উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা শিল্পায়নকে আরো ত্বরান্বিত করবে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকার সারাদেশে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করছে, কারণ উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা শিল্পায়নকে ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

তিনি বলেন, আমরা রেল যোগাযোগ পুনরুজ্জীবিত ও নতুন নতুন রেলপথ স্থাপন এবং সেতু নির্মাণের পাশাপাশি ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নদীগুলো খনন করছি।

সোমবার সকালে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যার্থে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে আর্থিক অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করে তিনি এ কথা বলেন। গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী।

বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে অনুদানের চেক হস্তান্তর করেছে। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে তার মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস অনুদান গ্রহণ করেন।

পুরো বাংলাদেশেই তার সরকার ব্রিজ এবং উন্নত সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তুলে যোগাযোগের একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এসবের পাশাপাশি নদীগুলো ড্রেজিং করে নৌপথও আমরা সচল করেছি। আমাদের আগে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় বন্ধ করে দিয়েছিল। আমরা সেটা আবার নতুন করে চালুর পাশাপাশি নতুন নতুন রেল লাইনও করে দিচ্ছি। যার ফলে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থাও বাড়ছে।

তিনি বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং শিল্পায়নের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্যকে আমরা আরো গতিশীল করার জন্য বিরাট সুযোগ সৃষ্টি করে দিচ্ছি।

নিজস্ব অর্থায়নে স্বপ্নের পদ্মা সেতু নির্মাণের সাফল্যের উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের দেশেরই এক ব্যক্তির প্ররোচণায় বিশ্ব ব্যাংক যখন পদ্মা সেতুর অর্থায়ন বন্ধ করে দেয়, পাশাপাশি অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীরাও সরে দাঁড়ায়, তখন আমি ঘোষণা দিয়েছিলাম নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করব। তখন দেশের জনগণের পাশাপাশি আপনারাও অনেকে আমার পাশে এসে দাঁড়িয়ে সবধরনের সহযোগিতা করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেজন্য আমি আপনাদেরকে ধন্যবাদ জানাই।

দেশের জনগণই তার ‘সবচেয়ে বড় শক্তি’ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, তাদের সাহস এবং সহযোগিতা এবং তারা পাশে থাকাতে আমরা আমাদের নিজস্ব টাকায় এই পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের দক্ষিণাঞ্চলের বিশাল অঞ্চল যেটি দীর্ঘদিন অবহেলিত ছিল, সেখানে এখন শিল্পায়নের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এই অঞ্চলের মানুষের আর্থিক উন্নতি হবে। সেখানেও আপনাদের উৎপাদিত পণ্যের বাজারজাত করার একটি ক্ষেত্র তৈরি হবে। মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বাড়বে এবং এই অঞ্চলের ২১টি জেলার মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়ে যাবে।

প্রথমবার সরকারে আসার পর তার সরকার যমুনা নদীর ওপর বঙ্গবন্ধু বহুমুখী সেতু নির্মাণ করেছিল যেখানে বিদ্যুৎ, রেল এবং গ্যাস সংযোগও দেওয়া হয়। পদ্মা সেতুটাও সেভাবেই করা হয়েছে, মাল্টিপারপাস। সেখানেও গ্যাস, বিদ্যুৎ, রেল সংযোগের সঙ্গে অত্যাধুনিক ওয়াইফাই সুবিধাও থাকবে।

৪৫টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান মোট ৩০৪ কোটি ৪১ লাখ টাকার অনুদান দেয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সিলেট বিভাগে পরপর তিনবার বন্যা হলো। সেখানে যেমন ফসলের ক্ষতি হয়েছে তেমনি ঘর-বাড়ি, রাস্তা-ঘাটেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তেমনি পানি যখন নেমে যাচ্ছে তখন নেত্রকোণা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাটসহ বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
তিনি এ দেশের যেকোনো দুর্যোগ ও দুর্বিপাকে মানবিক সাহায্য নিয়ে এগিয়ে আসায় এবং মাসুষের পাশে দাঁড়ানোয় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধন্যবাদ জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা আমাদেরকে একটি স্বাধীন দেশ দিয়ে গিয়েছিলেন এবং এদেশে শোষিত বঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য তার সারা জীবন উৎসর্গ করেছিলেন বলেই আজ নিজেরাই আমাদের শিক্ষা-দীক্ষা, স্বাস্থ্য সেবা বা ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যবস্থা করতে পারছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি এলএনজি আমদানি করে শিল্প কলকারখানা চলমান রাখারও উদ্যোগ নিয়েছে।

করোনাকালীন তার সরকার যেমন সব জনগণের জন্য বিনামূল্যে ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা করেছে, তেমনি চলমান বিশ্ব মন্দার মধ্যে শিল্প কলকারখানা চলমান রাখতে বিভিন্নরকম আর্থিক প্রণোদণাও দিয়েছে। কোনোভাবেই যাতে অর্থনীতির গতি ব্যাহত না হয়ে পড়ে সেজন্য কৃষক, শ্রমিক, সাধারণ মানুষসহ সবাইকে সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। এরমধ্যেই আবার ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ শুরু হয়ে যাওয়ায় এর প্রভাবটাও অর্থনীতির ওপর পড়েছে। আবার এসেছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বন্যা।

Facebook Comments Box