দায়িত্ব গ্রহণের ৪ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে সংবাদ সম্মেলনে মেয়র তাপস
যে সংস্থা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দিতে হিমশিম খেতো সে সংস্থা আজ স্বয়ংসম্পূর্ণ

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেছেন, দায়িত্বভার গ্রহণের প্রথম দিন হতেই কর্পোরেশনের সকল স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গাফিলতি, অনিয়ম, দুর্নীতি দূর করার মাধ্যমে সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমি শূন্য সহনশীলতা নীতি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে চলেছি। প্রশাসনিক সংস্কারের আওতায় এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। দায়িত্ব পালনে অবহেলা, গাফিলতি ও দুর্নীতির দায়ে বিগত ৪ বছরে বিভিন্ন স্তরের ৩৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে। রোববার নগর ভবনের মেয়র হানিফ মিলনায়তনে মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের দায়িত্বভার গ্রহণের ৪ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের অটল, অদম্য ও অনমনীয় কর্মোদ্যোগের ফলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে সুশাসন নিশ্চিত হয়েছে উল্লেখ করে মেয়র বলেন, এতে ঢাকাবাসীর আস্থা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে, যে সংস্থা একসময় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দিতে হিমশিম খেতো সে সংস্থা আজ স্বয়ংসম্পূর্ণ, আত্মনির্ভরশীল ও মর্যাদাপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হয়েছে।

মেয়র বলেন, জনবলের যে তীব্র সংকট ছিল তা উত্তরণে বিগত ৪ বছরে ভারী গাড়ির ১৪৩ জন চালক, ৬৬ জন উপ-সহকারী প্রকৌশলী, ৭৭ জন হিসাব সহকারী, ২৭ জন রেভিনিউ সুপারভাইজার, ৩১ জন পরিচ্ছন্ন পরিদর্শক, ২০ জন স্প্রেম্যান সুপারভাইজারসহ বিভিন্ন বিভাগে সর্বমোট ৮৭৯ জন জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং ২১৭ জনের নিয়োগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে mWরে বলেন, আমরা নিজস্ব অর্থায়নে ২০২০-২১ সালে ১২১.৮৫ কোটি, ২০২১-২২ সালে ৩০৯.৪৪ কোটি, ২০২২-২৩ সালে ৩৯০.১৬ কোটি এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৪০০ কোটি টাকার ঊর্ধে অন্তর্বর্তীকালীন বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র, খাল-নর্দমা-বক্স কালভার্ট হতে বর্জ্য অপসারণ, সড়ক, জলাবদ্ধতা নিরসনে অবকাঠামো, সামাজিক অনুষ্ঠান কেন্দ্র, গণশৌচাগার ইত্যাদি অনেক উদ্যোগ ও অবকাঠামো নির্মাণ, উন্নয়ন ও সংস্কার করেছি।

প্রতিটি ওয়ার্ডেই একটি করে কাঁচাবাজার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে জানিয়ে মেয়র বলেন, আমরা প্রতিটি ওয়ার্ডেই একটি করে কাঁচাবাজার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছি। বর্তমানে ৫টি নতুন কাঁচাবাজার নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে এবং ৪টি ওয়ার্ডে নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুটি কাঁচাবাজারের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ ও সংস্কার কাজ শেষ হয়েছে এবং দুটি কাঁচাবাজারের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ ও সংস্কার কাজের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জলজট ও জলাবদ্ধতা এই শহরের পুঞ্জিভূত সমস্যাগুলোর মধ্যে অন্যতম উল্লেখ করে মেয়র আরো বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেই তলিয়ে যেত এই শহরের প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা। এই সমস্যা নিরসনে ঢাকা দিক্ষণ সিটি কর্পোরেশন খাল, বক্স কালভার্ট ও নর্দমা হতে বাৎসরিক সূচি অনুযায়ী বর্জ্য ও পলি অপসারণ করে চলেছে। এছাড়াও জলাবদ্ধতা প্রবণ মোট ১৬১টি স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে এবং ২৫২ কোটি টাকা ব্যয়ে নিজস্ব অর্থায়নে ১০৯টি স্থানে জলাবদ্ধতা নিরসনে অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়ন করা হয়েছে। ২৬টি স্থানে অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে এবং বাকী ২৬টি স্থানে অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে শ্যামপুর বাণিজ্যিক এলাকা, মিডফোর্ড রোড, নটরডেম কলেজের সামনের সড়ক, বঙ্গভবনের দক্ষিণ ও পশ্চিম অংশের রাস্তা, বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে সড়ক, বাংলাদেশ সচিবালয়, লালবাগ রোড, আজিমপুর মোড়সহ অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা ও জলজট সমস্যার সমাধান হয়েছে। ফলে, জলাবদ্ধতা সমস্যা ৭০ শতাংশ হতে ১০ শতাংশে নেমে এসেছে।

