবেশ স্থলেই শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর পরই রাজধানী ও আশপাশের এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে জড়ো হতে থাকে। এ সময় নেতাকর্মীরা খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে Ñমুক্তি মুক্তি মুক্তি চাই, খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই, খালেদা জিয়ার কিছু হলে জ¦লবে আগুন ঘরে ঘরে’ এমন মুহুর্র মুহুর্র শ্লোগান দেয়।

উত্তরার সমাবেশে মির্জা ফখরুল বলেন, অনেক সাংবাদিক ভাই আমাদের জিজ্ঞেস করেন, আপনাদের আন্দোলনে শেখ হাসিনা না সরলে কী করবেন। তিনি বলেন, সেটা তো হাসিনার দায়িত্ব উনি কী করবেন। আমাদের পরিষ্কার কথা, অবশ্যই তাকে পদত্যাগ করতে হবে। নির্দলীয় সরকারের ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে।

বিএনপির মহাসচিব আরো বলেন, আজকে সারা দেশে একটাই উচ্চারণ- শেখ হাসিনার পদত্যাগ। আমরা আর এই সরকারকে দেখতে চাই না। এটাকে কোনো সরকার বলে না। এরা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। যতই মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে হইহই করুক, মানুষ আর এই সরকারকে চায় না। মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছে।

খালেদা জিয়ার অবস্থা সংকটজনক’ জানিয়ে দ্রুত তাকে বিদেশে পাঠানোর আবারো দাবি জানিয়ে ফখরুল বলেন, আজকে খালেদা জিয়ার জীবন-মরণ সমস্যা, তখন তাকে আটকিয়ে রাখা হয়েছে। অথচ তিনি একবার নয় তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। এই ফ্যাসিস্ট সরকার তাকে বন্দি রেখে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে আমরা খুব পরিস্কার করে বলতে চাই, দেশনেত্রীর যদি সুচিকিৎসা না হয়, তাকে যদি বিদেশে পাঠানো না হয় চিকিৎসার জন্য আরো অবণতির দিকে যেতে পারে।

কারাবন্দিদের চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর নজির আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সব বন্দিকে চিকিৎসা দিতে হবে এবং চিকিৎসার জন্য যদি প্রয়োজন হয় তাকে বিদেশেও পাঠাতে হবে। বার বার খালেদা জিয়ার পরিবার থেকে, তার ডাক্তাররা এবং আমাদের দলের পক্ষ থেকে বলেছি যে, মানবিক কারণে তাকে চিকিৎসার স্বার্থে বিদেশে উন্নত চিকিতসা কেন্দ্রে পাঠানো হোক। তিনি বলেন, এরকম অনেক নজির আছে। আসম আবদুর রব সাহেবকে পাঠানো হয়েছিরো; জিয়াউর রহমান তাকে জার্মানি পাঠিয়েছিলেন কারাগার থেকে। আজকে যিনি জোর করে ক্ষমতা দখল করে আছেন শেখ হাসিনাকে তাকেও কেয়ারটেকার সরকারের সময়ে চিকিৎসার জন্য আমেরিকায় পাঠানো হয়েছিলো। আমরা সেই কথা ভুলে যাইনি।

বিএনপির মহাসচিবকে ঢাকায় ঢুকতে দেয়া হবে না বলে ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র যে বক্তব্য দিয়েছেন, এর জবাবে তাবিথ আউয়াল বলেন, আমরা সংসদে, গণভবনে ঢুকব, আপনাদের দেশছাড়া করব, সেই দিন আর বেশি দূরে নয়। সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাহউদ্দিন, গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক, কেন্দ্রীয় নেতা শামুসর রহমান শিমুল বিশ্বাস, মহানগর উত্তরের সদস্যসচিব আমিনুল হক সহ অনেকে।

অন্যদিকে, যাত্রাবড়ির সমাবেশে মির্জা আব্বাস বলেন, ১৫ বছরে অনেক কষ্ট সহ্য করেছি। এই জুলুম আর সইতে পারবো না। আমরা আজ জুলুমবাজদের বিরুদ্ধে রূখে দাঁড়িয়েছি। উপস্থিত কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা প্রস্ততি নিন। এমন আন্দোলন কর্মসূচি আসবে যাতে এই অবৈধ সরকারের ক্ষমতা তছনছ হয়ে যাবে। এই অত্যাচারী লুটেরা সরকারকে আমরা দেখতে চাই না।

এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির অপর সদস্য আব্দুল মঈন খান বলেন, সরকার জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না। গণতন্ত্র ফিরিয়ে দেয়ার জন্য সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে। অন্তরবর্তীকালীন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। গুলি করে, টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন থামানো যাবে না।

Facebook Comments Box