স্টাফ রিপোর্টার :
নয় দাবি আদায়ে এমপিওভূক্ত ৭৫ টি বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের মানববন্ধন ও র্যালী অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন ও র্যালী অনুষ্ঠিত হয়। এসময় শিক্ষক-কর্মচারীরা ৯ দফা দাবী তুলে ধরেন। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে,বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক শিক্ষার্থীদের জন্য জাতীয় বিশেষ শিক্ষা কারিকুলাম তৈরী। ২০২৫ সালের বর্ধিত বিশেষ সুবিধা ১০%-১৫% প্রদান। অর্থমন্ত্রণালয়ের জারীকৃত বিদ্যালয় সমূহের জন্য ৬০% বর্ধিত উৎসব ভাতা প্রদান। বিদ্যালয় সমুহের জন্য ৭.৫% বাড়ী ভাড়া ও ১৫% বাড়ী ভাড়া প্রদান। বিএসএড পাশ করা শিক্ষকদের প্রাপ্য ন্যায্য বেতন ভাতা প্রদান। পেনশন সুবিধা ও গ্র্যাচুইটি, পদোন্নতি, টাইম স্কেল, বেতন বৈষম্য দূরীকরন সহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা প্রদান। সিপিএফ এর উপর সরকারী নিয়মে লাভ প্রদান। বদলির সুবধা পদান ও এমপিওভূক্ত বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়সমূহের জাতীয়করন করতে হবে। এসময় শিক্ষক-কর্মচারীদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন, ঢাকার মালিবাগের কল্যাণী ইনক্লুসিভ স্কুলের প্রধান শিক্ষক জেবুন্নাহার বেগম, গেন্ডারিয়া বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুর রাজ্জাক, রমনা স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক মোঃ ওমর ফারুক, সুইড ল্যাবরেটরি স্কুলের শিক্ষক মিথিলা, খিলগাঁও স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক মোঃ সোহেল রানা প্রমুখ।

মানববন্ধনে শিক্ষক-কর্মচারীরা বলেন, আমরা সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধিনস্থ ও জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন কর্তৃক পরিচালিত এমপিওভূক্ত ভূক্ত ৭৫টি বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীবৃন্দ বছরের পর বছর সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের নিয়ে কাজ করছি। কিন্তু আমরা বারবার আমাদের দাবি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জানিয়ে আসলেও তারা কোন গুরুত্ব দিচ্ছে না। ফলে আমরা নিরুপায় হয়ে মানববন্ধন ও র্যালী করতে বাধ্য হয়েছি।
বক্তারা আরো বলেন, আমরা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী, অটিস্টিক, ডাউন সিন্ড্রোম ও সেরিব্রাল পালসি। এধরনের শিক্ষার্থী ৭৫টি বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়ে প্রায় ১৪ হাজার শিক্ষার্থীদের সেবা দিয়ে আসছি। এসকল শিক্ষার্থীদের জীবনমান উন্নয়নে প্রায় ১ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী প্রশিক্ষণ ও সেবা পদান করে যাচ্ছেন। শিক্ষকগণ উপযুক্ত প্রশিক্ষনদিয়ে প্রায় ১৫০-২০০ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পূনর্বাসিত করেছেন। এছাড়াও শিক্ষক-কর্মচারীদের আন্তরিক প্রচেষ্টায়অনেক শিক্ষার্থী স্পেশাল অলিম্পিকস এ অংশগ্রহণ করে স্বর্ণ পদক লাভ করে দেশের সম্মান বয়ে এনেছেন। কিন্তু আজ শিক্ষক-কর্মচারীগণ তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। ফলে আমাদের দাবি মেনে নিয়ে আমাদের স্বাচ্ছন্দে কাজ করার সুযোগ দেয়ার জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করছি। না হলে দাবি আদায়ে আমাদের কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবো।
