তিনি বলেন, ওয়ার্ডভিত্তিক উন্নয়ন কার্যক্রম বেগবান করার লক্ষ্যে আমরা প্রতিটি ওয়ার্ডে সামাজিক অনুষ্ঠান কেন্দ্র, গণশৌচাগার ও কাঁচাবাজার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছি। বিগত ৪ বছরে ৩টি সামাজিক অনুষ্ঠান কেন্দ্রের সংস্কার সম্পন্ন হয়েছে ও ৬টি সামাজিক অনুষ্ঠান কেন্দ্র সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১৫টি ওয়ার্ডে নতুন সামাজিক অনুষ্ঠান কেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে এবং ৩৩টি ওয়ার্ডে নতুন সামাজিক অনুষ্ঠান কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মেয়র বলেন, কর্মজীবী মানুষ বিশেষত নারীদের সুবিধার্থে আমরা প্রতিটি ওয়ার্ডে ন্যূনতম একটি করে গণশৌচাগার নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছি। তারই ধারাবাহিকতায় বিগত ৪ বছরে ৩৬টি গণশৌচাগার নির্মাণ ও সংস্কার করা হয়েছে। এ সময়ে নিজস্ব অর্থায়নে ৩, ৮, ১২, ১৮, ১৯, ৩২ ও ৫৮ নম্বর ওয়ার্ডে ৭টি নতুন গণশৌচাগার নির্মাণ করা হয়েছে।

বঙ্গবাজার প্রসঙ্গে মেয়র তাপস বলেন, স্মরণকালের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বঙ্গবাজার কমপ্লেক্স পুড়ে গিয়েছিল। আমরা সেখানে নতুন বিপণি বিতান নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছি। বিগত ৪ বছরে বঙ্গবাজার পাইকারি নগর বিপণি বিতানসহ ৬টি বিপণি বিতান নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়েছে এবং নতুন ৩টি বিপণি বিতান নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ২টি বিপণি বিতানের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ ও সংস্কার কাজ সমাপ্ত হয়েছে, ৩টি বিপণি বিতানের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ ও সংস্কার কাজ চলমান রয়েছে এবং ৪টি বিপণি বিতানের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ ও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ইতোমধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক বাস্তবায়িত নানাবিধ উদ্যোগ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেতে শুরু করেছে জানিয়ে মেয়র আরো বলেন, গতবছরের অক্টোবরে জাতিসংঘের বসতি বিষয়ক সংস্থা ইউএন হ্যাবিটেট এসডিজি সিটিজ গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনকে ‘সিলভার সার্টিফিকেট’ সম্মাননায় ভূষিত করেছে। এছাড়াও গতবছরের সেপ্টেম্বরে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে অনুষ্ঠিত ‘ওয়ার্ল্ড সিটিজ সামিট মেয়রস ফোরাম ২০২৩’ এ আমাকে নেতৃত্ব শ্রেণিতে (Leadership Category) ‘সিউল স্মার্ট সিটি প্রাইজ ২০২৩’ এ ভূষিত করা হয়। এই অর্জন আমার ব্যক্তিগত নয়। সামগ্রিকভাবে এটি ঢাকাবাসীর অর্জন। সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্টানটির উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Facebook Comments Box