কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা চলন্ত বাসে ডাকাতি ও ধর্ষণের শিকার নারী আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তার জবানবন্দি গ্রহণ করেন টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রুমি খাতুন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, জবানবন্দিতে ওই নারী জানিয়েছেন, ৬ জন ডাকাত তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। গলা চেপে ধরে তাকে মারধর করে তারা। তিনি ছাড়া আরও এক নারীকেও ওই বাসে নির্যাতন করা হয়েছে বলে জানান ওই নারী।
ঘটনার বর্ণনায় নির্যাতনের শিকার নারী বলেন, সেদিন রাত সাড়ে ১১টায় বাসটি সিরাজগঞ্জে একটি হোটেলে পৌঁছায়। হোটেল বিরতি শেষে রওনা হওয়ার ৫ মিনিট পর রাস্তা থেকে ২০ থেকে ২২ বছর বয়সী ৩ জন বাসে ওঠে। তারা জানায়, সামনে তাদের আরও লোক আছে, তারাও বাসে উঠবে। কিছু দূর যাওয়ার পর আরও ৪ জন বাসে ওঠে। তাদের মধ্য একজন বলে, ‘আমার লোক আছে আরও।’ একটু পর আরও ৬ জন ওঠে।
এভাবে মোট ১৩ জন বাসে ওঠে। তারা বাসের পেছনের দিকে বসে। একজন তার (ভুক্তভোগী নারী) পাশে বসতে চায়। কিন্তু সুপারভাইজার তাকে উঠিয়ে দেন। পরে কাছের একটি সিটে বসে সে। এরপর সিগারেট ধরায় এবং ধোঁয়া ছাড়তে থাকে। তাকে নিষেধ করলে আমাকে গালাগাল করে। বঙ্গবন্ধু সেতু পার হওয়ার পর তাদের মধ্যে ৩ জন চালকের পাশের বনেটে গিয়ে বসে জানায়, তারা সামনে নেমে যাবে।
জবানবন্দিতে তিনি আরও বলেন, এরই এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে থেকে একজন চালককে উঠিয়ে গাড়ি চালানো শুরু করে। পরে বাসের চালক ও সুপারভাইজারকে তারা পেছনে নিয়ে আসে। এরপর প্রথমে পুরুষ যাত্রীদের হাত, মুখ ও চোখ বাধা হয়। এরপর মেয়েদের বেঁধে ফেলা হয়। মুঠোফোন, গয়না, টাকা- সব লুট করে নেয় তারা। এ সময় অনেককে মারধর করা হয়।
এক পর্যায়ে ডাকাত দলের ছয়জন তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের সময় আমার হাত ও চোখের বাঁধন খুলে যায়। এক পর্যায়ে বিভিন্ন জায়গায় গাড়ির গতি কমতে থাকে এবং ডাকাতরাও নামতে থাকে। এক সময় হঠাৎ ডাকাত দলের চালক গাড়ির জানালা দিয়ে নেমে যায়। ফলে গাড়ি খাদে পড়ে যায়। প্রথমে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন আসেন উদ্ধার করতে। যাত্রীরাও জানালা দিয়ে বের হয়ে আসেন। পরে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশের কাছে তারা ডাকাতির ঘটনা বলেন। তাকে প্রথমে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে গতকাল রাতে তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
জবানবন্দি গ্রহণের পর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বাদল কুমার চন্দের আদালতে তাকে হাজির করা হয়। আদালত তাকে চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানোর আদেশ দেন।
মেডিকেল বোর্ডের প্রধান শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজের গাইনি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রেহেনা পারভীন বলেন, তিন সদস্যের মেডিকেল টিম পরীক্ষা করেছে। কিছু সাইন পজিটিভ আছে। সাইন অব স্ট্রাগল রয়েছে। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, ধর্ষণ করা হয়েছে। তার সোয়াব সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।














