বিরোধীদল হিসেবে সরকারের সব কাজের বিরোধিতা করা আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি নয় বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, আমরা একটি গঠনমূলক বিরোধীদলের ভূমিকা পালন করতে চাই। সরকারের যেসব উদ্যোগ জনস্বার্থে ও দেশের কল্যাণে হবে, সেসব কাজে আমরা সহযোগিতা করব। আর যেসব সিদ্ধান্ত জনস্বার্থবিরোধী হবে, সেসব বিষয়ে সরকারের ভুল-ত্রুটি তুলে ধরব, সমালোচনা করব এবং প্রয়োজন হলে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলব।
মঙ্গলবার রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন। বৈঠকে টেক্সটাইল খাতের প্রণোদনা, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ, এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে উত্তরণের পরবর্তী চ্যালেঞ্জ, কর ও শুল্ক এবং বিভিন্ন নীতিগত জটিলতা নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার ডা. শফিকুর রহমানের উদ্ধৃতি দিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, বিটিএমএর নেতারা তাঁদের খাতের বিভিন্ন সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেছেন। তাঁদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনা হয়েছে। ডা. শফিকুর রহমান টেক্সটাইল খাতের গুরুত্বপূর্ণ দিক বিশেষ করে রপ্তানিমুখী শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল নিশ্চিতকরণ, দেশীয় প্রাইমারি টেক্সটাইল শিল্পের সক্ষমতা সংরক্ষণ, স্থানীয় মূল্য সংযোজন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সুরক্ষা, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় ও সংরক্ষণ, সরকারি রাজস্ব সুরক্ষা, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার ও অবৈধ আমদানি প্রতিরোধসহ নানা বিষয়ে আলোকপাত করেছেন।
এ ধরনের সমন্বিত ও ভারসাম্যপূর্ণ নীতির মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রাইমারি টেক্সটাইল শিল্পকে টেকসইভাবে শক্তিশালী করা এবং দেশের রপ্তানি সক্ষমতা ও শিল্পভিত্তি আরও সুদৃঢ় করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি আরও জানিয়েছেন যে, দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এ খাতের স্বার্থে বিষয়গুলো জাতীয় সংসদে তুলে ধরার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, শিল্প ও উৎপাদন খাত বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। তৈরি পোশাকশিল্পের সঙ্গে টেক্সটাইল খাতের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। ফলে এ খাতের যৌক্তিক সমস্যাগুলো সমাধানে সরকার, বিরোধী দল ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। প্রেস ব্রিফিংয়ে বিটিএমএ’র ভাইস প্রেসিডেন্ট শফিকুল ইসলাম সরকার বলেন, বর্তমানে এ খাতে প্রায় ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ রয়েছে এবং বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ হিসেবে টেক্সটাইল খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে সরকারের সঙ্গে এসব সমস্যা নিয়ে আলোচনা করে আসছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে তারা একাধিকবার বৈঠক করেছেন এবং কিছু সমস্যা ইতোমধ্যে সমাধান হয়েছে। অন্য সমস্যাগুলো নিয়েও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। শফিকুল ইসলাম সরকার আরও বলেন, আজকের বৈঠকে বিশেষ করে প্রণোদনা, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ, এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের পরবর্তী চ্যালেঞ্জ, কর বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন নীতিগত জটিলতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে কিছুটা উন্নতি হলেও কয়েকটি কারখানা এখনও সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে বলে তারা জানিয়েছেন। এসব সমস্যা দ্রুত সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথাও তারা তুলে ধরেছেন। সবশেষে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সম্মানিত নেতৃবৃন্দকে আজকের বৈঠকে অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। বৈঠক শেষে বিটিএমএর নেতারা ডা. শফিকুর রহমান ও জামায়াতের নেতাদের ধন্যবাদ জানান। তাঁরা বলেন, বৈঠকে টেক্সটাইল খাতের বর্তমান পরিস্থিতি, বিনিয়োগ ও সমস্যাগুলো তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সহযোগিতায় সমস্যাগুলো পর্যায়ক্রমে সমাধান হবে এবং দেশের টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাকশিল্প আরও শক্তিশালী হবে বলে তাঁরা আশা প্রকাশ করেন। এসময় বিটিএমএ-এর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বিটিএমএ’র প্রেসিডেন্ট এবং আম্বার কটন মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব শওকত আজিজ রাসেল, বিটিএমএ-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং পূর্বানী ইয়ান্র্ ডাইং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিকুল ইসলাম সরকার, বিটিএমএ-এর পরিচালক এবং জালাল আহমেদ স্পিনিং মিলস লিমিটেডের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহিদ আলম, বিটিএমএ-এর সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং হোসেন ডাইং এন্ড প্রিন্টিং মিলস লিমিটেডের (ইউনিট-২) ব্যবস্থাপনা পরিচালক হোসেন মেহমুদ, বিটিএমএ-এর পরিচালক এবং সায়হাম কটন মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ প্রমূখ। ও জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য এবং ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর জনাব নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর জনাব মো. সেলিম উদ্দিন, মাইশা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক ভূঁইয়া প্রমুখ।
আমরা গঠনমূলক বিরোধীদলের ভূমিকা পালন করতে চাই
Facebook Comments Box
















